enneagramwing

4 নম্বর ধরনের বিকাশের ধাপ

Enneagram ৪ নম্বর ধরনের বিকাশের ধাপ: ধরে রাখা আর যেতে দেওয়ার মাঝে

যে অবস্থা আপনি ফলাফলে দেখেছেন, তার ভেতরে তিনটি ধাপ, আর সেগুলো আলাদা হয় একটা জিনিসে: অনুভূতি এলে আপনি তাকে যেতে দেন, নাকি ধরে রাখেন। এখানে চার নম্বর ধরনের নয়টি ধাপ পরপর, দুটি সীমানা, যেখানে অবস্থার গড়নটাই বদলে যায়, আর নিজেকে মিলিয়ে নেওয়ার তিনটি প্রশ্ন। নয়টির প্রতিটিতে আপনি চার নম্বর ধরনই: বদলায় ধরন নয়, আলাদা হওয়া নিয়ে আপনি কী করেন।

01

নয়টি ধাপ

  1. 1 নম্বর ধাপ

    কাজে ঢালা অভিজ্ঞতা

    আলাদা হওয়া এখানে নিজের জন্য রাখা হয় না: যা ভোগ করা হল, তা হাত দিয়ে বেরিয়ে এসে এমন জিনিস হয়, যা অন্যরা ব্যবহার করে। চার নম্বর ধরন আলাদা হওয়াকে পাহারা দেয় না, দেখায়ও না, সেটা নিজে থেকে হয়। চিহ্ন: তার সবচেয়ে কষ্টের বছরটা একটা গানের ভেতরে ঢুকে গেছে, আর গানটা লোকে নিজের গল্প বলে গায়।

  2. 2 নম্বর ধাপ

    অনুভূতি আর কাজের ফাঁক

    অনুভূতি এখনো মুক্ত হাতে দেওয়া হয়, তবে চার নম্বর ধরন আগে তার দিকে তাকায়: কোথা থেকে এল, নাম কী, কাজে লাগানো যায় কি না। বোধ আর কাজের মাঝখানে একটা ফাঁক আছে, আর ফাঁকটা তার নিজের। চিহ্ন: চিঠিটা সে রাতে লেখে, পাঠায় সকালে, আর সকালে অর্ধেকটা কেটে দেয়।

  3. 3 নম্বর ধাপ

    পাহারা ছাড়া আলাদা হওয়া

    চার নম্বর ধরন নিজেকে দেখায় যেমন আছে তেমন, নিজের অপছন্দের দিক সমেত, আর আলাদা ব্যবহার চায় না। আলাদা হওয়া থাকে, তবে তার উপর থেকে পাহারা উঠে গেছে: সেটা নিয়ে কথা বলা যায়, তার সঙ্গেই হাসা যায়। চিহ্ন: সবচেয়ে ব্যক্তিগত লেখাটা সে পড়তে দেয় এমন লোককে, যে সেটা বোঝে না, আর তাতে ব্যথা পায় না।

  4. 4 নম্বর ধাপ

    কল্পনায় বাড়ানো অনুভূতি

    মোড়: অনুভূতি নিজে থেকে যায় না, চার নম্বর ধরন সেটা ধরে রাখে আর কল্পনায় বাড়ায়। যা হয়নি তা সে গড়ে নেয় আর হয়েছে বলে ভোগ করে। অনুভূতি দিয়ে দেওয়া এখনো যায়, ছেড়ে দিতে মায়া লাগে। চিহ্ন: একটা সাধারণ বিদায়ের পরে সে তিন দিন সেই বিদায়ের ভেতরে থাকে, আর যে গেছে সে পরদিনই ফোন করে।

  5. 5 নম্বর ধাপ

    বিশেষ জনের আসন

    আলাদা হওয়া প্রথমবার অন্যের কাছে দাবি হয়: চার নম্বর ধরন আশা করে যে তাকে বিশেষ বলে দেখা হবে আর সবার মতো করে চলা হবে না। পাশে যা বলা হয়, সে নিজের গায়ে নেয়, ভেতরে নিয়ে যায়, আর তৈরি সিদ্ধান্ত হয়ে ফেরত দেয়। চিহ্ন: দলের সবাইকে পাঠানো একই বার্তাটা সে পড়ে নিজের প্রতি একটা খোঁচা হিসেবে।

