8 নম্বর ধরনের বিকাশের ধাপ
Enneagram ৮ নম্বর ধরনের বিকাশের ধাপ: যেখানে জোর দাবি হয়ে যায়
জোর নয়টি ধাপেই আট নম্বর ধরনের হাতে থাকে; বদলায় হাতটা খোলা, নাকি মুঠো। ফলাফলে আপনি একটা অবস্থা দেখেছেন, আর অবস্থা মানে নয়টির মধ্যে তিনটি ধাপ: কোনটায় দাঁড়িয়ে, কোন দিকে সরছেন, ফলাফল তা বলে না। এখানে নয়টি ধাপ পরপর, অবস্থার মাঝের দুটি সীমানা আর প্রশ্ন, যা দিয়ে সীমানাটা নিজের মধ্যে খোঁজা যায়। নয়টিতেই আপনি আট নম্বর ধরন: বদলায় ধরন নয়, জোর নিয়ে আপনি কী করেন।
01
নয়টি ধাপ
1 নম্বর ধাপ
হিসাব ছাড়া দেওয়া জোর
আট নম্বর ধরনের পাহারা দেওয়ার কিছু নেই, আর জোর যায় সেখানে, যেখানে দরকার, হিসাব ছাড়া আর ফেরতের আশা ছাড়া। সে আড়াল দেয় তাদের, যারা তার কাছে কিছু ধারে না আর কিছু দেবেও না। চিহ্ন: রাস্তায় মার খাওয়া অচেনা লোকের পাশে সে দাঁড়ায়, আর পরে নামটাও জিজ্ঞেস করে না।
2 নম্বর ধাপ
নিজের কাজ নিজের হাতে
জোর এখন নিজের কাছে রাখা। আট নম্বর ধরন জানে নিজেরটা সে টেনে নিতে পারবে, আর অপেক্ষা করে না কেউ সেটা মেনে নিক, তাই প্রমাণ করার কিছু নেই। ঘরে কে বড় সে প্রশ্ন তার ওঠে না। চিহ্ন: নতুন দলে ঢুকে সে প্রথম মাসে কারো সঙ্গে গলা তোলে না, আর তবু সবাই জানে সে কে।
3 নম্বর ধাপ
সবার বোঝার নিচে কাঁধ
জোর সামনে আসে আর সবার কাজ কাঁধে নেয়। আট নম্বর ধরন প্রথমে ওঠে, কারণ কাউকে উঠতে হয়, আর এমনভাবে করে যাতে কাজ চলে, তাকে দেখা হয় বলে নয়। অন্যের হার সে নিজের বলে নেয়, অন্যের জিত নাম ধরে ফিরিয়ে দেয়। চিহ্ন: বন্যার রাতে সে প্রথম নৌকায় ওঠে আর শেষ নৌকায় ফেরে, আর সকালের কাগজে তার নাম নেই।
4 নম্বর ধাপ
চাওয়ার আগেই চাপ
জোর আর মুক্ত থাকে না। আট নম্বর ধরনের মনে হয় তার চাপ ছাড়া কিছুই নড়বে না, আর সে চাপ দেয় এমন কাজে, যা নিজেই চলত। অপেক্ষা করতে এই ধাপ থেকে সে আর রাজি নয়, কিছুতেই। চিহ্ন: দোকানে লাইন একটু ধীর হলে সে কাউন্টারের ওপারে গিয়ে নিজেই জিনিসটা তোলে।
5 নম্বর ধাপ
আইনের মতো নিজের কথা
জোর অন্যদের দেখতে হবে। আট নম্বর ধরন দাঁড়িয়ে থাকে খুঁটি হয়ে, যার উপর সবাই ভর দেয়, আর দাবি করে তার পেছনে সবাই দাঁড়াক: তার সই ছাড়া অন্যের ঠিক গোনা হয় না। চিহ্ন: পারিবারিক সিদ্ধান্ত তার ফোনে পৌঁছনোর আগে কেউ নেয় না, আর তার হ্যাঁ না এলে সেটা হয় না।
6 নম্বর ধাপ
যুক্তির বদলে হুমকি
