1 নম্বর ধরনের বিকাশের ধাপ
Enneagram ১ নম্বর ধরনের বিকাশের ধাপ: শুধরানো কখন দায় হয়ে ওঠে
শুধরে দেওয়ার হাত এক নম্বর ধরনের নয়টি ধাপেই সমান চটপটে; বদলায় হাতটা কার দিকে যায় আর ছেড়ে দিতে পারে কি না। ফলাফলে আপনি তিনটি অবস্থার একটি দেখেছেন, আর প্রতিটি অবস্থার ভেতরে তিনটি করে ধাপ। এই পাতায় পুরো সিঁড়ি, এক থেকে নয়, আর দুটি সীমানা, যেগুলো পেরোলে শুধরানো প্রথমে দাবি হয়, পরে শাস্তি। কোনো ধাপেই আপনি অন্য কেউ হন না: নয়টির প্রতিটিতে আপনি এক নম্বর ধরন।
01
নয়টি ধাপ
1 নম্বর ধাপ
তুলে রাখা শুধরানো
শুধরানো তোলা আছে, আর শুধরানোর কিছু নেই বলে নয়। এক নম্বর ধরন খুঁতটা আগের মতোই পরিষ্কার দেখে আর সেটাকে যেমন আছে তেমন থাকতে দেয়: পৃথিবী তার মাপে চলতে বাধ্য নয়, সেও পৃথিবী সারাতে বাধ্য নয়। বাইরে এটা ধরা পড়ে ছোট একটা কাণ্ডে: অন্যের লেখায় বানান ভুল দেখে সে বিষয় নিয়ে কথা বলে, ভুল নিয়ে নয়।
2 নম্বর ধাপ
নিজের ঘরের নিয়ম
শুধরানো ফিরে আসে, তবে নিজের জিনিসের দিকে ফেরানো। এক নম্বর ধরন যার দায়িত্বে আছে সেটা ঠিক রাখে আর পাশের জনের ভুল পাশের জনেরই থাকে, নিজের এলাকায় টেনে আনে না। চিহ্ন সোজা: সহকর্মীর ভুলটা সে একবার বলে, তারপর ছেড়ে দেয়, রাতে বসে নিজে সারিয়ে দেয় না।
3 নম্বর ধাপ
কাজ দিয়ে দেখানো নিয়ম
নিয়ম ছড়াতে শুরু করে, আর ছড়ায় কাজের ভেতর দিয়ে, মন্তব্য দিয়ে নয়। এক নম্বর ধরন কীভাবে করতে হয় তা নিজের হাতের কাজে দেখায়, আর বোঝায় কেবল কেউ জিজ্ঞেস করলে। বাইরে দেখা যায় এভাবে: নতুন লোক তাকে কিছু না জিজ্ঞেস করেই তার কাজ দেখে শিখে নেয়, কারণ কাজটা দেখার মতো করে করা।
4 নম্বর ধাপ
সব শুধরানোর দায়
শুধরানো কর্তব্য হয়ে যায়, আর এটাই নিচের দিকে প্রথম মোড়: যা আগে ইচ্ছা হলে করা হত, এখন না করে থাকা যায় না। চোখের সামনে যা কিছু ভুল, অন্যের কাজ সমেত, সবের জন্য এক নম্বর ধরন নিজেকে দায়ী ভাবে। চিহ্ন: অফিসের সবার ফ্রিজটা সে একাই পরিষ্কার করে ফেলে, আর হিসাব রাখে কেউ খেয়াল করল কি না।
5 নম্বর ধাপ
সবার জন্য পাঠ
শুধরানো আশপাশের সবার উপর ছড়িয়ে পড়ে, আর এক নম্বর ধরন হয়ে ওঠে সেই লোক, যে বুঝিয়ে দেয়। ঠিকটা কী, সে বলে দেয় কেউ জানতে চাওয়ার আগেই, আর এমন গলায়, যে জানে, প্রস্তাব করে না। নিজের জীবন চলে পদ্ধতি ধরে। চিহ্ন: অচেনা লোককেও সে লাইনে দাঁড়ানোর ঠিক জায়গাটা দেখিয়ে দেয়, কেউ চায়নি তবু।
6 নম্বর ধাপ
মানুষের খুঁতের হিসাব
