enneagramwing

হৃদয়ের কেন্দ্র: নয়টি ধরনের তিন ভাগের একটি

এননিয়াগ্রাম টাইপ 4. অনুভূতিপ্রবণ

চার নম্বর ধরনের চোখ প্রথমে গিয়ে পড়ে ফাঁকটার উপর: এখানে কী নেই, আমার মধ্যে কী কম পড়ে গেছে, অন্যদের কাছে যা আছে সেটা আমার কাছে নেই কেন। এই দেখাটাই তাকে গভীর করে, রুচি দেয়, আর মানুষের ব্যথা টের পাওয়ার কান দেয়। এটিই আবার তাকে নিজের জীবনে পুরোপুরি ঢুকতে দেয় না, কারণ যে জিনিসটা হাতে আছে, সেটির দাম ফাঁকটার পাশে ছোট দেখায়। প্রশ্নটা তাই দুঃখ নিয়ে নয়, প্রশ্নটা হল, হাতে যা আছে তাকে কখন যথেষ্ট বলা যায়।

ডানা
4w34w5
বাড়ার রেখা
1
চাপের রেখা
2

ধরনের চরিত্র, দুই পাশে দুটি ডানা

123456789

আকৃতির উপর বিন্দু: ডানা আর দুটি রেখা

01

ভেতর থেকে এটি কীভাবে চলে

সবচেয়ে বড় ভয়

চার নম্বর ধরনের ভেতরে যে ভয়টা কাজ করে, সেটি একা হয়ে যাওয়ার নয়, নিজের বলে কিছু না থাকার। ভেতরের কথাটা এরকম: আমার মধ্যে এমন কিছু নেই, যার জন্য কেউ ঠিক আমাকেই বেছে নেবে। তাই সে নিজের আলাদা হওয়াটা ধরে রাখে, কখনো রুচিতে, কখনো কাজে, কখনো ব্যথাতেও, কারণ আলাদা হওয়াটা হাতছাড়া হলে থাকে কেবল সাধারণ হয়ে মিশে যাওয়া। বাইরে থেকে একে অহংকার বলে ভুল হয়, আর ভেতর থেকে এটি ঠিক উল্টো: এটি নিজের থাকার প্রমাণ খোঁজা।

সবচেয়ে বড় ইচ্ছা

চাওয়াটা এর ঠিক উল্টো পিঠে: নিজের বলে একটা পরিচয়, আর সেই পরিচয়ে কারো চোখে পুরোপুরি দেখা পাওয়া। সাজানো নয়, সামলানো নয়, যেমন আছে তেমনভাবেই দেখা পাওয়া। এই চাওয়াটা তীব্র, আর তীব্র বলেই মেটানো কঠিন: কেউ কাছে এলে মনে হয় সে আসলে পুরোটা দেখছে না, আর পুরোটা দেখলে হয়তো সরে যাবে। ফলে কাছে আসা আর দূরে ঠেলা দুটোই একসঙ্গে চলতে থাকে, আর মানুষটি নিজেই তাতে ক্লান্ত হয়।

সবচেয়ে বড় দুর্বলতা

এই ধরনের কল চলে হিংসায়, আর হিংসা এখানে অন্যের জিনিস কেড়ে নেওয়ার ইচ্ছা নয়। এটি এমন একটা টান, যা বারবার তুলনার দিকে নিয়ে যায়: ওর কাছে যা আছে সেটা আমার কাছে নেই, আর না থাকাটাই বোধহয় আমার আসল পরিচয়। এই তুলনাটা চোখে পড়ে না, কারণ সেটি রুচির চেহারা নিয়ে আসে। দাম দেয় সে একটাই জায়গায়: হাতে যা আছে তার স্বাদ পাওয়া যায় না, কারণ মনোযোগ ফাঁকটার দিকেই থাকে।

বারবার যেখানে ফিরে আসেন

চক্রটা এভাবে বন্ধ হয়ে যায়। একটা ফাঁক চোখে পড়ে, আর সেই ফাঁকটাই ঠিক করে দেয় আমি কে। ফাঁকটা ভরাতে মানুষটি নিজের ভেতরে ডুব দেয়, লেখে, ভাবে, কল্পনা করে, আর কল্পনায় জিনিসটা যতটা সুন্দর হয়, বাস্তবে ততটা হয় না। বাস্তবের সঙ্গে তুলনা করে সে হতাশ হয়, আর হতাশা প্রমাণ করে যে ফাঁকটা সত্যি। তখন ভেতরের ডুবটা আরও গভীর হয়, আর যে জীবন সামনে চলছিল সেটি একটু দূরে সরে যায়। এখানেই বৃত্তটা বন্ধ হয়।

