বুদ্ধির কেন্দ্র
মাথার কেন্দ্র মানে বুদ্ধি নয়: ভয়ের তিন ঠিকানা
মাথার কেন্দ্র, ফলাফল এমন, আর আপনার বিশ্বাস হচ্ছে না: নিজেকে অন্যের চেয়ে বুদ্ধিমান ভাবেন না, আর পরিকল্পনা ছাড়াই চলে যান। বুদ্ধির কথা এখানে নয়। কিছু ঘটলে ভেতরে যেটা সবার আগে চালু হয়, সেটাই মাথা: কীসের উপর দাঁড়ানো যায়, সেই হিসাব কথার আগেই কষা। ধরনগুলোর গল্প এখানে নেই। এখানে তিনজনের সাধারণ জমি, ভয়ের তিন ঠিকানা, জোড়া ভাগ করার প্রশ্ন, আর বাকি দুই কেন্দ্রে চোখ।
01
তিনটির মধ্যে কী মেলে
মাথার কেন্দ্র
জগতের সঙ্গে দেখা ভাবনা দিয়ে: কথার আগেই হিসাব
- ভয়
- ভরসা আর নিরাপত্তা
- ভবিষ্যৎ: যা এখনো নেই তার আগাম বন্দোবস্ত
শরীরের কেন্দ্র
সীমানা আর প্রতিরোধ
হৃদয়ের কেন্দ্র
নিজের ছবি আর মূল্য
এই তিনজনের কাছে সব কথার আগে একটা প্রশ্ন আসে: কীসের উপর দাঁড়ানো যায়। কাকে বিশ্বাস, কী আশা, আর সব উল্টে গেলে দিশা হারানো এড়ানো যায় কীভাবে। জগতের সঙ্গে প্রথম দেখা ভাবনা দিয়ে: শরীরের বোধ আর অনুভূতির আগে এসে যায় হিসাব, কী ঘটতে পারে আর তখন কী করা। সময় ভবিষ্যৎ: এরা এক ধাপ এগিয়ে বাস করে আর বিমা করে তা, যা এখনো নেই।
সাধারণ আবেগ ভয়, আর তাকে সামলাতে না পারা মানে ঘন ঘন ভয় পাওয়া নয়। ভয় এখানে ভেতরের ভরসার অভাব: নিজের ভেতরে কোনো নিশ্চয়তা নেই, সেটা কোথাও থেকে আনতে হবে, আর তিনজন আনে নিজের মতো করে। একজনের ঘাটতি: ভয় চেপে রাখে আর দরকার কমিয়ে ফেলে, যাতে জগতের উপর কম নির্ভর করতে হয়। একজনের ভেতরের ভরসার সঙ্গে সংযোগ কাটা: ভয় থাকে সামনে, আর নিশ্চয়তা খোঁজা হয় বাইরে। একজন ব্যস্ততা রাখে বাড়তি, ভয় তার নিচে চাপা পড়ে, আর সে সামনে ছোটে।
ভেতর থেকে দেখলে “আমি কে” এখানে ঠিক হয় বোঝা দিয়ে: আমি কোথায় দাঁড়িয়ে তা দিয়ে নয়, লোকে কী ফেরত দেয় তা দিয়েও নয়। শরীরের কেন্দ্রের ভরসা আগে থেকেই আছে, সে তা সঙ্গে নিয়ে চলে; মাথার কেন্দ্র ভরসা পায় তখনই, যখন হিসাব শেষ হয়। হৃদয়ের কেন্দ্রের দরকার কেউ দেখুক; মাথার কেন্দ্রের দরকার জগৎটা আন্দাজ করা যাক।
02
তিনটি আলাদা করে
জিজ্ঞাসু
ঘাটতি: নিয়ন্ত্রণে
পাঁচ নম্বর ধরনে ভয় চাপা, আর এটা ঘাটতি: সে তা বাইরে আসতে দেয় না, বরং জগৎ থেকে এতটা দূরে সরে যায়, যেখান থেকে জগৎ তাকে ছুঁতে পারে না, আর দরকার কমিয়ে ফেলে যাতে জগতের উপর যতটা কম সম্ভব নির্ভর করতে হয়। বাইরে থেকে এটা ধরা পড়ে মিতব্যয়ে: সে চায় কম, সাহায্য ডাকে কদাচিৎ, আর আগে একা বুঝে নিতে পছন্দ করে, তারপর, যদি কখনো, ফলটা দেখায়।
জিজ্ঞাসুনিষ্ঠাবান
সংযোগ কাটা: মানাই হয় না
