ধারণা
ডানা কী: Enneagram-এ নিজের ডানা কীভাবে চিনবেন
হাতে ৪w৫ লেখা একটা ফল, বা পরীক্ষা বলেছে দুটো ডানা সমান, আর এখন প্রশ্ন: এটা কি দ্বিতীয় একটা ধরন, আধখানা ধরন, নাকি সংখ্যার পাশে বসানো একটা অক্ষর? কোনো একটা ডানার বর্ণনা এই পাতায় নেই, তার জন্য আঠারোটা আলাদা পাতা আছে। এখানে আছে কলটা নিজে: ডানা কোথা থেকে আসে, নিজেরটা কীভাবে চিনবেন, সমান মানে কী, আর এক রাতে ডানা কেন বদলায় না।
01
ডানা কী
- কায়দা বদলায়: ভঙ্গি, গতি, কঠিন দিনে আপনি কোথায় সরে যান
- তাগিদ বদলায় না: ভয় আর চাওয়া ঠিক করে ধরন
- পাশের নয়: এমন লেখা হয় না
বৃত্তে প্রতিটি ধরনের পাশে দুটো ধরন বসে, আর ডানা হল সেই দুটোর একটা: যেদিকে ধরনটা হেলে আছে। চার নম্বর ধরনের পাশে তিন আর পাঁচ, তাই তার ডানা তিন বা পাঁচ, এক বা নয় কখনো নয়। এই হেলে থাকাটা চারকে আধখানা তিন বানায় না: ধরন একটাই থাকে, তার নিজের মূল ভয় আর নিজের মূল চাওয়া নিয়ে, আর ডানা ঠিক করে সেগুলোর সঙ্গে সে কোন কায়দায় চলে। সেই কারণেই ৪w৩ আর ৪w৫ এক ধরনের দুজন মানুষ, দুটো ধরন নয়, দুটোর মিশেলও নয়।
হেলে থাকাটা কী বদলায়: চালচলন, গতি, কঠিন দিনে মানুষটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, আর তার জোরটা বাইরে থেকে কেমন দেখায়। কী বদলায় না: ভেতরের তাড়না। কীসে ভয় আর কী চাই, সেটা ধরন ঠিক করে, আর দুটো ডানাতেই সেটা এক। এখান থেকে একটা সোজা মাপকাঠি: দুজন যদি আলাদা হন কীসের জন্য কাজ করছেন তাতে, তাঁরা আলাদা ধরন; লক্ষ্য এক কিন্তু হাতের লেখা আলাদা হলে, সেটাই ডানার তফাত।
লেখাটা পড়ার নিয়ম ছোট: অক্ষরের আগের সংখ্যা ধরন, পরের সংখ্যা সেই পাশের ধরন যেদিকে হেলে আছে। ৬w৭ মানে ছয় নম্বর ধরন সাতের দিকে হেলে, আর w এসেছে ইংরেজি wing থেকে, তার বেশি কিছু নয়। ডানা আসে কেবল বৃত্তে পাশের দুটো ধরন থেকে, তাই ৭w৩ বা ৯w৪ বলে কিছু হয় না: তিন সাতের পাশে নেই, চার নয়ের পাশে নেই। বৃত্তের ভেতরের রেখাগুলো অন্য কল: সেগুলো দূরের বিন্দুতে যায়, ডানার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেই।
02
নিজেরটা কীভাবে চিনবেন
- কাজ মিটে গেলে আপনি কোথায় সরে যান
- কঠিন দিনে পাশের কোন ধরনের মতো লাগেন
- অচেনা লোক আপনার মধ্যে পাশের কোন ধরনকে চেনে
- উত্তর মিলল না: ওজন তৃতীয়টার
বাইরে থেকে ডানা চোখে পড়ে মানুষটা কী চায় তাতে নয়, সেটা সে কীভাবে করে তাতে। তাড়না দিয়ে ডানা খোঁজার উপায় নেই: দুটো ডানার তাড়না এক, সেটাই তো ধরন। খুঁজতে হয় হাতের লেখায়: গতিতে, আসল কাজটা সারা হলে মন কোথায় যায় তাতে, কঠিন দিনে পাশের দুটোর কোনটা ফুটে ওঠে তাতে। পাশের দুটো ধরনের বর্ণনা পড়া তখন কাজে লাগে, নিজের ছবি হিসেবে নয়, একই মানুষের দুটো সম্ভাব্য ছায়া হিসেবে।
