5 নম্বর ধরনের বিকাশের ধাপ
Enneagram ৫ নম্বর ধরনের বিকাশের ধাপ: জানা যখন কাজের আগে দাঁড়ায়
পাঁচ নম্বর ধরনের নয়টি ধাপ পড়তে সুবিধা মাঝখান থেকে, যেখানে মানুষ কাজে ঢোকার বদলে আরেকটা বই তোলে: অনেকে নিজেকে সেখানেই চেনে। ফলাফলের অবস্থা বলে আপনি সিঁড়ির কোন তিন ভাগে থাকেন, ধাপটা বলে না, কোন দিকে সরছেন তাও না। এখানে ধাপগুলো পরপর দাঁড়িয়ে, মাঝে দুটি সীমানা, আর নয়টিতেই আপনি পাঁচ নম্বর ধরনই থাকেন: বদলায় ধরন নয়, জানা নিয়ে সে কী করে।
01
নয়টি ধাপ
1 নম্বর ধাপ
হাতে হাতে দেওয়া জানা
জানা খরচ হয়ে যায় সেই মিনিটেই, যখন কাজে লাগল, আর পাঁচ নম্বর ধরন গুনে দেখে না নিজের কাছে কতটা রইল। বোঝা হয়ে ওঠে সে যা করে, সে যা রাখে তা নয়, আর খরচে সেটা বাড়ে। বাইরে চিহ্ন একটাই: যা সকালে শিখেছে, দুপুরে সে সেটা দলের সবাইকে বুঝিয়ে দেয়, আধা-শেখা অবস্থাতেই।
2 নম্বর ধাপ
খোলা চোখের কৌতূহল
পাঁচ নম্বর ধরন বলার আগে দেখে, আর দেখে আগ্রহ নিয়ে, সাবধানে নয়: জানা জমে চলতে চলতে, লক্ষ্য ছাড়া আর হিসাব ছাড়া, আর যেমন সহজে এল তেমন সহজে যায়। দাবি এখনো নেই, নিজের কাছেও না, অন্যের কাছেও না। চিহ্ন: অচেনা শহরে সে মানচিত্র না খুলে আগে হাঁটে, আর হারিয়ে গেলে লোককে জিজ্ঞেস করে।
3 নম্বর ধাপ
একটা বিষয়ের গভীরে
বোঝা একটা বিষয়ে জড়ো হয়, আর পাঁচ নম্বর ধরন তার গভীরে যায়, তবে ফল বাইরে বের করে আনে: একটা পদ্ধতি, একটা লেখা, একটা যন্ত্র, যা তাকে ছাড়াই অন্যের হাতে চলে। জানা এখনো কাজের, পাঁচ নম্বর ধরনের নিজের নয়। চিহ্ন: একটা যন্ত্র সে সারাতে জানে, আর পদ্ধতিটা দেয়ালে সেঁটে দিয়েছে, যাতে তাকে ডাকতে না হয়।
4 নম্বর ধাপ
ঢোকার বদলে পড়া
পাঁচ নম্বর ধরন সেখানে ঢোকা বন্ধ করে, যেখানে এখনো বোঝেনি, আর এটাই মোড়: জানা আর কাজে যায় না, কাজের সামনে শর্ত হয়ে দাঁড়ায়। তৈরি হওয়া লম্বা হয়, কাজ অপেক্ষা করে আরও, কারণ শেষ পর্যন্ত বোঝা যায় না। চিহ্ন: সাঁতার শেখার ভিডিও সে দেখেছে এক বছর ধরে, পুকুরে নামেনি একবারও।
5 নম্বর ধাপ
তত্ত্বের ভেতরে আশ্রয়
জানা এমন জিনিস হয়ে ওঠে, যার জন্য পাঁচ নম্বর ধরন স্বীকৃতি দাবি করে। কথা হবে সে যা বোঝে তা নিয়ে, বোঝে এমন লোকের মতো করে; বাকিটা আগ্রহহীন বলে সরানো, নিজের জীবন দেখা হয় পাশ থেকে। চিহ্ন: আত্মীয়ের বিয়েতে সে একজনকে খুঁজে নেয়, যে তার বিষয়ে কথা বলতে পারে, আর সারা সন্ধ্যা তার সঙ্গেই কাটায়।
6 নম্বর ধাপ
অস্ত্রের মতো জানা
পাঁচ নম্বর ধরন জানাকে বাঁচায় অন্যের জানাকে ছোট করে। প্রশ্ন এমন জবাব পায়, যাতে প্রশ্নকারী নিজেকে বোকা ভাবে, আর সাহায্যের অনুরোধ এমন, যাতে যে চাইল সে অসহায় বোধ করে: মানুষের সঙ্গে সে তাই করে, যা নিজের বেলায় ভয় পায়। চিহ্ন: জবাবে সে জিজ্ঞেস করে, এটাও জানেন না? আর প্রশ্নকারী আর জিজ্ঞেস করে না।