  6. 6 নম্বর ধাপ

    নিয়মের বাইরের ছাড়

    চার নম্বর ধরন নিজেকে ছাড় দেয় সেসব থেকে, যা বাকিদের জন্য বাধ্যতামূলক: সময়সীমা, সংসারের কাজ, ভদ্রতা এসব গভীরতা ছাড়া মানুষের জন্য, তার হিসাব আলাদা। বিশেষ হওয়া আর আশা নয়, আদায়, আর দাম দেয় চারপাশের লোক। চিহ্ন: দেরিটা সে ব্যাখ্যা করে না, কারণ যারা অপেক্ষা করল, তাদের সময়ের দাম তার চোখে নেই।

  7. 7 নম্বর ধাপ

    না-হওয়া নিয়ে থমকে যাওয়া

    ভাবা কাজটা হল না, আর চার নম্বর ধরন তার উপর পুরোপুরি থেমে যায়: করে না, জবাব দেয় না, বেরোয় না। আলাদা হওয়া এখন রক্ষা পায় সবার জীবন থেকে নিজেকে বন্ধ করে, যাতে সেখানে সাধারণ হয়ে না পড়ে। চিহ্ন: জন্মদিনের নিমন্ত্রণে সে হ্যাঁ বলে, দিনটায় ফোন বন্ধ রাখে, আর পরের সপ্তাহে কাউকে মুখ দেখায় না।

  8. 8 নম্বর ধাপ

    নিজের দিকে ফেরানো অস্ত্র

    চার নম্বর ধরন অস্ত্র নিজের দিকে ফেরায়: যা দিয়ে সে আলাদা ছিল, তা এখন তার বিরুদ্ধে সাক্ষী, তুচ্ছ জিনিসও প্রমাণে যায়। একটা অধিকার বাকি থাকে: সবার মতো না হওয়া, খারাপ দিকে হলেও। চিহ্ন: যে ভালো কথাটা তাকে বলা হয়, সেটা সে ফিরিয়ে দেয় এই প্রমাণ দিয়ে যে কথাটা ভুল, আর যে বলেছিল সে চুপ করে যায়।

  9. 9 নম্বর ধাপ

    নিজের থেকে সরে যাওয়া

    চার নম্বর ধরন খোঁজে নিজে না হওয়ার একটা উপায়: ভাঙা এখানে হঠাৎ আবেগ নয়, পদ্ধতি, আর সেটা ভেতরের দিকে ফেরানো। আলাদা হওয়া চূড়ান্ত রক্ষিত, কারণ রক্ষার আর কিছু নেই। চিহ্ন: নিজের জিনিস সে বিলিয়ে দিতে শুরু করে, যত্ন করে, কাকে কোনটা ভেবে। এখানে ডাকের অপেক্ষা চলে না, সাহায্য লাগে না চাইতেই।

02

নামা কীভাবে শুরু হয়

  1. সামর্থ্যেমূল জিনিসটা নিজের ইচ্ছায় দেওয়া হয়
    প্রথম সীমানা: ইচ্ছার জিনিস দায় হয়ে ওঠে
  2. মাঝামাঝিতেমূল জিনিসটা অন্যের কাছে দাবি হয়ে ওঠে
    দ্বিতীয় সীমানা: ভয়টা সত্যি হয়
  3. কবলেমূল জিনিসটা বাঁচাতে গিয়ে ভাঙা হয়

তিন আর চার নম্বর ধাপের সীমানা যায় অনুভূতির উপর দিয়ে। তার আগে অনুভূতি আসে, কাজ করে আর চলে যায়, আর আলাদা হওয়া বেরোয় তা দিয়ে যা করা হল তা থেকে। ওপারে অনুভূতিকে ধরে রাখতে হয়: তা ছাড়া চার নম্বর ধরন নিজেকে চেনে না। প্রথম পা: কথাবার্তা শেষ, আর সে ছাড়ে না, না-বলা কথা বানিয়ে নেয় আর বানানোটা ভোগ করে আসলের চেয়ে জোরে। এখান থেকে আলাদা হওয়া দাবি হয়: প্রথমে কল্পনার কাছে, তারপর মানুষের কাছে, যারা সেটা দেখতে বাধ্য।

ছয় আর সাত নম্বর ধাপের সীমানা যায় সেই ভয়ের উপর দিয়ে, যে জীবন পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে আর সুযোগ নষ্ট হচ্ছে। মাঝামাঝিতে ভয়টা হুমকি, আর চার নম্বর ধরন জবাব দেয় নিজেকে নিয়মের বাইরে রেখে: সময়সীমা তার জন্য নয়, সাধারণ কাজ তার নিচে। সাত নম্বর ধাপে ভয়টা তারিখ সমেত সত্যি হয়: ফেলে রাখা কাজ হয়নি, যারা অপেক্ষায় ছিল তারা থেমেছে, হারানোটা কল্পনাতেও ফেরে না। যা আর ফেরে না, তা একটাই: আলাদা হওয়া আর কাজ দিয়ে দেখানো যায় না, সেটা হয়ে থাকে যা চার নম্বর ধরন সহ্য করে। বিশেষ হওয়া দাঁড়ায় ব্যথায়, কাজে নয়।

