9 নম্বর ধরনের বিকাশের ধাপ
Enneagram ৯ নম্বর ধরনের বিকাশের ধাপ: শান্তি দেওয়া থেকে শান্তি কেনা পর্যন্ত
নয় নম্বর ধরনের নয়টি ধাপে শান্তির পরিমাণ বদলায় না, বদলায় তার মালিক: উপরে সে শান্তি দেয়, মাঝে চারপাশের কাছে চায়, নিচে বাস্তব থেকে বাঁচায়। ফলাফলের অবস্থা বলে আপনি কোন তিন ভাগে, ধাপ আর দিক বলে না। এখানে নয়টি ধাপ পরপর, দুটি সীমানা আর তিনটি প্রশ্ন নিজেরটা খুঁজে নিতে। একটা জিনিস বদলায় না: আপনি নয় নম্বর ধরনই থাকেন, সিঁড়ি বদলায় অবস্থা, ধরন নয়।
01
নয়টি ধাপ
1 নম্বর ধাপ
বিলিয়ে দেওয়া শান্তি
নয় নম্বর ধরন শান্তি দিয়ে দেয় তাতে নিজেকে খরচ না করে: কথার মধ্যে সে পুরোপুরি আছে, অন্যকেও শোনে, নিজেরটাও, আর কোনোটা অন্যটাকে চাপা দেয় না। হাজির থাকা এখানে একটা কাজ, অন্যের অনুরোধের মাঝের বিরতি নয়। চিহ্ন: পারিবারিক টেবিলে জমির ভাগের কথাটা সে-ই তোলে, আর তোলার পরে কেউ উঠে যায় না।
2 নম্বর ধাপ
চেষ্টা ছাড়া হাজির থাকা
যা আসে, নয় নম্বর ধরন তা নেয় আগে থেকে বিচার না করে, আর এটা এখনো ছাড় নয়: নিজেরটা তার জায়গায় আছে, শুধু অন্যেরটার সঙ্গে জায়গার জন্য লড়ে না। শান্তি বিলোনো হয় বাতাসের মতো, সবার জন্য কুলিয়ে যায়। চিহ্ন: বাসে পাশের অচেনা লোক তাকে নিজের বিয়ের গল্প বলে ফেলে, আর নেমে গিয়ে নিজেই অবাক হয়।
3 নম্বর ধাপ
দুই পক্ষকে মেলানো
নয় নম্বর ধরন অন্যের কাছে যায় তার যা আছে তা নিয়ে: যারা একে অপরকে শোনে না তাদের জোড়ে, আর এক পক্ষের অভিমান অন্য পক্ষের ভাষায় বোঝায়। শান্তি দেওয়া হয় এখন চেষ্টা করে, তবে চেষ্টাটা মুক্ত, কারো কাছে বিল নেই। চিহ্ন: দুই ভাইয়ের ঝগড়ায় সে দুজনকে আলাদা ফোন করে, আর পরের সপ্তাহে তারা এক টেবিলে।
4 নম্বর ধাপ
আগেভাগে সায়
মোড়: শান্তি আর সেই জিনিস থাকে না, যা নয় নম্বর ধরন নিয়ে আসে, হয়ে যায় সেই জিনিস, যা সে পরিবেশের কাছে আশা করে। পরিবেশ যেন না কাঁপে, তাই সে বাইরে থেকে মানিয়ে নেয়, নিজের মতের আগেই সায় দিয়ে। চিহ্ন: রেস্তোরাঁয় সে খাবার বাছে সবার পরে, আর বাছে সেটাই, যা কেউ একজন আগে নিয়েছে।
5 নম্বর ধাপ
আধা মনে হাজিরা
নয় নম্বর ধরন কাজে থাকে, তবে কাজের ভেতরে নয়: শরীর সভায়, মন অন্য কিছুতে। শান্তি দাবি হয় সায় দিয়ে নয়, না-থাকা দিয়ে: যেখানে সে পুরোটা নেই, সেখানে আঘাত করার কেউ নেই। ভূমিকা এখানে চাহিদা ছাড়া মানুষ, আর সেটা সবার সুবিধার। চিহ্ন: সভায় সে শেষ সারিতে বসে, আর ভোট হলে হাত তোলে যেদিকে বেশি হাত।
6 নম্বর ধাপ
যোগাযোগের বদলে চুপ