তিনটে প্রশ্ন, যেকোনো ধরনে চলে। প্রথম: কাজ শেষ, চাপ নেমে গেছে, তখন আপনি কোন দিকে যান, মানুষ আর বাইরের জগতের দিকে, নাকি ভেতরে, নিজের জিনিসের দিকে? দ্বিতীয়: কঠিন দিনে, শক্তি যখন কম, পাশের দুটোর কার মতো হয়ে উঠতে থাকেন, কোন অভ্যাসগুলো আগে ভেসে ওঠে? তৃতীয়: যাঁরা আপনাকে বাইরে থেকে দেখেন আর ধরনের নামও জানেন না, তাঁরা আপনার মধ্যে পাশের দুটোর কাকে চেনেন? উত্তর দিন গত এক বছরের ঘটনা ধরে, যেমন হতে চান সেটা ধরে নয়।
তিনটে উত্তর একই পাশের ধরন দেখালে ডানা পাওয়া গেল। আলাদা হয়ে গেলে সেটাও উত্তর, আর আন্দাজের চেয়ে সৎ: হয় হেলে থাকাটা অল্প, নয়তো প্রশ্নগুলো আলাদা স্তরে লেগেছে। তখন ওজন তৃতীয়টার, কারণ অন্যের চোখ চাওয়ার দিকে বেঁকে যায় না। এর পরের ধাপ নিজের ধরনের দুটো ডানার পাতা: সেখানে একটাই তফাত দুই দিক থেকে লেখা, আর তাতেই বোঝা যায় কোন দিকটা কাছের।
03
সমান দুই ডানা আর ডানা বদল
সমান সমান: এটা অবস্থা, গোলমাল নয়
এননিয়াগ্রাম ইনস্টিটিউট: প্রধান ডানা স্থির থাকে
ন্যারেটিভ ঘরানা: সক্রিয় ডানা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে
দুটো ডানা সমান হওয়া পরীক্ষার গোলমাল নয়, অসম্পূর্ণ মানুষও নয়। মানুষের একটা চোখে পড়ার মতো অংশে পাশের দুটো ধরন একই জোরে ফুটে থাকে, আর এমন মানুষ দুটো হেলে থাকা নিয়েই বাঁচেন: পরিস্থিতি বুঝে কখনো এক কায়দা, কখনো অন্যটা। এটা একটা অবস্থা, যার নিজের সুবিধা আছে, চাল বেশি, আর নিজের দামও: নিজেকে এক লাইনে বলা কঠিন হয়ে যায়। কতটা ঘন ঘন এমন হয়, তার হিসাব পদ্ধতির পাতায়।
ডানা কি বদলায়? এক উত্তর নেই, আর সুবিধাজনক একটা পক্ষ নেওয়ার চেয়ে সেটা সোজা বলে দেওয়াই সৎ। রিসো আর হাডসনের Enneagram Institute প্রধান ডানাকে স্থির ধরে, আর মেনে নেয় যে জীবনের কোনো কোনো পর্বে দ্বিতীয়টা বেশি ফুটে উঠতে পারে। পামার আর ড্যানিয়েলসের ন্যারেটিভ ধারা দুটো ডানাকেই খোলা ধরে, আর কোনটা সক্রিয় সেটা পরিস্থিতির উপর। যা দেখা যায়, তাতে দুই পক্ষ মেলে: এক দিনের মধ্যে প্রধান ডানা বদলায় না, আর দশকের মাপে ভারটা অন্য পাশের ধরনের দিকে সরে যেতে পারে।
এর থেকে পাঠকের জন্য কী দাঁড়ায়। ডানার ফল হল এখনকার হেলে থাকার ছবি, সারা জীবনের লেখা নয়। দশ বছর পরে অন্য লেখা এলে সেটা দুবারের কোনোটার ভুল নয়। দ্বিতীয় ডানা নিজে থেকে গড়ে উঠবে, এমন কথা দেওয়ার অধিকার কারো নেই। বেশি কাজের হল পাশের দুটোকে ধরনের দুটো কায়দা হিসেবে হাতে রাখা, আর খেয়াল করা মানুষটা কোনটা বেশি ব্যবহার করে।
04
ব্যক্তিত্ব পরীক্ষা ডানা কীভাবে গোনে
পাশের দুই ধরনের প্রশ্নে সম্মতি
তফাত, তার ত্রুটির তুলনায়
তফাত স্পষ্ট: ডানার নাম বলা হলো
১২বাড়তি প্রশ্ন, দুটির মধ্যে সরাসরি বাছাই
আলাদা হলো না: ফলাফলে পাশের দুই ধরন সমান সমান