জোর ছাড় দাবি করে আর পায় ভয় দিয়ে। আট নম্বর ধরন অন্যের সঙ্গে তাই করে, যা নিজের বেলায় হতে দিত না: বুঝিয়ে দেয় বিপক্ষে গেলে কী হবে, আর অপেক্ষা করে পিছু হটার। তর্কে আসে একবার দেখাও তো, চুপচাপ গলায়। চিহ্ন: ভাড়াটে দেরি করলে সে বলে না কী হবে, শুধু জানায়, ছেলেটা কোন স্কুলে পড়ে তা সে জানে।
7 নম্বর ধাপ
সব নিয়ম পায়ের নিচে
জোর আর কিছু দাবি করে না, নিজেকে বাঁচায়। যেকোনো সীমা আট নম্বর ধরনের কাছে চ্যালেঞ্জ, আর সে সেটা ভাঙে কার তা দেখার আগেই। নিজের সই করা চুক্তিও তাকে আর বাঁধে না, আর সেটা সে অন্য পক্ষকে মুখের উপর বলে। চিহ্ন: সালিশের রায় মানবে বলেছিল, রায় বিপক্ষে গেলে বলে, সালিশ কে।
8 নম্বর ধাপ
সাধ্যের বাইরে ঝাঁপ
জোরের রক্ষা বদলে যায় অজেয় হওয়ার বাজিতে। আট নম্বর ধরন হাত দেয় তাতে, যা সাধ্যের বাইরে, কারণ সীমার ভাবনাই তার কাছে হার মানা, আর সীমা সে মানে না। ডাক্তার আর উকিলের সাবধানবাণী তার কাছে আক্রমণের সঙ্গে এক ঝুড়িতে। চিহ্ন: বুকের ব্যথা নিয়ে সে ছাদে ওঠে মিস্ত্রি না ডেকে, কারণ ডাকা মানে হার।
9 নম্বর ধাপ
হার মানার বদলে ভাঙা
জোর হার মানা থেকে নিজেকে বাঁচায় শেষ উপায়ে: ভেঙে। আট নম্বর ধরন ভাঙে যা মানেনি, আর সঙ্গে নিজেরটাও, কেউ তাকে থামানোর আগেই। আঘাত পড়ে শেষ মানুষগুলোর উপর, যারা ধরে রাখতে চাইছিল, কারণ ধরে রাখা আর বন্দি করা তার কাছে এক। চিহ্ন: তিরিশ বছরে গড়া দোকান সে এক সন্ধ্যায় বন্ধ করে, যাতে কেউ কেড়ে না নেয়।
02
নামা কীভাবে শুরু হয়
- সামর্থ্যেমূল জিনিসটা নিজের ইচ্ছায় দেওয়া হয়প্রথম সীমানা: ইচ্ছার জিনিস দায় হয়ে ওঠে
- মাঝামাঝিতেমূল জিনিসটা অন্যের কাছে দাবি হয়ে ওঠেদ্বিতীয় সীমানা: ভয়টা সত্যি হয়
- কবলেমূল জিনিসটা বাঁচাতে গিয়ে ভাঙা হয়
তিন আর চার নম্বর ধাপের সীমানা যায় একটা বোধের উপর দিয়ে: কাজ আর নিজে চলে না। সামর্থ্যে জোর লাগানো হয় সেখানে, যেখানে তাকে ছাড়া হয় না, আর বাকিটা ঘটে তার হাত ছাড়াই। চার নম্বর ধাপে আসে বোধ যে চাপ ছাড়া কিছুই নড়বে না, আর চাপ বাধ্যতামূলক হয়: যে কাজ তাকে ছাড়া হয়ে গেল, সেটা তার নিজের নয়। প্রথম পা বাইরে থেকে দেখা যায় না: আট নম্বর ধরন নেয় সেটা, যা দিয়ে দিতে পারত, আর সেদিন থেকে কিছুই দেয় না।
ছয় আর সাত নম্বর ধাপের সীমানা সেখানে, যেখানে সত্যি হয় সেই আশঙ্কা, যা আট নম্বর ধরন পুরো মাঝের অবস্থা জুড়ে বয়ে বেড়িয়েছে: মানুষ তার বিরুদ্ধে, আর তারা পাল্টা দেবে। ছয় নম্বর ধাপে সে এর অপেক্ষায় ছিল আর হুমকি দিয়ে আগেভাগে সামলাত। সাত নম্বরে অপেক্ষার কিছু নেই: যাদের সে ভয় দেখাত তারা মুখ ফিরিয়েছে, আর সে এটাকে পড়ে ফল নয়, প্রমাণ হিসেবে। যা আর ফেরে না, তা একটাই: পাশে আর এমন কেউ নেই, যে নিজের ইচ্ছায় তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে। থাকে অধীন আর চলে যাওয়া লোক, আর যে সঙ্গীকে ধরে রাখতে হয় না, সে এখান থেকে দেখা যায় না।
