2 নম্বর ধরনের বিকাশের ধাপ
Enneagram ২ নম্বর ধরনের বিকাশের ধাপ: আপনার যত্ন বদলে কী চায়
দুই নম্বর ধরনের পাশাপাশি দুটি ধাপের মধ্যে তফাত একটাই: যত্ন বদলে কী আশা করে। ফলাফলের অবস্থা বলে আপনি এখন কোন তিন ধাপের ভেতরে, কোন দিকে সরছেন তা বলে না। নিচে নয়টি ধাপ পরপর, দুটি সীমানা, যা দিয়ে নামা আর ওঠা হয়, আর তিনটি প্রশ্ন, যা দিয়ে নিজেরটা দেখা যায়। নয়টির প্রতিটিতে আপনি দুই নম্বর ধরনই থাকেন; বদলায় ধরন নয়, যত্ন নিয়ে সে কী করে।
01
নয়টি ধাপ
1 নম্বর ধাপ
নাম ছাড়া যত্ন
দুই নম্বর ধরন যত্ন দিয়ে দেয় আর তাতে নিজের নাম লিখে রাখে না। কিছু ফিরে আসার দরকার নেই, কেউ খেয়াল করারও দরকার নেই: কাজটা যে মুহূর্তে হল, সেই মুহূর্তে খাতা বন্ধ। বাইরে চিহ্ন: পাঠানো টাকা পৌঁছেছে কি না সে জিজ্ঞেস করে না, আর কে পাঠিয়েছে তা যে পেল সে জানেও না।
2 নম্বর ধাপ
খোলা চোখের উষ্ণতা
উষ্ণতা যায় মানুষটার দিকে, তার দরকারের দিকে নয়: দুই নম্বর ধরনের আগ্রহ মানুষটা নিজে, তার অসুবিধার দিক সমেত। বদলে এখনো কিছু চাওয়া হয় না, তবে যত্ন এখন প্রাপককে মুখ দেখে চেনে আর তাই ঠিক জায়গায় লাগে। চিহ্ন: বন্ধুর খারাপ অভ্যাসটা সে জানে, আর সেটা সারানোর চেষ্টা না করেই বন্ধুর পাশে থাকে।
3 নম্বর ধাপ
দরকারের মাপে সাহায্য
যত্ন কাজ হয়ে ওঠে: দুই নম্বর ধরন ঠিক ততটুকু করে, যতটুকু পরিস্থিতি চায়, তারপর সরে দাঁড়ায়। মাপকাঠি এখানে অন্যের দরকার, নিজের দেওয়ার ইচ্ছা নয়। চিহ্ন: হাসপাতালের সপ্তাহে সে রোজ ছিল, ছুটির পরে একদিনও ফোন করেনি, কারণ যার জন্য যাওয়া, সে এখন ভালো আছে।
4 নম্বর ধাপ
আগাম দেওয়া উষ্ণতা
মোড়: যত্ন ডাকের আগেই ঘর থেকে বেরোয়। দুই নম্বর ধরন মানুষের কাছে যায় কেউ ডাকার আগে, আর যে উষ্ণতা কাল উপলক্ষের অপেক্ষায় ছিল, আজ আগাম দেওয়া হয়, যাতে তাকে নেওয়া হয়। বদলে চাওয়া এখনো নেই, আশা আছে। চিহ্ন: নতুন সহকর্মীর জন্মদিন সে দ্বিতীয় সপ্তাহেই মনে রাখে, আর উপহার দেয় সবার সামনে।
5 নম্বর ধাপ
অপরিহার্য হওয়ার দাবি
যত্ন জায়গা দাবি করতে শুরু করে: দুই নম্বর ধরনের এখন পাশে থাকা যথেষ্ট নয়, সবচেয়ে কাছে থাকা চাই, সেই মানুষ হওয়া চাই, যাকে ছাড়া চলে না। দূরত্ব সে নিজেই কমায়, জিজ্ঞেস না করে, আর অন্যের ব্যাপারে ঢোকা তার অধিকার। চিহ্ন: বন্ধুর ডাক্তারের সঙ্গে সে নিজেই কথা বলে নেয়, বন্ধু জানার আগেই।
6 নম্বর ধাপ
যোগ্যতার মাপে যত্ন
যত্ন এমন জিনিস হয়ে যায়, যা তার কাছে অর্জন করতে হয়। দুই নম্বর ধরন নিজেই ঠিক করে কে তার মনোযোগের যোগ্য, আর যারা নয় তাদের বুঝিয়ে দেয় যে তারা কম পড়ে গেছে: তাদের সে ঠান্ডায় রাখে, যে ঠান্ডা নিজে সইতে পারত না। চিহ্ন: সবার পাতে খাবার দেয়, একজনের পাতে দেয় না, আর জানতে চাইলে বলে, খেয়াল করিনি।
