সহজাত উপধরন
Enneagram sp4: সহ্যশক্তি কোন ঘাটতির জবাব
অভিধান সহ্যশক্তির পাশে লিখে রাখে বরদাস্ত, আর শব্দটা শুনলে চোখে ভাসে কেউ মুখ বুজে সয়ে যাচ্ছে। আপনার ফলে sp4-এর সঙ্গে এসেছে এই শব্দই, যদিও আপনার দিনগুলো হয়তো সয়ে যাওয়ার চেয়ে খাটুনিতেই বেশি ভরা। নিচের দৃশ্যগুলো দেখায়, সেই খাটুনি আসলে কার দিকে তাকিয়ে চলে। চার নম্বর ধরনের আরেকটা কোড যদি প্রায় সমান নম্বরে পাশে থাকে, দুটোর কোনটা আপনার, তা এই পাতা ঠিক করে দেবে না।
- প্রধান
- সহায়ক
- অবহেলিত
বাকি দুটির কোনটি সহায়ক আর কোনটি অবহেলিত, উপধরনের কোড তা বলে না
উল্টো উপধরন: দুর্বলতাটি নিজের বিরুদ্ধেই ঘুরে দাঁড়ায়
01
এই প্রবৃত্তি কী আগলে রাখে
- spনিজের বন্দোবস্ত সামলাই
- soসবার মধ্যে নিজের জায়গা গড়ি
- sxএকজনের সঙ্গে গভীরে যাই
শীতে sp4-এর খাটে থাকে নিজের হাতে সেলাই করা কাঁথা: মায়ের তিনটে পুরনো শাড়ি আর দুই শীতের সন্ধ্যা। এক কোণে ফোঁড়গুলো আঁকাবাঁকা, মাঝখান থেকে সমান হয়ে এসেছে, ততদিনে হাত শিখে গেছে। চার নম্বর ধরনের দরকার এমন কিছু, যা কেবল তারই হতে পারত, আর ওই কোণটা আর কারো হাতে ঠিক অমন বাঁকা হত না।
বারো বছর ধরে বাজারের কোণের কাদের মিয়া sp4-এর জন্য মাছ বেছে রাখে, কেটে দেয়, বলে দেয় কোনটা নদীর আর কোনটা চাষের। এক শুক্রবার সে জানায়, দোকান ছেড়ে দিচ্ছে, বরিশালে ফিরে যাবে। sp4-এর ফ্রিজে তখনো দুই সপ্তাহের মাছ, তবু পরের শুক্রবার ভোরে সে বাজারে, একটার পর একটা রুইয়ের কানকো উল্টে দেখছে, আর সন্ধ্যায় নতুন কেনা বঁটিতে প্রথম মাছটা কাটতে গিয়ে আঙুলে ব্যান্ডেজ লাগায়।
মাসের শেষ সপ্তাহে পানির ফিল্টারটা ফেটে যায়; দোকানে নতুনটার দাম তিন হাজার, হাতে আছে আটশো। sp4 সেই টাকায় কেনে তিনটে মাটির কলসি, বালি, কাঠকয়লা আর বাঁশের একটা তেপায়া, তারপর দাদির বাড়িতে দেখা ছবিটা মনে করে এক ছুটির দিন ধরে সব থাকে থাকে বসায়। পানি নামে ফোঁটায় ফোঁটায়, মুখে লাগে মাটির স্বাদ। তবু অতিথি এলে প্রথম গ্লাসটা সে ভরে ওই কলসি থেকেই।
02
ধরনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতাকে এটি কেমন রং দেয়
- ধরনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা প্রবৃত্তির ভেতর দিয়ে বাইরে বেরোয়
- উল্টো উপধরন: দুর্বলতাটি নিজের বিরুদ্ধেই ঘুরে দাঁড়ায়
পাড়ার গানের দলে পঁচিশে বৈশাখের মহড়া। দলের অনেকে গান ধরেছে ছয় বছর বয়সে, মায়ের হারমোনিয়ামের পাশে বসে; sp4 প্রথম গুরুর কাছে গেছে উনত্রিশে, অফিস সেরে। মহড়া শেষে sp4-এর হিংসা কারো মিষ্টি গলা নিয়ে মাথা ঘামায় না, খোঁজে কার বাড়িতে জন্মের আগে থেকেই হারমোনিয়াম ছিল। অন্যরা গায় চোখ বুজে, sp4-এর কোলে খোলা স্বরবিতান।
ছোটবেলা থেকে গাওয়া গলা এক সপ্তাহ বিশ্রাম পেলেও সুর ছাড়ে না; sp4-এর দেরিতে শেখা গলা পাঁচ দিনের জ্বরের পরে প্রথম সা-তেই নড়ে যায়। তাই রোজ ভোর সাড়ে পাঁচটায়, অফিসের আগে, চল্লিশ মিনিট খরজ সাধা। সহ্যশক্তি বলতে sp4-এর জীবনে এটাই: বৃষ্টির দিন, ছুটির দিন, মন খারাপের দিন, কোনোটাতেই ভোরের ওই চল্লিশ মিনিট বাদ যায় না।