7 নম্বর ধাপ
সব বাইরেরটা বাতিল
জানা নিজেকে বাঁচায় সব কিছু বাতিল করে, যা তাকে দাবি করতে পারত: পাঁচ নম্বর ধরন কাজকে, মানুষকে, আর যে বিষয়ে সে সেরা ছিল সেটাকেও ফাঁকা ঘোষণা করে। বোঝা আর কিছু গড়ে না, শুধু কাটে, আর সেটা ভোগ হয় স্পষ্ট দেখা হিসেবে। চিহ্ন: বছরের পর বছর জমানো নোটগুলো সে ফেলে দেয়, আর বলে ওতে কিছু ছিল না।
8 নম্বর ধাপ
ভাবনা থেকে আসা ভয়
যে মাথা দিয়ে পাঁচ নম্বর ধরন বাঁচত, সেটা তার বিরুদ্ধে ঘোরে: দেখা জিনিস থেকে হুমকি গড়ে ওঠে, প্রতিটি ভাবনা আগেরটার চেয়ে ভয়ের, আর বাকি জানাটুকু পাহারায়, যাচাই করতে পারে এমন সবার থেকে। নিজেকে সে এখানকার ভাবে না। চিহ্ন: দরজায় কড়া নাড়লে সে খোলে না, আর কে ছিল তা নিয়ে সারা সন্ধ্যা ভাবে।
9 নম্বর ধাপ
ভেতর থেকে মিলিয়ে যাওয়া
পাঁচ নম্বর ধরন শেষ যা দিয়ে ধরে ছিল তা-ও ছেড়ে দেয়: ভাবা বন্ধ করে, কারণ ভাবনা অসহ্য হয়ে উঠেছে, আর জানার মূলটা ভাঙা হয় তার নিজের হাত থেকে বাঁচতে। ভেতরে না দেখার কেউ থাকে, না দেখার কিছু। চিহ্ন: ঘরে আলো জ্বলে, সে বসে আছে, আর কেউ নাম ধরে ডাকলে সাড়া আসে অনেক পরে, বা আসে না।
02
নামা কীভাবে শুরু হয়
- সামর্থ্যেমূল জিনিসটা নিজের ইচ্ছায় দেওয়া হয়প্রথম সীমানা: ইচ্ছার জিনিস দায় হয়ে ওঠে
- মাঝামাঝিতেমূল জিনিসটা অন্যের কাছে দাবি হয়ে ওঠেদ্বিতীয় সীমানা: ভয়টা সত্যি হয়
- কবলেমূল জিনিসটা বাঁচাতে গিয়ে ভাঙা হয়
তিন আর চার নম্বর ধাপের সীমানা সেখানে, যেখানে বোঝা আর পাঁচ নম্বর ধরনের করা জিনিস থাকে না, হয়ে যায় এমন জিনিস, যা তার আগে থেকে হাতে থাকা চাই। দাবিটা নিজের কাছে, তবে ঠিকানা আগেই বাইরে: অন্যদের কাছে আশা, তারা অপেক্ষা করবে, সময়ের আগে মত চাইবে না, এমন জায়গায় ডাকবে না যেখানে তৈরি হওয়া যায় না। প্রথম পা নিরীহ। যে নিমন্ত্রণে এক বছর আগে সে সঙ্গে সঙ্গে ঢুকত, তার জবাবে বলে, আগে একটু দেখে নিই, আর দেখে নিমন্ত্রণ যতক্ষণ টেকে তার চেয়ে বেশি।
ছয় আর সাত নম্বর ধাপের সীমানা সেখানে, যেখানে পাঁচ নম্বর ধরনের ভয়টা সত্যি হয়: মানুষের মধ্যে আর পৃথিবীতে তার জায়গা নেই। ছয় নম্বর ধাপে সে এই জায়গার জন্য এখনো লড়ে, অস্ত্র হাতে হলেও। সাত নম্বরে লড়ার কিছু নেই, কারণ সে নিজেই জায়গাটাকে ফাঁকা ঘোষণা করে বেরিয়ে এসেছে। এই অবস্থার জন্য যা আর ফেরে না, তা চেনা লোকের বৃত্ত নয়, জানার দরকারি হওয়ার অধিকার: যে বোঝা বছরের পর বছর কাজের জন্য বেড়েছিল, এখন শুধু বাতিলের কাজে লাগে, আর পাঁচ নম্বর ধরন প্রথমবার বলতে পারে না, জানা তার কী কাজে।