ছোটবেলা থেকেই যা চলে আসছে

ছোটবেলা থেকেই যেটা চলে আসছে, সেটা সাধারণত একটা বোধ: এখানে আমার মতো কেউ নেই। বাড়িতে ভালোবাসার অভাব থাকতেই হবে এমন নয়; যথেষ্ট, যদি শিশুটি একবার বুঝে ফেলে যে তার ভেতরের কথাটা কেউ ধরতে পারছে না, কিংবা যদি কোনো একটা বিচ্ছেদ তার বয়সের তুলনায় বড় হয়ে যায়। সে তখন নিজের ভেতরে একটা আলাদা ঘর বানিয়ে নেয়, যেখানে সবটা তার নিজের। বড় হয়ে ঘরটা থেকে যায়, আর সেখানে ঢোকার চাবি অন্য কাউকে দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

02

তিনটি অবস্থা, তিনটি বিচার নয়

এটি ভালো আর খারাপের মাপকাঠি নয়, আপনার ধাপের নম্বরও নয়। অবস্থা জীবনের মধ্যে বদলায়, কখনো একটি দিনের মধ্যেও, আর একই মানুষ তিনটিতেই নিজেকে চিনতে পারেন।

মাঝামাঝিতে থাকলে জীবনটা চলে, আর তার পাশে একটা মন্তব্য চলতে থাকে: এটা ঠিক ওরকম হল না। মানুষটি কাজ করে, সম্পর্ক রাখে, দিন কাটায়, আর ভেতরে চলতে থাকে তুলনা, কল্পনা আর একটা হালকা অতৃপ্তি। মেজাজ এখানে আবহাওয়ার মতো: সকালে এক, দুপুরে আরেক, আর কারণটা বাইরে থেকে সবসময় দেখা যায় না। এই অবস্থায় ছোট ছোট জিনিস নিয়ে সে বেশি ভাবে, কারণ ছোট জিনিসের মধ্যেই তার কাছে বড় মানে থাকে। ক্লান্তি জমে ভেতরের কথা বলতে না পারায়, আর বললে ভয় হয় যে কথাটা ছোট শোনাবে।

কী নামিয়ে দেয়

যে তুলনায় নিজের জায়গাটা ছোট দেখায়, সেটিই এই ধরনকে সবচেয়ে দ্রুত নামায়। তার পাশে আছে; কাছের মানুষের ঠান্ডা স্বর; এমন কাজ, যেখানে নিজের কিছু দেওয়ার জায়গা নেই; আর সবচেয়ে বেশি, এমন পরিবেশ যেখানে সবাইকে এক মাপে চলতে হয়, কারণ সেখানে তার নিজের হওয়ার জায়গাটাই বন্ধ। ছোট নামানোগুলোও গোনার মতো: ঘুম ভেঙে যাওয়া, অনেকক্ষণ একা থাকা আর পুরনো কথাগুলো আবার নতুন করে মনে করা। চার নম্বর ধরন কষ্টে ভাঙে না, ভাঙে না-দেখা থাকায়।

কী আবার তুলে আনে

উপরে ফেরায় হাতে করা একটা কাজ, যার ফল চোখে দেখা যায়; এমন একজন মানুষ, যে তার ভেতরের কথাটা শুনে ভয় পায় না; আর নিজের ভালো লাগার একটা জিনিস, যেটা কারো জন্য নয়, নিজের জন্য। এর সঙ্গে কাজ করে শরীর নাড়ানো আর সময়ের একটা সাধারণ ছক, কারণ ছক তার কাছে বিরক্তিকর হলেও মেজাজটাকে ধরে রাখে। সবচেয়ে বড় উপহার এখানে অনুমতি: আজকের এই সাধারণ দিনটাও আমার জীবনেরই দিন। আরেকটা জিনিস কাজ করে, যেটা শুনতে সামান্য: শুরু করা কাজটা শেষ করে ফেলা।