এবারের অনুষ্ঠানে একক অন্তরাটা গুরু দিলেন সেই মেয়েটিকে, যে মায়ের কোলে বসে গান শিখেছে। দলের একজন কানে কানে বলল, “ওর তো জন্ম থেকেই সুর, তোমার সঙ্গে এটা অন্যায়।” হিংসার কানে কথাটা মধুর, কিন্তু আত্মরক্ষার প্রবৃত্তি জানে, কথায় চিঁড়ে ভেজে না; sp4 সবার সঙ্গে হাততালি দেয়। পরের চার মাস টিউশনির টাকায় সে শুক্রবার সকালে গুরুর কাছে আলাদা ক্লাস নেয়। দলের কেউ জানে না; শুক্রবার সকালে গুরুর দরজার বাইরে জুতো থাকে এক জোড়াই।
03
একই ধরনের বাকি দুটি উপধরন থেকে এটি কোথায় আলাদা
- এই পাতা
- উল্টো উপধরন
so4, লজ্জাবোধ
স্কুলের গেটে দশ মিনিট দাঁড়ালেই দুজনে বলে দিতে পারে, কার বাচ্চার তিনটে প্রাইভেট টিউটর, কার বাড়িতে মাস গেলে বিদেশের টাকা আসে, আর তার কোনটা নিজের ঘরে নেই। ঈদের দুপুরে ফুপুর বাসায় খবর ছড়ায়, ফুপাতো ভাই ফ্রিল্যান্সিং করে ডলারে কামাচ্ছে, আর সবাই তাকে ঘিরে ধরে। so4 বাড়ি ফেরার পথে মনে করে, বড়রা তার দিকে কেমন তাকালেন, আর তার চাকরি এখন আত্মীয়দের মধ্যে কোথায় দাঁড়াল। sp4 সেই রাতেই একটা ফ্রিল্যান্সিং সাইটে প্রোফাইল খোলে আর রাত দুটো পর্যন্ত প্রথম নমুনা কাজটা বানায়। এমন দুপুরের পরে আপনার ছুটির দিনগুলো কার ভাগে যায়: যা নেই তা শিখে নেওয়ার, নাকি আত্মীয়দের চোখে নিজের ছবিটা আবার দাঁড় করানোর?
sx4, প্রতিদ্বন্দ্বিতা
দুজনের কারো কাছেই শখ বেশিদিন শখ থাকে না: সাইকেল কিনলে তিন মাসের মাথায় শুক্রবার ভোরে মাওয়া পর্যন্ত আশি কিলোমিটার। পাড়ার ক্রিকেট দলে নতুন আসা ছেলেটা পরপর দুই ম্যাচে ওপেনিং বোলিং পায়, যেটার জন্য sp4 গত শীত থেকে অপেক্ষা করছে। sx4 হলে ব্যাপারটা ব্যক্তিগত হয়ে যেত: নেটে রোজ ঠিক ওই ছেলেটার বলের সামনে ব্যাট নিয়ে দাঁড়াত, যতক্ষণ না সবার সামনে তাকে ছক্কা মারে। sp4 ভোর ছয়টায় খালি মাঠে এক ব্যাগ টেনিস বল নিয়ে একটা স্টাম্প তাক করে বল করে যায়, আর ছেলেটার নাম পর্যন্ত মুখে আনে না। কাল যদি শোনেন ছেলেটা অন্য শহরে চলে গেছে, ভোরের মাঠে যাওয়ার কারণটা কি তখনও থাকবে?
04
সাজানোয় জায়গা আর অবহেলিত প্রবৃত্তি
- sp/so/sx
- sp
- so
- sx
- sp/sx/so
- sp
- sx
- so
এই প্রবৃত্তি প্রধান হলে দুই রকম সাজানো সম্ভব
তিন সপ্তাহ চেষ্টায় থাইরয়েড বিশেষজ্ঞের সিরিয়াল মেলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়, ঠিক বন্ধুর বউভাতের দিন। সেখানে আসবে সেই মানুষটা, যাকে sp4-এর ভালো লাগে, আর বন্ধুর মামা, যিনি ব্যাংকে লোক নেন। sp4 বন্ধুকে লেখে “দোস্ত, ডাক্তার, পরে দেখা হবে” আর সাতটায় চেম্বারের বেঞ্চে বসে। রাতে ফেসবুকের ছবিতে ভালো লাগার মানুষটা অন্য কারো পাশে, আর মামার নম্বরটা নেওয়াই হয়নি।
sp4-এর সাজানোয় আত্মরক্ষার প্রবৃত্তি প্রধান, আর সামাজিক প্রবৃত্তি অবহেলিত। পাশের ভদ্রলোক ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সভাপতি হলেন, গ্রুপে অভিনন্দনের ঢল, আর মাঝখানে sp4 পাঠায় একটা লিংক: সমিতির খাতাপত্র কীভাবে অডিট করাতে হয়। তার চোখে এটা কাজের কথা, হিংসাটা তার কানে যায় না। পরের মিটিংয়ে তার পাশের চেয়ারটা খালি থাকে।