03
কী আবার তুলে আনে
- সামর্থ্যেদ্বিতীয় ফেরা: হালকা লাগা এক জিনিস নয়
- মাঝামাঝিতেপ্রথম ফেরা: যে কাজ কেবল সীমানার এই দিক থেকে করা যায়
- কবলে
কবল থেকে মাঝামাঝিতে পাঁচ নম্বর ধরনকে ফেরায় একটা কাজ, যা কেবল নিচ থেকেই করা যায়: অন্যের হাত থেকে একটা তথ্য নেওয়া, নিজে যাচাই না করে। মাঝামাঝিতে সে এটা করবে না: সেখানে যাচাইয়ের জোর আছে, আর যাচাই তার বেঁচে থাকার ধরন। সাত আর আট নম্বর ধাপে যাচাইয়ের কিছু নেই, মাথা হুমকিতে ব্যস্ত, আর বাইরে থেকে ঢোকার একমাত্র পথ অন্যের কথা, যেমন আছে তেমন মেনে নেওয়া: আজ বুধবার, চিঠিটার কোনো মানে নেই, মঙ্গলবার তার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। একটা মেনে নেওয়া কথাই যথেষ্ট, যাতে বোঝা আবার হাতিয়ার হয়, ভয় নয়।
সামর্থ্যে ফেরা হালকা লাগা থেকে আলাদা এখানে: বদলায় জোরের পরিমাণ নয়, জানার দিক। হালকা লেগেছে মানে পাঁচ নম্বর ধরন আবার জবাব দিচ্ছে, আগের চেয়েও ভালো। ফিরেছে মানে সে জিজ্ঞেস করছে উত্তর না জেনে, লোকের সামনে, আর যে উত্তর পেল সেটা নিজের করে না সাজিয়ে মেনে নিচ্ছে। যাচাই একটাই: লোকের সামনে একটা ভুল, যার পরে সে কথাবার্তার মধ্যেই রয়ে গেছে।
04
আপনি এখন কোথায়
ইচ্ছায়, নাকি করতেই হয় বলে
ভয়টা কি সত্যি হয়ে গেছে
ভালো সপ্তাহের পরে আর খারাপ সপ্তাহের পরে কোথায় ফেরেন
ফলাফল অবস্থা দেখায়, ধাপ নয়
কাজের আগে যখন আপনি বই তোলেন, বইটা আনন্দ, নাকি শর্ত? যাচাই সহজ: বই ছাড়া ঢুকলে কী হবে। উত্তর যদি হয়, ঢুকব আর জায়গায় গিয়ে বুঝে নেব, তৈরি হওয়াটা মুক্ত, আর সেটা প্রথম তিন ধাপের একটা, সামর্থ্যে। যদি হয়, শেষ না করে ঢুকব না, জানা কাজের সামনে ছাড়পত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর সেটা মাঝামাঝিতে, বইটা যতই ভালো হোক। আপনার কি এমন জায়গা আছে, যেখানে আপনাকে দরকার, নাকি ঠিক করে নিয়েছেন যে এমন জায়গা নেই? ছয় নম্বর ধাপে পাঁচ নম্বর ধরন জায়গার জন্য এখনো লড়ে, পাশের লোককে ছোট করে হলেও; সাত নম্বরে জায়গাটাকে ফাঁকা ঘোষণা করে বেরিয়ে যায়। যে কাজ আপনি সবার চেয়ে ভালো বোঝেন, সেটা কিছুই নয় এই ভাবনা যদি ধরেন, জিজ্ঞেস করুন কে সেটা ঠিক করল: আপনি, নাকি ভয়, যা ঘটনার মর্যাদা পেয়ে গেছে। আর অভ্যস্ত ধাপ। ভালো সপ্তাহের পরে আপনি ফেরেন মানুষের কাছে, যা জানলেন তা নিয়ে, নাকি টেবিলে, আরও জানতে? খারাপ সপ্তাহের পরে কারো কাছে যান, নাকি অনেকদিন একা থাকেন? অভ্যস্ত ধাপ আপনার সেরা সপ্তাহ নয়, খারাপটাও নয়, সেটা যেখানে দুটো থেকেই ফিরে আসেন।
05
প্রশ্ন
এক ধাপ ওঠায় কত সময় লাগে?