03

কেন নিজেকে না-ও চিনতে পারেন

বর্ণনায় নিজেকে না চেনার কারণটা এখানে দুই রকম, আর দুটোই ঘন ঘন দেখা যায়। প্রথমটি: লেখা থাকে নাটকীয়তা আর মন খারাপ, আর মানুষটি নিজেকে শান্ত আর গোছানো বলে জানে, কারণ তার ভেতরের ঝড়টা বাইরে বেরোয় না। দ্বিতীয়টি: লেখা থাকে নিজেকে আলাদা ভাবার কথা, আর সেটি তার কানে অহংকারের মতো লাগে, অথচ তার ভেতরের অনুভূতিটা ঠিক উল্টো, নিজেকে কম মনে হওয়া। চেনার সুতোটা মেজাজে নয়, মনোযোগের দিকে: চোখ কি বারবার ফাঁকটার দিকে ফিরে যায়। দ্বিতীয় সুতোটা সহজ: ভালো কিছু ঘটলে ভেতরে সঙ্গে সঙ্গে একটা কিন্তু এসে দাঁড়ায় কি না।

ডানা

4w3 গভীরতার সঙ্গে গতি যোগ করে। এই অনুভূতিপ্রবণ নিজের ভেতরের জিনিসটা বাইরে এনে দাঁড় করায়: সে বানায়, দেখায়, মানুষের সামনে যায় আর চায় যে কাজটা দেখা হোক। বাইরে থেকে তাকে তিন নম্বরের মতো দেখায়, যতক্ষণ না বোঝা যায় তার কাছে ফলের চেয়ে ফলের ভেতরের নিজের ছাপটাই বড়। এই ডানার ক্লান্তি আসে দুই দিকে টানাটানিতে: দেখা পাওয়ার ইচ্ছা আর দেখা পড়ে যাওয়ার ভয়।

4w5 গভীরতার সঙ্গে দূরত্ব যোগ করে। এই অনুভূতিপ্রবণ কম বলে, বেশি ভাবে আর নিজের জগতে থাকতে ভালোবাসে; তার কাজগুলো প্রায়ই দেরিতে বা কখনোই বাইরে আসে না। বাইরে থেকে তাকে পাঁচ নম্বরের মতো দেখায়, যতক্ষণ না দেখা যায় তার ভেতরে ঠান্ডা যুক্তি নয়, ঘন অনুভূতি চলছে। এই ডানার বিপদ একা হয়ে পড়া, কারণ দূরত্বটা আরামও দেয়।

সহজাত উপধরন

sp4নারাঞ্জোর ভাষায় সহ্যশক্তি। এখানে ব্যথাটা দেখানো হয় না, সয়ে নেওয়া হয়: এই অনুভূতিপ্রবণ শক্ত থাকে, কাজ করে যায় আর অভিযোগ করে কম। তিন উপধরনের মধ্যে এটিই সবচেয়ে কম চেনা যায়, কারণ বর্ণনার আবেগটা বাইরে থেকে দেখা যায় না।

so4দলের দিকে ফেরানো অনুভূতি। এই অনুভূতিপ্রবণ নিজের জায়গাটা মাপে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে, আর ভেতরে থাকে একটা লজ্জাবোধ: আমি বোধহয় এখানে ঠিক মাপের নই। সে দলে থাকে, অথচ একটু প্রান্তে, আর সেই প্রান্তটাই তার পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়।

sx4একজন মানুষের দিকে ফেরানো অনুভূতি। এখানে টানটা দাবি নিয়ে আসে: এই অনুভূতিপ্রবণ কাছের মানুষের কাছে অনেক চায়, চাইতে ভয় পায় না আর না পেলে রেগে যায়। বাইরে থেকে তাকে আট নম্বরের মতো দেখায়, আর এটিই তিনটির মধ্যে সবচেয়ে গরম।

উল্টো উপধরন

উল্টো উপধরন এখানে সেইটি, যেটি নিজের ধরনের টানের বিরুদ্ধে হাঁটে, আর তাই চেনা বর্ণনায় সে নিজেকে খুঁজে পায় না। এই ধরনের চেনা ছবি হল খোলা আবেগ, মেজাজের ওঠানামা আর ব্যথা নিয়ে কথা বলা। উল্টো দিকের মানুষটি ব্যথা দেখান না; তিনি দাঁত চেপে সহ্য করেন, কাজ চালিয়ে যান আর নিজের কষ্টকে ছোট করে দেখান, কখনো এমনভাবে যে বাইরের লোক টেরই পায় না। ফলে তিনি নিজেকে খোঁজেন এক নম্বরে বা তিনে, কারণ বর্ণনার নরম দিকটা তাঁর নেই। চেনার সুতোটা আবেগের শব্দে নয়, তার দিকে: ভেতরে তুলনাটা চলছে কি না আর নিজের ভাগে কী কম পড়ল, সেই প্রশ্নটা ফিরে ফিরে আসছে কি না। তৃতীয় সুতোটা কাছের মানুষের কাছে শোনা যায়: তাঁরা প্রায়ই বলেন, তোমাকে বোঝা কঠিন, অথচ তুমি নিজে বলো কেউ বোঝে না।