7 নম্বর ধাপ
না-এর পরেও যত্ন
সীমানা পার: মানুষ সরে যায়, আর দুই নম্বর ধরন যত্ন বাড়িয়ে দেয়। যে বলেছে থামতে, তার জন্য সে করেই চলে, আর মানাটার ব্যাখ্যা দেয়: সে নিজের ভালো বোঝে না। যত্ন এখন নিজের প্রাপকের হাত থেকেই নিজেকে বাঁচায়। চিহ্ন: তার নম্বর ব্লক হলে সে অন্য নম্বর থেকে ফোন করে, শুধু জানতে যে খেয়েছে কি না।
8 নম্বর ধাপ
জোর করে আদায় ঋণ
যত্ন খোলাখুলি মানুষের উপর অধিকার হিসেবে হাজির হয়: সে ঋণী, আর ঋণী তার কাছে। দুই নম্বর ধরন আর কৃতজ্ঞতার অপেক্ষা করে না, আদায় করে, আর যেখানে দেয় না, সেখানে চাপ, কান্না আর পরিচিতদের কাজে লাগায়। চিহ্ন: পারিবারিক অনুষ্ঠানে সে গুনে গুনে বলে দেয়, কার জন্য কোন বছরে কী করেছিল।
9 নম্বর ধাপ
চাওয়ার বদলে ভেঙে পড়া
যত্ন নিজের দিকে ফেরে একমাত্র যে পথ বাকি ছিল সেই পথে: দুই নম্বর ধরন এমনভাবে ভেঙে পড়ে, যাতে এবার তার যত্ন নিতে হয়। যা চাওয়া যেত না, তা এখন না দিয়ে উপায় নেই, আর সে একটা কথাও না বলে সেটা পায়। চিহ্ন: ওষুধের বাক্স সে রান্নাঘরের টেবিলে সাজিয়ে রাখে, যেখানে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে চোখে পড়ে।
02
নামা কীভাবে শুরু হয়
- সামর্থ্যেমূল জিনিসটা নিজের ইচ্ছায় দেওয়া হয়প্রথম সীমানা: ইচ্ছার জিনিস দায় হয়ে ওঠে
- মাঝামাঝিতেমূল জিনিসটা অন্যের কাছে দাবি হয়ে ওঠেদ্বিতীয় সীমানা: ভয়টা সত্যি হয়
- কবলেমূল জিনিসটা বাঁচাতে গিয়ে ভাঙা হয়
তিন আর চার নম্বর ধাপের সীমানা একটা জায়গায়: যত্ন আর দরকারে ঘর থেকে বেরোয় না, বেরোয় সাড়ার খোঁজে। উপরে দুই নম্বর ধরন মানুষের কাছে যায়, কারণ তার কিছু লাগবে। নিচে যায়, কারণ নিজের লাগবে, যাতে তাকে নেওয়া হয়: শর্তটার নাম এখনো বলা হয়নি, তবে কাজ করছে। প্রথম পা প্রায় দেখা যায় না: যে চায়নি তার জন্য কাজটা করা হল, আর সেই মুহূর্তেই সে দেখে নেয়, কীভাবে নেওয়া হল। কাজের পরে মুখের দিকে ওই তাকানোটাই সীমানা পেরোনো: উষ্ণতা এখন একটা প্রস্তাব, যার দাম আছে।
ছয় আর সাত নম্বর ধাপের সীমানা সেখানে, যেখানে দুই নম্বর ধরনের ভয়টা ঘটনা হয়ে যায়: মানুষ তার যত্ন থেকে সরে যাচ্ছে। সাহায্যে মানা নয়, সরে যাওয়া: যত্নটা চাপ দিতে শুরু করেছে। মাঝামাঝিতে এটা না দেখলেও চলে, সাত নম্বর ধাপে দেখা যায়, আর সে জবাব দেয় একমাত্র যে পথ জানে সেই পথে: আরও বেশি যত্ন নেয়। এই অবস্থার জন্য যা আর ফেরে না: পাশে এমন কেউ নেই, যে এমনিই থাকে। যারা আছে, তারা ধরে রাখা আছে তাদের জন্য যা করা হয়েছে তা দিয়ে, দুই নম্বর ধরন সেটা জানে, আর তাই থামতে পারে না।