শুধরানো কাজ থেকে সরে মানুষের গায়ে লাগে। এক নম্বর ধরন এখন অন্যকে তার খুঁত দেখিয়ে দেয়, অর্থাৎ অন্যের সঙ্গে ঠিক তাই করে, যা নিজের বেলায় সবচেয়ে ভয় পায়, আর তার নাম দেয় সততা। বাইরে চিহ্ন: ভুলটা সে আর সঙ্গে সঙ্গে দেখায় না, মনে রেখে দেয়, আর মাস খানেক পরে একেবারে অন্য প্রসঙ্গে তুলে আনে।
7 নম্বর ধাপ
অন্য মতের বাতিল
নিয়ম নিয়ে আর কথা চলে না। মাঝের সীমানা পেরিয়ে এক নম্বর ধরন নিয়মটা যত কাজ করে না দেখা যায়, তত শক্ত করে ধরে, আর যেকোনো অন্য মত তার কাছে নষ্ট হওয়ার লক্ষণ। শুধরানো এখন ভুলের উপর পড়ে না, অমতের উপর পড়ে। চিহ্ন: উৎসবের নিমন্ত্রণ সে ফিরিয়ে দেয় একটা পুরনো কথার জন্য, যা নিমন্ত্রণকারী ভুলেই গেছে।
8 নম্বর ধাপ
একটা খুঁতে আটকে থাকা
শুধরানো একটা বিন্দুতে সিঁটিয়ে আসে। এক নম্বর ধরন একটা অমিল থেকে চোখ সরাতে পারে না, নিজের হোক বা অন্যের, আর বাকি সব থাকতেই থাকে না। নিয়ম অন্যের উপর কড়া হয় ঠিক সেখানে, যেখানে সে নিজে আর মানে না। চিহ্ন: একই চিঠি সে চতুর্থবার লিখছে, আর যে চিঠিটা আজই যাওয়ার কথা, সেটা শুরুই হয়নি।
9 নম্বর ধাপ
শুধরানোর বদলে শাস্তি
শুধরানো উঠে যায়, তার জায়গায় আসে শাস্তি। ভুলটা এক নম্বর ধরন আর সারায় না, সাজা দেয়, আর যে ভুল করেছে তার সঙ্গে চলে এমনভাবে, যেন মানুষটাকে আর সারানো যায় না। নিজেকে সে বাদ দেয় না। চিহ্ন: ঘরের কেউ কাপ ভাঙলে সে সারাদিন কথা বন্ধ রাখে, আর নিজে ভাঙলে সারাদিন খায় না।
02
নামা কীভাবে শুরু হয়
- সামর্থ্যেমূল জিনিসটা নিজের ইচ্ছায় দেওয়া হয়প্রথম সীমানা: ইচ্ছার জিনিস দায় হয়ে ওঠে
- মাঝামাঝিতেমূল জিনিসটা অন্যের কাছে দাবি হয়ে ওঠেদ্বিতীয় সীমানা: ভয়টা সত্যি হয়
- কবলেমূল জিনিসটা বাঁচাতে গিয়ে ভাঙা হয়
তিন আর চার নম্বর ধাপের সীমানা দাঁড়িয়ে আছে একটা কথার উপর: করতেই হবে। এপারে এক নম্বর ধরন যা শুধরাতে চায় তা শুধরায়, আর চাইলে হাত গুটিয়ে রাখে। ওপারে শুধরানো আর বাছাইয়ের জিনিস নয়, কারণ সে না করলে কেউ করবে না। মুক্ত থাকে না ভুলটাকে যেমন আছে তেমন রেখে দেওয়ার অধিকার। প্রথম পা নিরীহ: কেউ চায়নি এমন একটা কাজ সে কাঁধে তোলে, মাপে আনে, আর অপেক্ষা করে কখন তফাতটা চোখে পড়বে। পড়ে না। তখন আসে দাবি: অন্যদেরও এই শুধরানোটা চাওয়ার কথা, আর না চাওয়াটা গাফিলতি। শুধরানো দেওয়ার জিনিস থাকে না, আদায়ের জিনিস হয়।
ছয় আর সাত নম্বর ধাপের সীমানায় এক নম্বর ধরনের ভয়টা সত্যি হয়। সে ভয় পেত, নিয়মটা কোথাও ভুল; ছয় নম্বর ধাপে মানুষের খুঁত ধরতে ধরতে সে নিজের হাতেই নিয়মটা ভাঙে: নিয়মের নামে মানুষের সঙ্গে তাই করে, যা নিজের মাপে চলে না। কেউ সেটা মুখের উপর বলে, নয়তো সরে যায়। ওপারে সে নিয়ম দেখে না, সাক্ষীকে বাতিল করে: যে দেখেছে, ভুল তারই। এই অবস্থার জন্য যা আর ফেরে না, তা একটাই: শুধরানো নিজের দিকে আর তাকায় না, শুধু বাইরে।