শান্তি এখন অন্যের কাছ থেকে নেওয়া হয় চুপচাপ জোরে: নয় নম্বর ধরন যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় আর পাশের মানুষকে জবাব ছাড়া রেখে দেয়, তার সঙ্গে তাই করে, যা নিজে সইতে পারত না। সমস্যাটা নেই বলে ঘোষণা, তর্ক করার কেউ নেই। চিহ্ন: সঙ্গী তিন দিন ধরে জানতে চাইছে কী হয়েছে, আর সে টিভির শব্দ বাড়িয়ে দেয়।
7 নম্বর ধাপ
সত্যির দামে শান্তি
সীমানা পেরোনো: যা নয় নম্বর ধরন এড়াচ্ছিল, তা ঘরে ঢুকেছে, আর সে জবাব দেয় ঘটনাকেই অস্বীকার করে। ঋণ, ছাদের ফুটো, মানুষের চলে যাওয়া, সবই এখনো সময় হয়নি; শান্তি এখন বাস্তব থেকে বাঁচানো, আর তাতে ভাঙে যা সে আগলাচ্ছিল। চিহ্ন: বিদ্যুৎ কাটার নোটিশ ফ্রিজের নিচে গোঁজা, অন্ধকারে সে বলে, লাইনে গোলমাল।
8 নম্বর ধাপ
ফাঁকা ঘরের শান্তি
কাজ, হ্যাঁ আর না, সব চলে যেমন চলছিল, আর ভেতরে কেউ নেই: ঘটনা পাশ দিয়ে যায় স্টেশনের ঘোষণার মতো, শোনা যায়, পৌঁছায় না। শান্তি চূড়ান্তভাবে রক্ষিত, কারণ রক্ষার আর কিছু নেই। চিহ্ন: মেয়ের বিয়ের তারিখ সে তিনবার শুনে তিনবার ভুলে যায়, আর তাতে তার কিছু হয় না।
9 নম্বর ধাপ
নিজের জীবন ছেড়ে যাওয়া
শেষ মোড়: নয় নম্বর ধরন ছাড়ে তর্ক নয়, সম্পর্ক নয়, নিজেকে অংশগ্রহণকারী হিসেবে। সে মিলিয়ে যাওয়া বাছে না, সে সেই মানুষ থাকা বন্ধ করে যে বাছে, আর যে শান্তির জন্য সব করা হল, তা পায় একটা ফাঁকা জায়গা। চিহ্ন: খাবার আসে, সে খায়, থালা রয়ে যায় বিছানার পাশে, আর দিনটা কে কাটাল তা বলার কেউ নেই।
02
নামা কীভাবে শুরু হয়
- সামর্থ্যেমূল জিনিসটা নিজের ইচ্ছায় দেওয়া হয়প্রথম সীমানা: ইচ্ছার জিনিস দায় হয়ে ওঠে
- মাঝামাঝিতেমূল জিনিসটা অন্যের কাছে দাবি হয়ে ওঠেদ্বিতীয় সীমানা: ভয়টা সত্যি হয়
- কবলেমূল জিনিসটা বাঁচাতে গিয়ে ভাঙা হয়
প্রথম সীমানা সেখানে, যেখানে মানিয়ে নেওয়া দিক বদলায়। উপরে নয় নম্বর ধরন মানিয়ে নেয় ভেতর থেকে: অন্যকে শোনে আর জবাব দেয় নিজের জায়গা থেকে। ওপারে মানিয়ে নেওয়া বাইরে থেকে: কথায় সায়, ভেতরে কিছু ঠিক হওয়ার আগেই, আর যে শান্তি সে আনত, এখন সেটা তার পাওনা। প্রথম পা প্রায় দেখা যায় না: কী চাও প্রশ্নটা শুনে সে একটু বেশিক্ষণ চুপ থাকে, তারপর প্রশ্নটাই ফিরিয়ে দেয়। এরপর শান্তি অন্যের কাছে দাবি হয়: লোকের কাছে, যেন চাপ না দেয়, দিনের কাছে, যেন খোঁচা না থাকে।
দ্বিতীয় সীমানা যায় সেই ভয়ের উপর দিয়ে, যাকে মাঝের ধাপগুলো দূরে রেখেছিল। নয় নম্বর ধরন ফেলে রাখছিল কাজ নয়, কাজের মানের মুখোমুখি হওয়া, আর ছয় নম্বর ধাপে চুপ দিয়ে ধরে রাখত। ওপারে ফেলে রাখা আর চলে না: বাস্তব নিজে আসে, সময়সীমা হয়ে, ব্যাংকের চিঠি হয়ে, আর দাবি করে এখনই হিসাব। ভয় সত্যি হয় ঠিক যে চেহারায় তার অপেক্ষা ছিল। নিচের অবস্থা হারায় নিজে বিপদঘণ্টা বাজানোর ক্ষমতা: সাত নম্বর ধাপ থেকে তা বাজায় শুধু বাইরের লোক, যাদের সে ছয়ে জবাব ছাড়া রেখেছিল।