03
কী আবার তুলে আনে
- সামর্থ্যেদ্বিতীয় ফেরা: হালকা লাগা এক জিনিস নয়
- মাঝামাঝিতেপ্রথম ফেরা: যে কাজ কেবল সীমানার এই দিক থেকে করা যায়
- কবলে
কবল থেকে মাঝামাঝিতে দুই নম্বর ধরন ফেরে একটা কাজ দিয়ে, যা কেবল নিচ থেকেই করা যায়: যে চলে যাচ্ছে তাকে যেতে দেওয়া, পেছনে শেষ একটা উপকার না ছুড়ে। মাঝামাঝিতে মানুষের সরে যাওয়ার কারণ নেই, তাই এটা শেখার কেউ নেই। নিচে সরে যাওয়াটা ঘটে গেছে, বাছাই একটাই বাকি: হাতে কিছু নিয়ে পিছু নেওয়া, নাকি খালি হাতে জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা। খালি হাতে দাঁড়িয়ে থাকাটাই উপরে ওঠা। তারপর যা আসে তা ওঠার মতো লাগে না: চারপাশ চুপ, আর কারো জন্য কিছু করার নেই। এটাই মাঝামাঝি, যেখানে সে ফিরেছে।
সামর্থ্যে ফেরা হালকা লাগা থেকে আলাদা এখানে: দুই নম্বর ধরন ফল যাচাই করা ছেড়ে দেয়। মাঝামাঝিতে হালকা লাগে, যখন মানুষ ফিরে এল, ফোন করল, নিল। সামর্থ্যে যত্ন তার হাত থেকে চলে যায়, আর সে পেছন ফিরে তাকায় না। তফাত ধরা পড়ে একটা জায়গায়: সে এমন ঘরে বসে আছে, যেখানে তাকে কারো দরকার নেই, আর ঘর থেকে বেরোচ্ছে না। নিজেকে আটকে রেখে নয়, বেরোনোর কারণ নেই বলে।
04
আপনি এখন কোথায়
ইচ্ছায়, নাকি করতেই হয় বলে
ভয়টা কি সত্যি হয়ে গেছে
ভালো সপ্তাহের পরে আর খারাপ সপ্তাহের পরে কোথায় ফেরেন
ফলাফল অবস্থা দেখায়, ধাপ নয়
এই সপ্তাহে আপনি কারো জন্য যা করেছেন, তার দরকারটা আগে থেকেই জানতেন, নাকি তার মুখ থেকে শুনেছেন? কাজটা নয়, কাজের পরের সেকেন্ডটা দেখুন: তার মুখের দিকে তাকিয়েছিলেন, আর সেখানে কী খুঁজছিলেন? কিছু না খুঁজে থাকলে যত্ন মুক্ত হয়ে গেছে, আপনি সামর্থ্যে। কী জবাব আসে তার অপেক্ষায় থাকলে যত্ন গেছে সাড়ার খোঁজে, আর সেটা মাঝামাঝিতে, কাজটা যত সহজেই হোক। যাদের যত্ন নিয়েছেন, তাদের কেউ কি আপনার কাছ থেকে সরে গেছে, আর তারপর আপনি কী করেছেন? জায়গা দিয়ে থাকলে সীমানা পেরোনো হয়নি। হাতে কিছু নিয়ে পিছু নিয়ে থাকলে সেটা বাড়তি উষ্ণতা নয়, সেটা সাত নম্বর ধাপ, ভেতর থেকে যেমনই লাগুক। কেমন দেখিয়েছে তা নয়, হাতে কী ছিল তার হিসাব দিন। আর অভ্যস্ত ধাপ: ভালো সপ্তাহের পরে আপনি কোথায় নামেন, কারো কাছে, তার জন্য একটা কাজ নিয়ে, নাকি এমন জায়গায়, যেখানে আপনাকে কারো দরকার নেই আর তাতে কিছু হয় না? খারাপ সপ্তাহের পরে কার কাছে যান, আর যান কিছু চাইতে, নাকি কিছু দিতে? দুবারই যে ধাপে ফেরেন সেটাই আপনার নিজের; সিঁড়ি সেটাই মাপে, বছরের সেরা দিনটা নয়।
05
প্রশ্ন
একটা ধাপ উঠতে কতদিন লাগে?