03

কী আবার তুলে আনে

  1. সামর্থ্যে
    দ্বিতীয় ফেরা: হালকা লাগা এক জিনিস নয়
  2. মাঝামাঝিতে
    প্রথম ফেরা: যে কাজ কেবল সীমানার এই দিক থেকে করা যায়
  3. কবলে

কবল থেকে মাঝামাঝিতে ফেরায় একটা কাজ, যা কেবল নিচ থেকেই করা যায়: হারানোটাকে হারানো বলে মেনে নেওয়া। তার মধ্যে গভীরতা খোঁজা নয়, একটা নির্দিষ্ট কাজ সম্বন্ধে বলা যে সেটা আর হবে না, আর তার জায়গায় নতুন ছক না গড়া। সাত নম্বর ধাপে এটাই একমাত্র চাল: কল্পনা সেখানে আর মানুষের পক্ষে নেই। দ্বিতীয়টা: যে পাশে রয়ে গেছে তাকে ঢুকতে দেওয়া, সে সব বুঝেছে কি না যাচাই না করে। নিচে চার নম্বর ধরন ঠেলে দেয় আগে, আর ওঠা শুরু হয় যেবার সে সেটা করে না।

সামর্থ্যে ফেরা হালকা লাগা থেকে আলাদা অনুভূতির জোরে নয়, তার পরে কী হয় তাতে। মাঝামাঝিতে হালকা লাগে, যখন অনুভূতি আবার ধরে রাখতে ভালো লাগে। সামর্থ্যে চার নম্বর ধরন অনুভূতিকে শেষ হতে দেয় আর পিছু নেয় না, আর যা বানাল তা দিয়ে দেয়, তাতে তাকে দেখা গেল কি না জেনে নয়। ভালো দিনটা যদি টেনে লম্বা করতে ইচ্ছে করে, সেটা মাঝামাঝি; যদি দিনটা শুধু শেষ হয় আর সকালে পরের কাজ থাকে, সীমানা পেরোনো হয়েছে।

04

আপনি এখন কোথায়

  1. ইচ্ছায়, নাকি করতেই হয় বলে

  2. ভয়টা কি সত্যি হয়ে গেছে

  3. ভালো সপ্তাহের পরে আর খারাপ সপ্তাহের পরে কোথায় ফেরেন

ফলাফল অবস্থা দেখায়, ধাপ নয়

আজ যখন জোরালো একটা অনুভূতি আসে, আপনি তাকে শেষ হতে দেন যখন সে শেষ হয়, নাকি ধরে রাখেন আর সাজান, কারণ তা ছাড়া দিনটা ফাঁকা? প্রশ্নটার সৎ রূপ স্বাধীনতা নিয়ে: ধরে রাখাটা কি এমন জিনিস, যা আপনি চাইলে থামাতে পারেন, নাকি এমন, যার জন্য কৈফিয়ত দিতে হত? এটাই সামর্থ্য আর মাঝামাঝির সীমানা। পরের প্রশ্ন মাঝামাঝি আর কবলের মধ্যে। যা আপনি সবার মতো করে করেননি: সেটা এখনো করতে পারতেন, নাকি সময় চলে গেছে আর আপনি সেটা জানেন? জীবন পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে এই ভয়টা কি ভয়ই রয়ে গেছে, যার সঙ্গে আপনি তর্ক করেন, নাকি একটা তালিকা হয়ে গেছে, যা পড়া যায়? আর অভ্যস্ত ধাপ। ভালো সপ্তাহের পরে আপনি কোথায় ফেরেন: যে কাজ অপেক্ষা করছে সেখানে, নাকি যে অনুভূতি জমিয়ে রেখেছেন সেখানে? খারাপ সপ্তাহের পরে: যাদের চোখে আপনি এখনো দেখা যান তাদের কাছে, নাকি যেখানে কেউ দেখে না সেখানে? দুটোর পরেই যেখানে আসেন সেটাই আপনার অভ্যস্ত ধাপ, সেরা দিনটা নয়, খারাপটাও নয়।

05

প্রশ্ন

একটা ধাপ উঠতে কত সময় লাগে?

