6 নম্বর ধরনের বিকাশের ধাপ
Enneagram ৬ নম্বর ধরনের বিকাশের ধাপ: আপনার সিদ্ধান্তে সই কার
ফলাফলের অবস্থা সিঁড়ির এক-তৃতীয়াংশ, ধাপ নয়। একটা অবস্থার ভেতরে তিনটি ধাপ, আর সেগুলো আলাদা হয় ছয় নম্বর ধরন কতটা যাচাই করে তাতে নয়, কীসের জন্য করে তাতে: যাচাই তার হাতিয়ার, নাকি সে যাচাইয়ের হাতিয়ার। এখানে নয়টি ধাপ, দুটি সীমানা, আর তিনটি প্রশ্ন, যা দিয়ে আপনি নিজেরটা পাবেন। নয়টিতেই আপনি ছয় নম্বর ধরন: নিচে নামায় অন্য ধরন নয়, সেই ছয়ই, যার ধরার মতো কেউ নেই।
01
নয়টি ধাপ
1 নম্বর ধাপ
জামিন ছাড়া ভরসা
ভরসা শুরু হয় নিজের থেকে: ছয় নম্বর ধরন সিদ্ধান্ত নেয় নিজের বিচারে আর অপেক্ষা করে না কেউ তাতে সই করুক। যাচাই সে ছাড়ে না, তবে যাচাই আর পা ফেলার শর্ত নয়। বাইরে দেখা যায় যা নেই তা দিয়ে: মত বলার আগে সে ঘরের দিকে তাকায় না। চিহ্ন: সভায় সে প্রথম মত দেয়, বড়কর্তা কী ভাবছে তা জানার আগেই।
2 নম্বর ধাপ
দুই দিকে সমান ভরসা
ভরসা আগাম দেওয়া হয়: ছয় নম্বর ধরন মানুষকে বিশ্বাস করে সে তা অর্জন করার আগেই, আর নিজে ঠিক ততটাই নির্ভরযোগ্য, যতটা সে অন্যের উপর ভরসা রাখে। দুই দিকেই ভার সমান। চিহ্ন: প্রায় অচেনা লোককে সে টাকা ধার দেয় কাগজ ছাড়া, আর টাকা ফেরত আসে।
3 নম্বর ধাপ
সবার কাজে দেওয়া কাঁধ
ভরসা কাজে খাটানো হয়, মানুষে নয়: ছয় নম্বর ধরন বেছে নেয় কীসের জন্য খাটবে, আর সেটা নিজের কাঁধে বয়, একঘেয়ে অংশটা সমেত, যার জন্য কেউ ধন্যবাদ দেয় না। বাইরে দেখা যায় এভাবে: তার কাছে জিনিস চলে, কথা লেখা থাকে, সময়সীমার তারিখ থাকে। চিহ্ন: দলের অনুষ্ঠানে সে চেয়ার গুনে রাখে আর শেষে আলো নেভায়।
4 নম্বর ধাপ
জামিনদারের খোঁজ
ভরসা বাইরে চলে যায়: নিজের বিচারে আর কুলোয় না, আর ছয় নম্বর ধরন খোঁজে কে বা কী তার জামিন দেবে। কাজ সে আগের মতোই করে, তবে এখন শুনতে হয় যে ঠিক করা হয়েছে। এটাই মোড়। চিহ্ন: কেনার আগে সে তিনজনের মত নেয়, তারপর সেটাই কেনে, যেটা প্রথমে পছন্দ হয়েছিল।
5 নম্বর ধাপ
শর্ত রেখে সায়
ভরসা ধারে দেওয়া হয়, সুদ সমেত: কিছুতে ঢোকার আগে ছয় নম্বর ধরন নিশ্চয়তা চায়, আর সায় দেয় একটা শর্ত রেখে, যাতে পিছু হটার জায়গা থাকে। ভূমিকা তবু মজবুত: সে দুর্গ ধরে রাখে। চিহ্ন: দলের সিদ্ধান্তে সে হ্যাঁ বলে, আর পরে আলাদা করে জানিয়ে রাখে, আমি কিন্তু বলেছিলাম।
6 নম্বর ধাপ
হুকুমে আনুগত্য