03
কী আবার তুলে আনে
- সামর্থ্যেদ্বিতীয় ফেরা: হালকা লাগা এক জিনিস নয়
- মাঝামাঝিতেপ্রথম ফেরা: যে কাজ কেবল সীমানার এই দিক থেকে করা যায়
- কবলে
কবল থেকে মাঝামাঝিতে এক নম্বর ধরন ফেরে একটা কাজ দিয়ে, যা কেবল এই দিক থেকেই করা যায়: শুধরানোটা নিয়মের নিজের গায়ে লাগানো। মাঝামাঝিতে নিয়মকে চালু মনে হয়, যাচাইয়ের কিছু নেই। নিচে হাতে প্রমাণ থাকে যে নিয়মটা একটা জ্যান্ত কাজ বা একজন জ্যান্ত মানুষকে ভেঙেছে, আর প্রমাণটা মেনে নেওয়া যায়। মেনে নেওয়া মানে একটা ঘটনায় বলা: এখানে নিয়ম ভুল ছিল, মানুষ নয়। প্রথম এমন স্বীকারটাই উপরে সীমানা পেরোনো: শুধরানো আবার ভেতরে তাকায়, আর অন্যের কাছে দাবির পায়ের তলায় মাটি থাকে না।
সামর্থ্যে ফেরা আর হালকা লাগা এক জিনিস নয়। হালকা লাগা মানে খোঁচা কমেছে, স্বর নরম হয়েছে, আর নিয়ম আগের মতোই মানতে হবে। সামর্থ্য শুরু হয় সেখানে, যেখানে শুধরানো আবার ইচ্ছার জিনিস: এক নম্বর ধরন ভুল দেখে, সারাতে পারে, রেখে দিতেও পারে, আর যা রেখে দিল তা তাকে টানে না। যাচাই ছোট: অন্যের ভুল দেখে সে চা শেষ করে, আর চা শেষ হলে ভুলটা মনে থাকে না।
04
আপনি এখন কোথায়
ইচ্ছায়, নাকি করতেই হয় বলে
ভয়টা কি সত্যি হয়ে গেছে
ভালো সপ্তাহের পরে আর খারাপ সপ্তাহের পরে কোথায় ফেরেন
ফলাফল অবস্থা দেখায়, ধাপ নয়
শেষ যে জিনিসটা আপনি অন্যের কাজে শুধরে দিয়েছেন, মনে করুন: একটা লেখা, একটা ছক, কারো সাজানো ঘর। না শুধরে থাকতে পারতেন? জোর করে হাত চেপে রেখে নয়, শান্তভাবে রেখে দিয়ে আর সন্ধ্যায় মনেও না করে। যদি পারতেন, আর শুধু অন্যরকম ঠিক করেছেন, শুধরানো এখনো আপনার হাতে, আপনি সামর্থ্যে। যদি রেখে দিলে জিনিসটা আপনাকে টানত, যতক্ষণ না সারানো হয়, শুধরানো আদায় হচ্ছে, আর সেটা মাঝামাঝিতে। দ্বিতীয় প্রশ্নটা কঠিন, কারণ উত্তরটা আপনি জানেন। গত এক বছরে কি এমন জায়গা ছিল, যেখানে আপনার নিয়ম ভুল প্রমাণ হল: তার জন্য কেউ চলে গেল, বা একটা কাজ ভেঙে পড়ল, আর আপনি দেখলেন? তারপর কী করলেন: নিয়মটা আবার দেখলেন, নাকি ঠিক করলেন, যে সইতে পারল না দোষ তার? প্রথম উত্তর আপনাকে মাঝামাঝিতে রাখে; দ্বিতীয়টার মানে কবলের সীমানা পেছনে। আর অভ্যস্ত ধাপের প্রশ্ন। ভালো সপ্তাহের পরে, যখন সব হয়ে গেছে আর কেউ ঠকায়নি, আপনি কোথায় ফেরেন: ইচ্ছার শুধরানোয়, নাকি দায়ের? খারাপ সপ্তাহের পরে কোথায়? দুবারই যে ধাপে ফেরেন সেটাই আপনার, আজ যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন সেটা নয়।
05
প্রশ্ন
এক ধাপ উপরে উঠতে কত সময় লাগে?