অন্য সাজানোয় সামাজিক প্রবৃত্তি সহায়ক, আর অবহেলিত একের সঙ্গে একের প্রবৃত্তি। খালাতো বোন কোর্টে বিয়ে করে চট্টগ্রামে চলে গেলে sp4-এর রায়: হুজুগ। তারপর মাসের পর মাস খালার ফোনে যে কথাই হোক, sp4 ঘুরিয়ে আনে ওদের দিকে, প্রশ্নে লুকোনো হিংসা টের না পেয়েই: আলাপ কোথায়, কে আগে বলেছিল। একদিন খালা হেসে ফেলেন: “তুই তো ওদের খবর আমার চেয়েও বেশি রাখিস।”
05
পরীক্ষা কী দেখায়
সব আলাদা হয়ে দাঁড়িয়েছে: উপধরন আর পুরো সাজানো
সহায়ক আর অবহেলিত প্রায় সমান: সাজানো ছাড়া উপধরন
প্রধান আর সহায়ক প্রায় সমান: দুটি প্রার্থী
সহজাত প্রবৃত্তি নিয়ে আমরা ধরন, ডানা আর অবস্থার চেয়ে সাবধানে কথা বলি: প্রায় অর্ধেক মানুষের ক্ষেত্রে দুটি প্রবৃত্তি প্রায় সমান জোরে বাজে, আর তখন আমরা দুটিই দেখাই আর বলি, যেটিতে নিজেকে চেনেন সেটি বেছে নিতে। sp4-এর উত্তরে হয়তো জায়গা নেবে অন্যের খুঁটির জোর: কার পেছনে বাবার ব্যবসা, কার চাকরি চেনা লোকের এক ফোনে। বাংলায় “খুঁটির জোর” কথাটাই পদ আর প্রভাবের গন্ধ মাখা, তাই লেখা উত্তরে sp4-এর কথাও পড়া যায় সামাজিক প্রবৃত্তির ভাষায়। তাই ফলের দ্বিতীয় প্রার্থী হিসেবে so4 উঠে আসতে পারে।
06
প্রশ্ন
সহকর্মীর ছকটা আমার ছকের চেয়ে ভালো, তবু সেটা কাজে লাগাতে গা জ্বলে কেন?
বাংলায় একটা কথা আছে: পরের ধনে পোদ্দারি। sp4-এর কাছে নিজের জিনিস বলতে সেটাই, যাতে নিজের খাটুনির দাগ আছে; অন্যের ছকে কাজ সারলে মনে হতে পারে, পরের টাকায় বাবুগিরি চলছে। খোঁচাটা কমানোর একটা সহজ উপায় আছে: কাজে লাগানোর সময় সবার সামনে বলে দিন, ছকটা কার বানানো। মালিকের নাম মুখে এলে পোদ্দারির ভাবটা আর থাকে না।
আমার সাফল্যকে লোকে কপালের জোর বলে। শুনলে গায়ে লাগে কেন?
মিষ্টির প্যাকেট খুলতেই কেউ বলেন, “কপাল বটে!” এক কথায় ফলটা আপনার দুই হাত থেকে উঠে কপালে লেখা হয়ে যায়, আর sp4-এর কাছে কোনো কিছু নিজের হয় হাতের রাস্তা ধরেই। তর্কে না গিয়ে প্লেটটা এগিয়ে দিন। খোঁচা তবু থেকে গেলে একবার খেয়াল করুন, অন্যের সাফল্যকে আপনি নিজেও কপাল বলে ডাকেন কি না।
দল চালানোর প্রস্তাব এসেছে, অথচ আমার টান নিজের হাতে কাজের দিকে। এটা কি ভয়?
হেডমাস্টার হলে রুটিনের মাথায় নাম থাকে, চক হাতে পড়ান অন্যরা। sp4-এর কাছে যা নিজের, তাতে নিজের হাতের দাগ লাগে; দলের কাজে দাগ থাকে অন্যদের হাতের, নাম থাকে আপনার। দ্বিধাটা তাই ভয়ের চেয়ে বেশি মালিকানার হতে পারে। জিজ্ঞেস করে দেখুন, ক্রিকেটের অধিনায়কের মতো দল সামলেও নিজে ব্যাট হাতে নামা যায় কি না।
সোজা রাস্তা থাকলেও কঠিনটাই কেন বেছে নিই? এটা কি অভ্যাস?
কলুর বলদ সারাদিন হাঁটে, অথচ দিনের শেষে দাঁড়িয়ে থাকে ঘানির পাশেই। sp4-এর বাড়তি খাটুনিও কখনো এমন হয়: প্রতিটা পাক মনে হয় পথ, কিন্তু যে ফাঁকের দিকে হিংসা তাকিয়ে আছে, সেটা তাতে একটুও ভরে না। মাসের শেষে দুটো তালিকা করুন: কোন কঠিন রাস্তা নতুন কিছু শিখিয়েছে, আর কোনটা শুধু ঘাম ঝরিয়েছে। দ্বিতীয়টা লম্বা হলে ঘানিটা চিনে নেওয়া সহজ।