পরীক্ষা ডানা গোনে ধরন থেকে আলাদা করে: পাশের দুটো ধরনের বাক্যগুলোর সঙ্গে কতটা মিল, সেটা তুলনা করে, আর ধরনের নিজের যে বাক্যগুলো কোনো এক পাশে হেলে আছে সেগুলোর জন্য হিসাবটা শুধরে নেয়। ডানা ঘোষণা করা হয় তখন, যখন তফাতটা তার ভুলের মাত্রার চেয়ে স্পষ্ট বড়। তফাত অল্প হলে ডানার নাম বলা হয় না, বাড়তি একটা অংশ দেওয়া হয়: বারোটা দুই-মেরুর বাক্য, প্রতিটিতে দুটো কায়দার মধ্যে সরাসরি বাছাই। বাড়তি অংশের মাপ মূল মাপের সঙ্গে জোড়া হয়, আর যেটায় গোলমাল কম, তার ওজন বেশি। সূত্রটা পদ্ধতির পাতায়।
বাড়তি অংশের পরেও ডানা আলাদা না হলে ফল দুটো পাশের ধরনকে সমান দেখায় আর সেটা সোজাসুজি বলে। এক পয়েন্টের তফাতে ডানার নাম বলে দেওয়ার চেয়ে এটা সৎ: তেমন লেখা নিশ্চিত দেখাত, আর হত কাকতালীয়। লেখায় দুটো পাশের ধরন মানে ঠিক এটাই: হেলে থাকাটা অল্প, আর ধরনের দুটো ডানার পাতাই এই মানুষটার কথা।
06
প্রশ্ন
ডানা কি বদলাতে পারে?
জীবনের মাপে ভারটা অন্য পাশের ধরনের দিকে সরে যেতে পারে, আর এখানে Enneagram-এর ধারাগুলো একমত নয়: Enneagram Institute প্রধান ডানাকে স্থির ধরে, ন্যারেটিভ ধারা পরিস্থিতির সঙ্গে বদল মেনে নেয়। এক দিন বা এক সপ্তাহে ডানা বদলায় না। কয়েক বছর পরে অন্য লেখা এলে সেটা অন্য একটা ছবি, কোনোটার ভুল নয়।
৬w৭ লেখাটার মানে কী?
ছয় নম্বর ধরন, পাশের সাতের দিকে হেলে। প্রথম সংখ্যা আপনার ধরন, দ্বিতীয়টা বৃত্তে তার পাশের দুটোর একটা, আর w এসেছে wing থেকে। ছয় তার নিজের মূল ভয় আর মূল চাওয়া নিয়ে ছয়ই থাকে; ডানা ঠিক করে সেগুলো সামলানোর কায়দা, লক্ষ্য নয়। এটা ছয় আর সাতের মিশেল নয়, দ্বিতীয় ধরনও নয়, একটা ধরনের হেলে থাকা।
ডানা কি পাশের ধরন ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে, যেমন ৪w৮?
না। ডানা আসে কেবল বৃত্তে নিজের পাশের দুটো বিন্দু থেকে: চারের বেলায় তিন আর পাঁচ। দূরের কোনো ধরনের সঙ্গে মিল, ধরুন চারের সঙ্গে আটের, অন্য কারণে হয়: বৃত্তের ভেতরের রেখা, একই কেন্দ্র, বা কাছাকাছি অবস্থা, ডানা নয়। কোথাও ৪w৮ গোছের লেখা চোখে পড়লে সেটা লেখার ভুল, বিরল কোনো রূপ নয়।
পরীক্ষা দুটো ডানা সমান দেখালে কী করবেন?
নিজের ধরনের দুটো ডানার পাতা পড়ুন, আর দেখুন গত এক বছরের কাজে দুটো কায়দার কোনটা আপনার বেশি ভেসে উঠেছে। সমান একটা অবস্থা, ফাঁক নয়: পাশের দুটোই আপনার হাতে, আর তাতে চাল বেশি। সংখ্যা আলাদা করতে চাইলে বারোটা বাক্যের বাড়তি অংশ আছে, প্রতিটিতে দুটো কায়দার মধ্যে সরাসরি বাছাই।
ডানা কি দ্বিতীয় একটা ধরন?
না। দ্বিতীয় ধরন হল আপনি কে তা নিয়ে আলাদা একটা অনুমান; ডানা হল পাওয়া-যাওয়া ধরনের হেলে থাকা। সন্দেহ যদি পাশাপাশি দুটো ধরনের মধ্যে হয়, ধরুন চার আর পাঁচ, সেটা ধরনের প্রশ্ন, আর তার মীমাংসা তাড়না দিয়ে, ডানা দিয়ে নয়। ডানা আসে ধরন পাওয়ার পরে, আর সেই ধরনেরই পাশের দুটোর মধ্যে বাছে।