03
কী আবার তুলে আনে
- সামর্থ্যেদ্বিতীয় ফেরা: হালকা লাগা এক জিনিস নয়
- মাঝামাঝিতেপ্রথম ফেরা: যে কাজ কেবল সীমানার এই দিক থেকে করা যায়
- কবলে
কবল থেকে মাঝামাঝিতে আট নম্বর ধরনকে ফেরায় একটা কাজ, যা কেবল এখানেই সম্ভব, কারণ কেবল এখানেই তার কোনো সীমা বাকি নেই: অন্যের না মেনে নেওয়া, যার পেছনে কোনো জোর দাঁড়িয়ে নেই। হেরে যাওয়া নয়, এমন মানুষের কথার সামনে থেমে যাওয়া, যাকে সে উড়িয়ে দিতে পারত। সাত আর আট নম্বর ধাপে এটা হারের মতো দেখায়, আর ঠিক সেই জন্যই কাজ করে: নিজের ইচ্ছায় মেনে নেওয়া সীমা প্রথমবার অন্যের হাত নয়, তার নিজের সিদ্ধান্ত, আর এই জায়গা থেকে জোর আবার কিছু দাবি করতে পারে, শুধু নিজেকে বাঁচানো নয়।
সামর্থ্যে ফেরা হালকা লাগা থেকে আলাদা এখানে: হালকা পাঁচ নম্বর ধাপেও লাগে, একটা জিত হলেই। চিহ্ন অন্য: কাজ চলে তার চাপ ছাড়া, আর তাতে সে ছোট হয় না। আট নম্বর ধরন এমন কাজ ছেড়ে দেয়, যা সবার চেয়ে ভালো টেনে নিত, আর যাচাই করে না কেমন সামলাল। যতক্ষণ এতে চেষ্টা লাগে, অবস্থা মাঝামাঝি। যখন চেষ্টা লাগে না, সীমানা পেরোনো হয়েছে।
04
আপনি এখন কোথায়
ইচ্ছায়, নাকি করতেই হয় বলে
ভয়টা কি সত্যি হয়ে গেছে
ভালো সপ্তাহের পরে আর খারাপ সপ্তাহের পরে কোথায় ফেরেন
ফলাফল অবস্থা দেখায়, ধাপ নয়
যখন আপনি কাজে প্রথমে হাত দেন, সেটা কি এই জন্য যে এমনটাই ঠিক করেছেন, নাকি এই জন্য যে নইলে কাজটা নড়বে না? শেষ যে কাজ আপনি অন্যকে দিয়ে আর যাচাই করেননি, সেটা মনে করুন: সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়লে সামর্থ্যের সীমানা দূরে; স্মৃতি হাতড়াতে হলে আপনি সেটা পেরিয়ে এসেছেন। পরের প্রশ্ন মাঝামাঝি আর কবলের মধ্যে। আপনার পাশে কি এমন কেউ আছে, যে আপনার দিকে দাঁড়িয়ে, অথচ আপনি একবারও বুঝিয়ে দেননি না দাঁড়ালে কী হবে? যদি যে-ই এখনো সঙ্গে আছে, সে হয় আপনার উপর নির্ভর করে, নয় আগেই মুখ ফিরিয়েছে, আশঙ্কাটা ঘটনা হয়ে গেছে, আর সেটা অন্য অবস্থা। আর অভ্যস্ত ধাপ। যে সপ্তাহে সব হল, তার পরে আপনি কোথায় ফেরেন: দেওয়ায়, নাকি আরও নেওয়ায়? যে সপ্তাহে সব ভেঙে গেল, তার পরে আরও জোরে চাপ দেন, নাকি নিজের লোকের কাছে ফেরেন? দুবারই যে ধাপে ফেরেন, সেটাই আপনার।
05
প্রশ্ন
একটা ধাপ উঠতে কত সময় লাগে?