দুটো উত্তর, দুটোই সত্যি। আজকের ধাপ বদলায় এক দিনে: একটা কথা, একটা মেজাজ হারানো, একটা শেষ করা কাজ এক নম্বর ধরনকে এক ধাপ উপরে বা নিচে সরিয়ে দেয়, আর সন্ধ্যায় সে সকালের জায়গায় থাকে না। অভ্যস্ত ধাপ, যেখানে সে ফিরে আসে, বদলায় বছরের হিসাবে, আর সরে জোর দিয়ে নয়, এই গুনতিতে যে কতবার নিয়মটা চাপিয়ে না দিয়ে নতুন করে দেখা হল।
কবলে থাকা এক নম্বর ধরন কি অন্য ধরন হয়ে যেতে পারে?
না। নয় নম্বর ধাপেও এক নম্বর ধরন এক নম্বরই: সে এখনো পৃথিবীকে ঠিক আর ভুলে ভাগ করে, কেবল সারানোর জায়গায় এসেছে সাজা। নিচে অন্য ধরনের যে ছাপগুলো ফুটে ওঠে, সেগুলো ছাপ, ধরন বদল নয়। প্রতিটি ধরনের সিঁড়ি আলাদা ঠিক এই কারণে যে একই ধাপে এক নম্বর ধরন আর চার নম্বর ধরন নিজের মূল জিনিসটা নিয়ে আলাদা কাজ করে।
সিঁড়ির উপরে উঠলে এক নম্বর ধরন কি ভুল দেখা বন্ধ করে?
না, চোখ একই থাকে, বদলায় দেখা জিনিসটা নিয়ে কী করা হয়। উপরের ধাপে এক নম্বর ধরন অমিলটা নিচের ধাপের মতোই দ্রুত ধরে, আর তারপর বেছে নিতে পারে: সারাবে, বলবে, না রেখে দেবে। এই বাছাইটাই পুরো তফাত। নিচে বাছাই নেই: যা চোখে পড়েছে তা কাজ দাবি করে, আর কাজটা ক্রমে কাজের বদলে মানুষের উপর গিয়ে পড়ে।
ছয় নম্বর ধাপ দেখতে সাধারণ কড়া মেজাজের মতো। তফাত করব কীভাবে?
মন্তব্যটা কার উদ্দেশে, তা দিয়ে। কড়া মেজাজ কথা বলে কাজ নিয়ে: এখানে ভুল, এটা আবার করতে হবে। ছয় নম্বর ধাপ কথা বলে মানুষ নিয়ে: এটা যে হতে দিল, তার ভেতরেই গোলমাল। ঠিক এই কথাটাই এক নম্বর ধরন নিজের সম্বন্ধে শুনতে সবচেয়ে ভয় পায়, আর ছয় নম্বর ধাপে সে সেটা অন্যকে বলে। আপনার মন্তব্য যদি ইদানীং ক্রমেই মানুষ নিয়ে হয়, সীমানা কাছে।
বাড়িতে আর কাজে কি এক নম্বর ধরন আলাদা ধাপে থাকতে পারে?
পারে, আর এটা হামেশাই হয়। কাজের জায়গায় শুধরানো অনেক সময় উপহারই থেকে যায়, কারণ সেখানে সময়সীমা আছে আর একটা ফল আছে, যা বুঝিয়ে দেওয়া যায়; বাড়িতে সেটা দায় হয়ে ওঠে, কারণ সেখানে কাজটা শেষ বলে মেনে নেওয়ার কেউ নেই। সিঁড়ি একটাই, চাপ আলাদা, আর অভ্যস্ত ধাপ গোনা হয় সে কোথায় বেশি ফেরে তা দিয়ে, দুটো জায়গার ভালোটা দিয়ে নয়।