03
কী আবার তুলে আনে
- সামর্থ্যেদ্বিতীয় ফেরা: হালকা লাগা এক জিনিস নয়
- মাঝামাঝিতেপ্রথম ফেরা: যে কাজ কেবল সীমানার এই দিক থেকে করা যায়
- কবলে
কবল থেকে নয় নম্বর ধরনকে ফেরায় একটা কাজ, যা উপরে পাওয়া যায় না: মুখে আর নাম ধরে মেনে নেওয়া যে সমস্যাটা আছে। মাঝামাঝিতে মানার কিছু নেই, সেখানে সমস্যা জরুরি নয়। নিচ থেকে এটাই একমাত্র: সমাধান নয়, করা নয়, বলা: হ্যাঁ, এটা এমন, আর এটা আমার। যখন নয় নম্বর ধরন বিলটাকে নিজের বলে, সে ছয় নম্বর ধাপে: চুপ শেষ। তারপর আসে সব, যা দিয়ে মাঝামাঝি চলে, বিরক্তি সমেত, আর সেটা তার পক্ষে: বিরক্ত মানুষ হাজির থাকে।
সামর্থ্যে ফেরা হালকা লাগা থেকে আলাদা একটা চিহ্নে, আর সেটা কেমন লাগছে তাতে নয়। নয় নম্বর ধরনের হালকা লাগে যখন চারপাশ সমান হয়ে গেছে, আর সেটা মাঝামাঝি: শান্তি এসেছে বাইরে থেকে। উপর শুরু হয় যখন সে কথার মধ্যে নিজেরটা নিয়ে আসে, আগে না জেনে সেটা বাকিদের সুবিধার কি না, আর অসুবিধার হলেও থেকে যায়। যতক্ষণ সায় মতের আগে যায়, ধাপ চার নম্বর, মেজাজ যেমনই হোক। যখন মত সায়ের আগে যায় আর ছেদ পড়ে না, সেটা তিন নম্বর।
04
আপনি এখন কোথায়
ইচ্ছায়, নাকি করতেই হয় বলে
ভয়টা কি সত্যি হয়ে গেছে
ভালো সপ্তাহের পরে আর খারাপ সপ্তাহের পরে কোথায় ফেরেন
ফলাফল অবস্থা দেখায়, ধাপ নয়
শেষ ছাড়টা মনে করুন। ছেড়ে দিয়েছিলেন কারণ অন্যকে শুনেছেন আর নিজেরটা আপনার কাছেই রয়ে গেছে, নাকি কারণ অমত করলে সন্ধ্যাটা ভারী হত? প্রথমটায় শান্তি আপনি দিয়েছেন, সেটা সামর্থ্যে। দ্বিতীয়টায় কিনেছেন, আর দামটা ছিল আপনার, সেটা মাঝামাঝিতে। চিহ্ন: ছাড়ের মুহূর্তে আপনি জানতেন কী চান? যা আপনি ছুঁচ্ছিলেন না, সেটা কি নিজেই এসে গেছে? আসতে পারে নয়, এসে গেছে: মেয়াদ ফুরিয়েছে, মানুষটা চলে গেছে, চিঠিটা আপনার হয়ে অন্য কেউ খুলেছে। যদি সেটা এখনো দূরে আর কখন কাছে যাবেন তা আপনি ঠিক করছেন, আপনি মাঝামাঝিতে, যতই ফেলে রাখুন। যদি সেটা এখানেই, আর আপনি বলছেন কিছু হচ্ছে না, সীমানা পেছনে, সেটা কবল। আর অভ্যস্ত ধাপ। যে সপ্তাহে সব মিলে গেল, তার পরে আপনি কোথায় ফেরেন: যে কথায় আপনার একটা মত আছে সেখানে, নাকি যে চুপে কেউ জিজ্ঞেস করে না সেখানে? যে সপ্তাহে সব উল্টো গেল, তার পরে: বিরক্তিতে, যা অন্তত কিছু বলে, নাকি সমান গলার সব ঠিক আছে-তে, যার পেছনে আপনাকে শোনা যায় না? ধাপ সেরা সপ্তাহ নয়, খারাপটাও নয়, সেটা যেখানে দুটো থেকেই আসেন।
05
প্রশ্ন
একটা ধাপ উঠতে কত সময় লাগে?