ছয় নম্বর ধরনে ভয় সামনে, আর ভেতরের ভরসার সঙ্গে সংযোগ কাটা: তিনজনের মধ্যে নিজের বিচারে তার আস্থা সবচেয়ে কম, তাই ভরসা খোঁজে বাইরে, মানুষে, নিয়মে, পরীক্ষিত জোটে। বাইরে থেকে এটা ধরা পড়ে সন্দেহে: যা ঠিক করে ফেলেছে সেটা আবার যাচাই করে, দ্বিতীয় মত চায়, আর যেখানে অন্যরা পরিকল্পনা দেখে, সেখানে ঝুঁকি দেখে ফেলে।
নিষ্ঠাবানউৎসাহী
বাড়তি: বাইরে বেরোয়
সাত নম্বর ধরনে ভয় ব্যস্ততায় ঢাকা, আর এটা বাড়তি: মাথা সারাক্ষণ ব্যস্ত, পথ নিয়ে, পরিকল্পনা নিয়ে, পরের মজার জিনিস নিয়ে, তাই যাকে ভয়, তার সঙ্গে দেখা করার সময়ই মেলে না। বাইরে থেকে এটা ধরা পড়ে গতিতে: একসঙ্গে কয়েকটা কাজ, অপ্রিয় প্রসঙ্গ থেকে প্রিয় প্রসঙ্গে দ্রুত সরে যাওয়া, আর চোখে পড়ার মতো অস্থিরতা তখন, যখন হঠাৎ পথ কমে আসে।
উৎসাহী03
তাদের আলাদা করে কীভাবে চিনবেন
অক্ষ একটাই: আবেগ কোন দিকে মুখ করে
- 5ঘাটতি: নিয়ন্ত্রণে
- 6সংযোগ কাটা: মানাই হয় না
- 7বাড়তি: বাইরে বেরোয়
তিনটি প্রশ্ন, প্রতি জোড়ায় একটি
- 56
- 67
- 75
অক্ষ একটাই: ভয় কোনদিকে ফেরানো। মেজাজ নয়, আর মানুষটাকে কতটা আত্মবিশ্বাসী দেখায় সেটাও নয়: চুপচাপ সাত আর কথা বলা পাঁচ উল্টোটার চেয়ে কম দেখা যায় না। পাঁচের ভয় ভেতরে ফেরানো আর দরকার কমিয়ে ধরে রাখা। ছয়ের বাইরে, মানুষের মধ্যে ভরসার খোঁজে। সাতের সামনে, সুযোগের দিকে দৌড়ে। বাকি সব তফাত এখান থেকে।
এবার তিনটি প্রশ্ন, এক জোড়া করে। পাঁচ না ছয়: ভয় পেলে আপনি একা বুঝে নিতে সরে যান, নাকি মানুষের কাছে জিজ্ঞেস করতে যান? প্রথমটা ভয় ভেতরে, দ্বিতীয়টা বাইরে। ছয় না সাত: পরিকল্পনা ভেঙে পড়লে আপনি খোঁজেন বিপদ আর কোথায় ওত পেতে আছে, নাকি সঙ্গে সঙ্গে দেখে ফেলেন তার বদলে এখন কী করা যায়? ছয় বিপদ খোঁজে, সাত পরের সুযোগ। সাত না পাঁচ: অপ্রিয় জিনিস আপনি এড়ান নতুন কিছুতে সরে গিয়ে, নাকি পাশে সরে দেখতে থেকে? সাত সরে যায় নতুনে, পাঁচ পাশে।
যে ভুলটা সবচেয়ে বেশি হয়, সেটা ছয়কে নিয়ে: তাকে হৃদয়ের ধরন ভেবে নেওয়া হয়, বেশিরভাগ বার দুই, কারণ সামনে থাকা ভয় মানুষের কাছে সমর্থন চায়, আর বাইরে থেকে সেটা ভালোবাসা পাওয়ার দরকারের মতো দেখায়। তফাত এখানে: দুইয়ের দরকার তাকে ভালোবাসা হোক, ছয়ের দরকার তাকে সমর্থন আর সায় দেওয়া হোক: প্রথমজন খোঁজে সাড়া, দ্বিতীয়জন ভরসা। ঝুঁকি সরিয়ে নিন: দুই সম্পর্কের জন্য পাশে থেকে যাবে, ছয় শান্ত হয়ে সরে যাবে।
04
এই কেন্দ্র বাকি দুটিকে কীভাবে দেখে
শরীরের কেন্দ্র
হৃদয়ের কেন্দ্র
যা সে বোঝে নাযাকে সে ছোট করে দেখে