দুটো উত্তর, দুটোই ঠিক। এখনকার ধাপ এক দিনে বদলায়: পাঁচ থেকে চার নম্বর ধরন এক সকালে তিন নম্বরে ওঠে আর সন্ধ্যায় সাত নম্বরে নামে। অভ্যস্ত ধাপ, যেখানে সে ফিরে আসে, সরে বছরে বছরে আর বারবার করার ফলে, বোঝার ফলে নয়। একবার ওঠা এক ঘণ্টার ব্যাপার। সেই ঘণ্টাকে ফেরার জায়গা বানানো বছরের কাজ, আর তাড়াতাড়ি বোঝা মানে তাড়াতাড়ি পেরোনো নয়।

কবলে থাকা চার নম্বর ধরন কি অন্য ধরন হয়ে যেতে পারে?

না। সিঁড়ি মাপে চার নম্বর ধরন একই জিনিস কতটা শক্ত করে ধরে আছে, কী ধরে আছে তা নয়। কবলে সে আগের মতোই সব কিছু আলাদা হওয়ার চারপাশে সাজায়, কেবল এখন ভেঙে, দিয়ে নয়। তাই চার নম্বর ধরনের নিচের ধাপ পাঁচ বা আটের নিচের ধাপের মতো নয়: রক্ষা করা হচ্ছে অন্য জিনিস। কবলে চার নম্বর ধরন নিজের ব্যঙ্গচিত্র, অন্য নম্বর নয়।

চার নম্বর ধরনের নিজের মাঝামাঝি ধাপ দেখতে পাওয়া কঠিন কেন?

কারণ ভেতর থেকে সেটা গভীরতার মতো লাগে। অনুভূতিকে তার আয়ুর চেয়ে বেশি ধরে রাখা, যা হয়নি তা গড়ে নেওয়া, সাধারণ থেকে দূরে থাকা: চার নম্বর ধরন এসব ভোগ করে সম্পদ হিসেবে, আর সাহিত্য ঠিক এর জন্যই তার প্রশংসা করে। চার নম্বর ধাপ, যেখানে ধরে রাখা শুরু হয়, তখনো ব্যথা দেয় না। তাই যাচাইয়ের প্রথম প্রশ্ন ধরে রাখা নিয়ে, কষ্ট নিয়ে নয়।

সামর্থ্যে থাকা মানে কি চার নম্বর ধরন কম অনুভব করে?

না। প্রথম তিন ধাপে অনুভূতি বাকিগুলোর মতোই তীক্ষ্ণ, আর তার চেয়ে বেশিও, কারণ তাকে কেউ সামলায় না। যায় ধরে রাখাটা। অনুভূতি আসে, কাজে যায় বা নাম পায় আর শেষ হয়, আর চার নম্বর ধরন তার পিছু নেয় না। বাইরে থেকে মনে হতে পারে সে চুপ মেরে গেছে। ভেতর থেকে উল্টো: টের পাওয়া বেশি, জমা রাখা কম।

ছয় নম্বর ধাপ দেখতে অহংকারের মতো। এটা কি কবল?

এখনো নয়। ছয় নম্বর মাঝামাঝির শেষ ধাপ, আর সাধারণকে তুচ্ছ করা হল বিশেষ হওয়া দাবি করার উপায়, যেটা আর কেউ খুশিমতো দেয় না। চার নম্বর ধরন এখনো ধরে আছে: কাজ খারাপ করে, তবে করে, ছাড়টা এখনো দাবি, ঘটনা নয়। কবল শুরু হয় ছাড়টা সত্যি হয়ে গেলে: অসমাপ্তটা সত্যিই অসমাপ্ত, আর সে আর না করার সিদ্ধান্ত নেয় না, পারে না।

এরপর কোথায়

এটি সাধারণ ক্রমের একটি জায়গা। ব্যক্তিত্ব পরীক্ষা দিলে ক্রমটি আপনার জন্য সেজে যাবে।

  1. 01অনুভূতিপ্রবণআপনি কে
  2. 024w34w5আপনার রং
  3. 03এখন আপনি কোন অবস্থায়এখন আপনি কোন অবস্থায়আপনি এখানেপাতাটি লেখা হচ্ছে

নিজের ধরন, ডানা আর ধাপ জানুন

১০৮টি প্রশ্ন, ফলাফল সঙ্গে সঙ্গে

নিজের ধরন, ডানা আর ধাপ জানুন