দুটো উত্তর, দুটোই সত্যি। যে ধাপে নয় নম্বর ধরন থাকে, অভ্যস্তটা, বদলায় বছরের হিসাবে: ভারকেন্দ্র সরে ধীরে, কারণ সেটা দাঁড়িয়ে আছে দিনে হাজারটা ছোট ছাড়ের উপর। যে ধাপে সে এখন দাঁড়িয়ে, বদলায় ঘণ্টায়: মুখে বলা একটা বিল আজই সাত নম্বর থেকে ছয় নম্বরে তোলে। বছর যায় এই দিনগুলো ব্যতিক্রম না থাকতে।
কবলে থাকা নয় নম্বর ধরন কি অন্য ধরন হয়ে যায়?
না। নিচে নয় নম্বর ধরন নামে নিজের সিঁড়ি দিয়ে: প্রতিটি ধাপে সে শান্তি নিয়ে কিছু করে, আর নয় নম্বর ধাপেও সেটা শান্তিই, কেবল একটা ফাঁকা জায়গার হাতে পড়া। অন্য ধরন নিচে ভাঙে অন্য জিনিস। বাইরে থেকে কবলে থাকা নয় যে কারো মতো দেখাতে পারে, ভেতরে কল সেই একই, যা এক নম্বর ধাপে ছিল, শুধু আর কথা শোনে না।
আমি প্রায় তর্ক করি না। এটা সামর্থ্য, নাকি কবল?
চুপ থাকা নিজে কিছুই বলে না, সিঁড়িতে সেটা দুই নম্বর ধাপেও আছে, আট নম্বরেও। আলাদা করে সেটা, যা ভেতরে ঘটে যখন আপনি চুপ। দুই নম্বরে আপনার একটা জবাব আছে, আর আপনি ঠিক করেছেন সেটা না দেখাতে। আট নম্বরে জবাব নেই, আর খোঁজাও হয়নি। যাচাই করুন পাশে অন্যদের পরের তর্কে: আপনি জানেন কি না আপনি কার দিকে।
ছয় নম্বর ধাপের নাম যোগাযোগের বদলে চুপ। চুপ থাকায় ক্ষতি কী?
ক্ষতি এই যে চুপটার ঠিকানা আছে। ছয় নম্বর ধাপে নয় নম্বর ধরন শুধু চুপ থাকে না, জবাবের অপেক্ষায় থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে, আর মানুষটা কথার মাঝখানে একা পড়ে থাকে। নয়ের নিজের কাছে যোগাযোগ ছাড়া থাকা সবচেয়ে ভারী, আর ছয় নম্বর ধাপে সে সেটাই অন্যের সঙ্গে করে। প্রতিটি ধরনের ছয় নম্বর ধাপ এভাবেই গড়া; নয়ের হাতিয়ার নীরবতা।
এরপর কোথায়
এটি সাধারণ ক্রমের একটি জায়গা। ব্যক্তিত্ব পরীক্ষা দিলে ক্রমটি আপনার জন্য সেজে যাবে।
- 01শান্তিকামীআপনি কে
- 029w89w1আপনার রং
- 03এখন আপনি কোন অবস্থায়এখন আপনি কোন অবস্থায়আপনি এখানেপাতাটি লেখা হচ্ছে