দুটো সৎ উত্তর। এখনকার ধাপ বদলায় দিনে: একটা কঠিন কথা, একটা ছুটি, একটা হারানো আপনাকে এক ধাপ সরায়, আর আপনি সেটা টের পান। অভ্যস্ত ধাপ, যেখানে ফিরে আসেন, বদলায় বছরের হিসাবে, কারণ সেটা মেজাজ নয়, নিজের জোরের সঙ্গে চলার ধরন, আর আট নম্বর ধরনের সেটা হাতের অভ্যাসে বসে গেছে। দিন গুনবেন না, গুনুন দিনগুলোর পরে কোথায় আসেন।
কবলে থাকা আট নম্বর ধরন কি অন্য ধরন হয়ে যায়?
না। কবলে আট নম্বর ধরন হয় সাত, আট বা নয় নম্বর ধাপের আট, পাঁচ নয়, সাত নয়। কোনো ধাপ কলটা বদলায় না, বদলায় শুধু তার সঙ্গে কী করা হয়। ধরন হল নয়টি ধাপে নিজের জোর নিয়ে আপনি যা করেন, আর নিচের তিনটিতে তার সঙ্গে সেই একই কাজ, কেবল এখন বাকি সব কিছুর দামে তাকে বাঁচানো হয়।
পাঁচ নম্বর ধাপে আট নম্বর ধরনের সব হয়ে যায়। উপরে ওঠার দরকার কী?
কারণ পাঁচ নম্বরে হয় কেবল সেটা, যার পেছনে সে নিজে দাঁড়িয়ে। যা তাকে ছাড়া চলতে পারত, তা হয় চলে না, নয় তার চাপে চলে আর তার এমন জোর খরচ করে, যা বাইরে থেকে দেখা যায় না। উপরে জোর সব জায়গায় হাজির থাকার দায় থেকে ছাড়া পায়: কাজ চলে, আর আট নম্বর ধরন নিজেকে খরচ করে যেখানে সত্যিই তাকে ছাড়া হয় না। এটা দয়ার কথা নয়, খরচের।
বাড়িতে দুই নম্বর ধাপে আর কাজে ছয় নম্বরে থাকা যায়?
থাকা যায়, অভ্যস্ত ধাপ তবু একটা। পরিবেশ আপনাকে এক-দুই ধাপ সরায়, আর যে কাজে দুর্গ ধরে রাখতে হয়, সেটা প্রায় রোজ নিচে সরায়। তবে ভারকেন্দ্র যাচাই হয় তা দিয়ে, চাপ না থাকলে আপনি কোথায় ফেরেন: বাড়িতে যদি দেন আর কাজে হুমকি দেন, নিজেকে জিজ্ঞেস করুন প্রথম ছুটির দিনে কোথায় গিয়ে পড়েন।
ফলাফলের অবস্থাটাই কি ধাপ?
না, অবস্থা মানে তিনটি ধাপ। ব্যক্তিত্ব পরীক্ষা গোনে আজ তিনটি অবস্থার কোনটা আপনার বেলায় ভারী, আর অবস্থার ভেতরের ধাপ প্রশ্নমালা দিয়ে আলাদা করা যায় না: চার আর ছয় নম্বরের তফাত অন্য উত্তরে নয়, একই উত্তরের অন্য জোরে। ধাপ খুঁজে পাওয়া যায় এখানে লেখা সীমানা দিয়ে: জোর অন্যের কাছে কী দাবি করে আর কী বাঁচায়।