এখানে দুটো ঘড়ি একসঙ্গে চলে। যে ধাপে আপনি ফিরে আসেন, সেটা বদলায় বছরের হিসাবে: এটা একটা অভ্যাস, যত্ন কোথায় যায় আর বদলে কী আশা করে তার অভ্যাস। আজ যে ধাপে আছেন, সেটা সন্ধ্যার মধ্যে বদলাতে পারে: একটা মানা, যার পিছু আপনি নেননি, একটা সন্ধ্যা এমন ঘরে, যেখানে আপনাকে কারো দরকার নেই। সিঁড়ি মাপে ধীর ঘড়িটা, আর অনুশীলন হয় দ্রুতটায়।
কবলে থাকা দুই নম্বর ধরন কি অন্য ধরন হয়ে যেতে পারে?
না। নিচের ধাপগুলো দুই নম্বর ধরনের সবচেয়ে খারাপ সংস্করণ, অন্য ধরন নয়। নামার সময় যত্ন হারিয়ে যায় না, দাবিতে বদলে যায়, আর যত্নের দাবি এখনো যত্নই। অন্য ধরন বলে ভুল হয় আট নম্বর ধাপের কড়া ভাবটাকে, যা সাহায্যের মতো একেবারেই দেখায় না। এটা সাহায্যই, যে সাহায্য আদায় করে। ধরন হল যত্ন নিয়ে যা করা হয়, আর সেটা বদলায় না।
দুই নম্বর ধরন কতটা সাহায্য করে, তা দিয়ে কি ধাপ বোঝা যায়?
না। তিন নম্বর ধাপে আর সাত নম্বর ধাপে সাহায্যের পরিমাণ মোটামুটি এক, আর এক নম্বর ধাপে সেটা পাঁচ নম্বরের চেয়ে বেশিও হয়। বদলায় সাহায্য বদলে কী চায়: কিছু না, সাড়া, জায়গা, ঋণ। একই মানুষের জন্য একই কাজ করা দুজন পাঁচ ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, আর তফাতটা দেখা যায় কেবল কাজের পরে কী ঘটে তা দিয়ে।
এক নম্বর ধাপে দুই নম্বর ধরন কি সাহায্য করা ছেড়ে দেয়?
না, সিঁড়ির উপরের দিক নিয়ে এই ভুলটা বেশি হয়। এক নম্বর ধাপে দুই নম্বর ধরন পাঁচ নম্বরের চেয়ে কম দেয় না। তফাত এই যে কিছু ফিরে আসার কথা নেই, তাই সম্পর্ক ধরে রাখতে দিয়ে যেতে হয় না। উপরে সাহায্য কম বার আসে, ঠিক জায়গায় লাগে, আর শেষ হলে শেষ হয়। মাঝামাঝিতে সাহায্য শেষ হয় না, কারণ থামা মানে মানুষটাকে হারানো।