দুটো উত্তর, দুটোই ঠিক। আজকের ধাপ এক দিনে বদলায়: সকালে পাঁচ নম্বর ধরন সবার সঙ্গে তর্ক করছিল, সন্ধ্যায় জানা বিলিয়ে দিচ্ছে হিসাব ছাড়া। অভ্যস্ত ধাপ, যেখানে সে ফিরে আসে, সরে বছরের হিসাবে, কারণ সেটা একটা সিদ্ধান্তে নয়, হাজারটা বারবার করা বাছাইয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এক দিনের জন্য ওঠা সহজ। এমনভাবে ওঠা, যাতে ধাপটা ঘর হয়, লম্বা কাজ।
কবলে থাকা পাঁচ নম্বর ধরন কি অন্য ধরন হয়ে যায়?
না। কবলে পাঁচ নম্বর ধরন পুরোপুরি পাঁচই হয়ে যায়, অন্য কেউ নয়: আড়াল সেই একই ধরে রাখা আর সেই একই জানা, কেবল নিজের বিরুদ্ধে ফেরানো। চাপের নিচে সাতের মতো ছড়িয়ে পড়া ফুটে উঠতে পারে, তবে সেটা একটা ছাপ, ধরন নয়, আর মানুষ নয়টি ধাপেই পাঁচ নম্বর ধরন থাকে। তাই প্রতিটি ধরনের সিঁড়ি আলাদা, সবার একটা নয়।
আমি অনেক পড়ি আর মানুষের কাছে কম যাই। এটা কি চার নম্বর ধাপ?
শুধু এটুকুতে নয়। পড়া একটা কাজ, আর ধাপ ঠিক হয় পড়াটা কাজে ঢোকার সঙ্গে কী করে তা দিয়ে। বই যদি কাজের পাশাপাশি চলে, সেটা দুই নম্বর ধাপও হতে পারে, তিন নম্বরও। বই যদি কাজের সামনে দাঁড়ায় আর শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজ শুরু না হয়, বই শর্ত হয়ে গেছে, আর শর্তটাই চার নম্বর ধাপ। গুনুন কতটা পড়লেন তা নয়, পড়ার পরে কী শুরু করলেন তা।
প্রথম ধাপগুলোতে পাঁচ নম্বর ধরন বর্ণনার সঙ্গে এত কম মেলে কেন?
কারণ বর্ণনা লেখা হয় সিঁড়ির মাঝখান থেকে, যেখানে অনেকে থাকে, আর সেখানে পাঁচ নম্বর ধরন চেনা যায় দূরত্ব আর তৈরি হওয়া দিয়ে। প্রথম ধাপগুলোতে সে তৈরি না হয়েই ঢোকে আর না ভেবেই জবাব দেয়, আর বাইরে থেকে সেটা সহজেই অন্য ধরন মনে হয়। ধরন বদলায়নি: সেই জানা, সেই মনোযোগ, কেবল খরচ হচ্ছে, জমানো হচ্ছে না। দূরত্ব একটা ধাপ, ধরন নয়।
ছয় নম্বর ধাপে পাঁচ নম্বর ধরন কি বোঝে মানুষের সঙ্গে কী করছে?
ভেতর থেকে এটা আঘাতের মতো দেখায় না। ছয় নম্বর ধাপে পাঁচ নম্বর ধরন নিশ্চিত যে সে সত্যি বলছে, আর সামনের লোক সেটা শোনার জন্য তৈরি নয়; তার কথার পরের চুপটাকে সে সায় বলে পড়ে। নিজে এটা দেখার একটাই উপায়: জিজ্ঞেস করা, কথার পরে মানুষটার কেমন লেগেছিল, আর উত্তর নিয়ে তর্ক না করা। প্রশ্নটা যদি বাড়তি মনে হয়, সেটাই ধাপের চিহ্ন।