ভরসা দাবি করা হয় শপথের মতো: ছয় নম্বর ধরন মানুষকে নিজের আর পরের দলে ভাগ করে আর নিজের দলকে যাচাই করে এক প্রশ্নে: আমাদের সঙ্গে, না ওদের? অন্যের সঙ্গে সে তাই করে, যা নিজের বেলায় ভয় পায়: দরকারের সময় খুঁটি সরিয়ে নেয়। চিহ্ন: বন্ধু কঠিন সময়ে ফোন করলে সে ধরে না, দেখে বন্ধু একা পারে কি না।
7 নম্বর ধাপ
চলে যাওয়া খুঁটি আঁকড়ানো
ভরসা আর দেওয়া হয় না, ভিক্ষা করা হয়: ছয় নম্বর ধরন আঁকড়ে ধরে যে কেউ আশ্রয়ের কথা বলে, আর দাম দেয় নিজের বিচার পুরোটা দিয়ে। ভুলটা মানা হয়েছে, তবে ভুল হিসেবে নয়, নিজের উপর রায় হিসেবে। চিহ্ন: যে বলে আমি সব সামলে দেব, তাকে সে ব্যাংকের কাগজ দিয়ে দেয়, একবার না পড়েই।
8 নম্বর ধাপ
প্রতিটি মুখে শত্রু
ভরসা আর নেই, তার জায়গা নেয় উল্টোটা: পাশে যে-ই থাকুক, সে চক্রান্তের লোক, সাহায্য করতে যারা এসেছে তারাও। সাহায্য পড়া হয় ফাঁদ হিসেবে। সম্পর্কের ইতিহাস পেছন থেকে নতুন করে লেখা হয়: কালকের সঙ্গী শুরু থেকেই জড়িত। চিহ্ন: সাহায্য করতে আসা বন্ধুর ব্যাগটা সে আগে দেখে নেয়, তারপর দরজা খোলে।
9 নম্বর ধাপ
শেষ খুঁটি নিজেই ভাঙা
আঘাতের অপেক্ষা শেষ হয় এভাবে যে ছয় নম্বর ধরন আঘাতটা নিজেই নিজেকে দেয়: শেষ সুতোটা ছেঁড়ে, কারণ ঘটে যাওয়া ভয় অপেক্ষায় থাকা ভয়ের চেয়ে হালকা। ভরসা রাখার কেউ নেই, তাই হারানোর কিছু নেই। চিহ্ন: শেষ যে বন্ধু এখনো ফোন করে, তাকে সে ব্লক করে, যাতে ফোন না আসার অপেক্ষাটা ফুরোয়।
02
নামা কীভাবে শুরু হয়
- সামর্থ্যেমূল জিনিসটা নিজের ইচ্ছায় দেওয়া হয়প্রথম সীমানা: ইচ্ছার জিনিস দায় হয়ে ওঠে
- মাঝামাঝিতেমূল জিনিসটা অন্যের কাছে দাবি হয়ে ওঠেদ্বিতীয় সীমানা: ভয়টা সত্যি হয়
- কবলেমূল জিনিসটা বাঁচাতে গিয়ে ভাঙা হয়
প্রথম সীমানা সেখানে, যেখানে আমি ঠিক তো প্রশ্নটা আর ঘটনাকে করা হয় না, মানুষকে করা হয়। তিন নম্বর ধাপ পর্যন্ত ঘটনার উত্তর প্রশ্নটা বন্ধ করে। সীমানার ওপারে ঘটনা আগের মতোই যাচাই হয়, তবে প্রশ্ন বন্ধ করে কেবল কারো মাথা নাড়া। এটাই আর মুক্ত থাকে না: নিজের বিচারের নিচে সই। আগে সই করত নিজের হাত, এখন নিতে হয় তার কাছে, যে আগে ঠিক ছিল। প্রথম পা ছোট: সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেছে, আর ছয় নম্বর ধরন যায় যাচাই করতে নয়, সই করাতে। বদলায় সিদ্ধান্ত নয়, সেটা কার।
দ্বিতীয় সীমানা সেখানে, যেখানে ভয়টা সত্যি হয়, আর সবচেয়ে খারাপ চেহারায়। পুরো মাঝের অবস্থা জুড়ে ছয় নম্বর ধরন আনুগত্যের যাচাই চালিয়েছে: দাম বাড়লে কে থাকবে। প্রতিটি যাচাইয়ের দাম একজন সঙ্গী। ছয় নম্বর ধাপের পরে হিসাব আসে: খুঁটি নেই, আর সেটা ভেঙে পড়েছে বলে নয়, ছয় নম্বর ধরন নিজেই সরিয়েছে বলে, এক যাচাইয়ের পর আরেক। নিজের কাজ নিরাপত্তা কেড়ে নিয়েছে। যা আর ফেরে না, তা বিচারকের আসন: বিচার করার আর কেউ নেই, আর বিচার ভেতরের দিকে ঘোরে, রায় তৈরি নিয়ে।