শরীরের কেন্দ্রকে মাথার কেন্দ্র একটা জায়গায় বোঝে না: কী হবে তা না গুনে কেউ কাজে নেমে পড়ে কী করে। শরীরের ধরনের জোর তার চোখে বেপরোয়া, আর কম দামে মাপা হয় যে তার পেছনে আছে সেই ভরসা, যা শরীরের ধরন নিজের ভেতরে বয়, আর যার অভাব মাথার ধরনের নিজেরই। হৃদয়ের কেন্দ্রকে বোঝে না অন্য জায়গায়: কী হবে তা-ই যখন জানা নেই, তখন এটা কেমন দেখাবে তাতে এত শক্তি যায় কী করে। হৃদয়ের ধরনের ছবির প্রতি মনোযোগ তার চোখে হালকা ব্যাপার, আর কম দামে মাপা হয় যে মানুষকে টের পাওয়াও সামনে দেখার একটা উপায়, শুধু হিসাব দিয়ে নয়।
মিলে কাজ করার সময় এর একটা করে ফল আছে। শরীরের ধরনের কাছে মাথার ধরনের উচিত সন্দেহটা সোজা আর তাড়াতাড়ি বলা, একা বসে তার হিসাব না কষা: সে অপেক্ষা করছে চালের, বিরতির নয়। হৃদয়ের ধরনের সঙ্গে মনে রাখা উচিত যে “এটা কেমন দেখাবে” তার কাছে সাজ নয়, আর তার জবাব দিতে হয় সিরিয়াসভাবে।
05
প্রশ্ন
ছয়ের ভয়ই সবচেয়ে স্পষ্ট, তবু সে মাথার কেন্দ্রের মাঝখানে কেন?
কারণ ভাগের মাঝখান সে নয়, যার আবেগ সবচেয়ে কম, বরং সে, যার সংযোগ কাটা গেছে সেই জিনিসের সঙ্গে, যা দিয়ে কেন্দ্র কাজ চালায়। মাথা ভরসা খোঁজে, আর ছয়ের ভেতরের ভরসার সঙ্গে যোগ নেই: নিজের বিচারে তার আস্থা সবচেয়ে কম, তাই ভয় সামনে রাখে আর নিশ্চয়তা খোঁজে বাইরে। পাঁচ আর সাত ভয় লুকায়, যে যার মতো; ছয় একাই তার সঙ্গে খোলাখুলি বাঁচে।
মাথার কেন্দ্র মানে কি বুদ্ধিমান বা যুক্তিবাদী?
না। মাথা এখানে জগতের সঙ্গে দেখা করার প্রথম দরজা: কীসের উপর দাঁড়ানো যায় আর কী ভুল হতে পারে, সেই হিসাব, মেধা নয়, তত্ত্বের শখও নয়। মাথার ধরন কাজের মানুষ হতে পারে আর নিজেকে বুদ্ধিমান না-ও ভাবতে পারে, তবু ঝুঁকি কোথায়, সেটা ঘরে সবার আগে সে-ই দেখে ফেলে। কেন্দ্রকে চেনায় এই প্রথম প্রতিক্রিয়া, বুদ্ধি নয়।
এই কেন্দ্রের ভয় কি কাপুরুষতা?
কাপুরুষতা নয়, জ্বালানি। ভয় থেকে তিনজন পায় যা অন্য কেন্দ্রের কাছে কম: সামনে দেখতে পারা, ঝুঁকি অন্যের আগে ধরা, আর ভাগ্যের ভরসায় না থাকা। গোলমাল শুরু হয় সামলানোর ধরন বিগড়ালে: মানুষটা জগৎ থেকে পুরো সরে যায়, অন্যের নিশ্চয়তা ছাড়া সিদ্ধান্ত নেয় না, বা অপ্রিয় থেকে এত দ্রুত পালায় যে দেখেই না। কাজটা ভরসা নিয়ে, ভয় নিয়ে নয়।
কীভাবে বুঝব আমি মাথার কেন্দ্রে, হৃদয়ের কেন্দ্রে নয়?
সেই প্রথম সেকেন্ড দিয়ে, যখন সমস্যা খবর না দিয়ে এসে পড়ে। মাথার ধরন আগে সরে যায় আর পথ গোনে, অনুভব করে আর করে তারপর। হৃদয়ের ধরন আগে আঁচ করে ব্যাপারটা তার উপর কেমন পড়বে আর তাকে কেমন দেখা যাবে। প্রথম প্রতিক্রিয়া যদি প্রশ্ন হয়, “এখন কী হবে আর কী করা”, সেটা মাথা। সবার আগে যদি অনুভূতি আসে, নিজের বা অন্যের, সেটা হৃদয়।