03
কী আবার তুলে আনে
- সামর্থ্যেদ্বিতীয় ফেরা: হালকা লাগা এক জিনিস নয়
- মাঝামাঝিতেপ্রথম ফেরা: যে কাজ কেবল সীমানার এই দিক থেকে করা যায়
- কবলে
নিচ থেকে একটা কাজ করা যায়, যা উপরে নেই, আর সেখান থেকেই ফেরার পথ শুরু। কেবল কবল থেকে ছয় নম্বর ধরন আলাদা করতে পারে আমাকে ছেড়ে গেছে আর আমি কেটে দিয়েছি: কেবল এখান থেকে দ্বিতীয়টা সত্যি বলে দেখা যায়। একে কাজ বলা, রায় নয়, সেটাই প্রথম পা: কাজ ফেরানো যায়, রায় যায় না। ফেরানো একটাই: কেটে দেওয়া একজনের কাছে ফিরে যাওয়া যাচাই ছাড়া। মাঝামাঝি শুরু হয় প্রথম সঙ্গী থেকে, যাকে প্রমাণ ছাড়া নেওয়া হল।
সামর্থ্যে ফেরা আর ছেড়ে দেওয়া এক জিনিস নয়। মাঝামাঝিতে ছাড়ে সবসময়: আবার একজন জামিনদার পাওয়া গেছে, আর সিদ্ধান্ত তার সঙ্গে সই করা হয়েছে। শান্তিটা আসল, তবে ধার করা। সামর্থ্যকে আলাদা করে সেই সিদ্ধান্ত, যা কারো সই ছাড়া দাঁড়িয়ে থাকে, ছয় নম্বর ধরনের নিজের সই ছাড়া; শান্তি তখন না-ও থাকতে পারে, পা ফেলা আছে। যদি হালকা লেগেছে আর বাছাইটা কারো ভেতর দিয়ে চালানোর অভ্যাস ফিরে এসেছে, সেটা মাঝামাঝি: সিদ্ধান্তের নিচের সইটা তার নয়।
04
আপনি এখন কোথায়
ইচ্ছায়, নাকি করতেই হয় বলে
ভয়টা কি সত্যি হয়ে গেছে
ভালো সপ্তাহের পরে আর খারাপ সপ্তাহের পরে কোথায় ফেরেন
ফলাফল অবস্থা দেখায়, ধাপ নয়
শেষ যে সিদ্ধান্ত আপনি নিজে নিয়েছেন, সেটা নিন। কখন সেটা আপনার হল: যে মুহূর্তে নিলেন, নাকি যে মুহূর্তে কেউ সায় দিল? আর সায় না এলে সেই দিনই একই কাজ করতেন? এই সীমানার এপারে সামর্থ্য, ওপারে মাঝামাঝি। এবার গুনুন এখন আপনার পাশে কে আছে, এক বছর আগে কে ছিল তার পাশে রেখে। যারা নেই, তাদের কতজন নিজে গেছে, আর কতজনকে আপনি কেটে দিয়েছেন এমন এক যাচাইয়ের পরে, যার কথা তারা জানত না? আজ যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে একা থাকেন, মানুষগুলো সরাল কে: পরিস্থিতি, নাকি আপনার যাচাই? দ্বিতীয় উত্তরের মানে কবলের সীমানা পেছনে। আর অভ্যস্ত ধাপ। যে সপ্তাহে সব টিকে গেল, তার পরে আপনি কোথায় ফেরেন: নিজের বিচারে, নাকি তার খোঁজে, যে সই করবে? যে সপ্তাহে কিছু একটা ধোঁকা দিল, তার পরে কোথায়: যাচাইয়ে, নাকি দোষারোপে? যে ধাপে ফেরেন সেটাই আপনার ভারকেন্দ্র, যেটায় ছিটকে পড়েছেন সেটা নয়।
05
প্রশ্ন
একটা ধাপ উঠতে কত সময় লাগে?
দুটো ঘড়ি একসঙ্গে চলে। আজ যে ধাপে আছেন, সেটা সন্ধ্যার মধ্যে বদলাতে পারে: অন্যের সই ছাড়া একটা সিদ্ধান্ত এক ধাপ উপরে, অন্যের আনুগত্যের একটা যাচাই এক ধাপ নিচে। যে ধাপে ফিরে আসেন, সেটা বদলায় বছরের হিসাবে, কারণ সেটা হাজারটা এমন দিন দিয়ে গড়া। সৎ ঘড়িটা ধীর: একটা সাহসী দিন ভারকেন্দ্র সরায় না, নিজের সিদ্ধান্তের এক বছর সরায়।
কবলে থাকা ছয় নম্বর ধরন কি অন্য ধরন হয়ে যায়?
না। আট নম্বর ধাপে ছয় নম্বর ধরনকে দূর থেকে আট নম্বর ধরনের মতো দেখায়, কারণ দুজনেই চড়াও হয়, তবে ছয়ের চড়াও হওয়া হল হুমকির খোঁজ, যা শেষে হুমকি পেয়েছে। কল সেই একই, তার ভরসা ফুরিয়ে গেছে। ধাপ বদলায় উত্তরের ধরন, প্রশ্ন নয়। ছয় নম্বর ধরনের প্রশ্ন নয়টি ধাপে একটাই: কার উপর ভর দেব। উপরে সেটা মুক্তভাবে করা হয়, নিচে সবার বিরুদ্ধে।
যাচাই কি সব ধাপেই থাকে? তাহলে বদলায় কী?
যাচাইয়ের পরিমাণ যতটা ভাবা হয় তার চেয়ে কম বদলায়। বদলায় সেটা কীসের জন্য। সামর্থ্যে ছয় নম্বর ধরন যাচাই করে কাজ করার জন্য, আর উত্তর প্রশ্ন বন্ধ করে। মাঝামাঝিতে যাচাই করে যাতে তাকে বলা হয়, আর প্রশ্ন বন্ধ করে উত্তর নয়, মানুষ। কবলে যাচাই করে যা আগে থেকেই জানে তা পাকা করতে। হাতিয়ার একটা, কাজ তিনটা, আর ধাপ মাপে কাজটা।
একজন ভরসার মানুষ পেয়ে আমি শান্ত হয়েছি। আমি কি উপরে উঠেছি?
হতে পারে, আর এমনও হতে পারে যে আপনি মাঝামাঝির মাঝখানে এসেছেন, যেখানে জামিনদার থাকে। যাচাই: মনে মনে মানুষটাকে সরিয়ে নিন আর শেষ সিদ্ধান্তটা দেখুন। সেটা যদি তাকে ছাড়া দাঁড়িয়ে থাকে, শান্তিটা আপনার, আপনি সামর্থ্যে। যদি তাকে ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া বলে গোনা না হয়, শান্তিটা ধার করা, আর সেটা পাঁচ নম্বর ধাপ: বাইরে মজবুত, ভেতরে ফাঁকা।
ভয়ের উল্টো দিকে ছোটা ছয় নম্বর ধরন কি একই সিঁড়ি দিয়ে নামে?
একই সিঁড়ি, নিচের ধাপগুলো আয়নায় উল্টো। যেখানে ভয় থেকে সরা ছয় সাত নম্বর ধাপে আঁকড়ে ধরে, ভয়ের দিকে ছোটা ছয় ঝাঁপায়; যেখানে একজন আশ্রয় ভিক্ষা করে, আরেকজন ঘরের সবচেয়ে বড় লোককে খোঁচায়। চাল একটাই: ভরসা ফুরিয়েছে, তার জায়গায় কিছু বসানো হচ্ছে। ধাপ পড়া হয় ভরসার কী হল তা দিয়ে, মানুষ কোন দিকে ছোটে তা দিয়ে নয়।