সহজাত প্রবৃত্তি নিয়ে আমরা ধরন, ডানা আর অবস্থার চেয়ে সাবধানে কথা বলি: প্রায় অর্ধেক মানুষের ক্ষেত্রে দুটি প্রবৃত্তি প্রায় সমান জোরে বাজে, আর তখন আমরা দুটিই দেখাই আর বলি, যেটিতে নিজেকে চেনেন সেটি বেছে নিতে।

04

চাপ কোথায় নিয়ে যায়, আর বাড়ার সময় কোথায়

123456789

চাপের মধ্যে 2

চাপের মধ্যে চার নম্বর ধরন দুই নম্বরের দিকে সরে যায়, আর সেটি তাকে দুই বানায় না। যা হয় তা হল, একা সামলানোর জায়গায় চলে আসে মানুষ ধরে রাখার চেষ্টা। মানুষটি হঠাৎ বেশি দিতে শুরু করে, বেশি খোঁজ নেয়, বেশি কাজে লাগতে চায়, আর ভেতরে জমতে থাকে একটা প্রশ্ন: এত করছি, তবু আমাকে কেন যথেষ্ট ভাবা হচ্ছে না। বাইরে থেকে একে উদারতা মনে হয়, আর ভেতরে এটি ভয়: ছেড়ে চলে যাওয়ার ভয়। ফেরার পথও ওখানেই: চাওয়াটা সোজা কথায় বলে ফেলা, দিয়ে আদায় করার বদলে। এই সময়টা বাইরে থেকে উষ্ণ দেখায়, আর ভেতরে সেটি সবচেয়ে অস্থির সময়।

বাড়ার সময় 1

হাতে জোর থাকলে চার নম্বর ধরন এক নম্বরের দিকে যায়, আর সেখান থেকে সে যা নেয় তা কড়াকড়ি নয়, ছক। এক নম্বর জানে কীভাবে মেজাজ যাই হোক কাজটা চালিয়ে যেতে হয়, আর চারের কাছে ঠিক সেটাই সবচেয়ে কম অভ্যাস, কারণ তার কাছে কাজটা মেজাজের অনুমতি নিয়ে শুরু হয়। এই রেখা ধরে গেলে সে নিয়ম করে বসে, শুরু করা জিনিস শেষ করে আর দেখে যে তাতে অনুভূতি মরে যায়নি, বরং জায়গা পেয়েছে। তখন গভীরতাটা কমে না, কেবল সেটি হাতে ধরা যায় এমন কিছুতে গিয়ে দাঁড়ায়। এই রেখাটা নিজে থেকে আসে না, একে ডেকে আনতে হয়: একটা ছোট নিয়ম বেছে নিয়ে সাত দিন সেটি মেনে চলা।

প্রথম লক্ষণ

চিহ্নগুলো ধরা পড়ে নিজের কাছেই, আর ধরা পড়লে ফেরাটা অনেক সহজ হয়। নিচের দিকের প্রথম চিহ্ন হল তুলনার বেড়ে যাওয়া: অন্যের খবর দেখতে দেখতে নিজের জায়গাটা ছোট হতে থাকে। দ্বিতীয় চিহ্ন শুরু করা কাজ ফেলে রাখা, কারণ যেটা তৈরি হচ্ছে সেটা মাথার ছবির সঙ্গে মিলছে না। তৃতীয় চিহ্ন কথা কমে যাওয়া, আর সেই চুপ থাকাটা অভিমানের। উপরের দিকের প্রথম চিহ্নও ছোট: মেজাজ ভালো না থাকা সত্ত্বেও কাজটা শুরু করা, আর তারপর দেখা যে মেজাজ নিজেই বদলে গেছে। চিহ্নগুলো গুনে রাখার মতো, কারণ এগুলো আসে কাজের ছোট বদলে, আর মেজাজের বড় বদলটা আসে তার অনেক পরে।

05

কার সঙ্গে আপনাকে গুলিয়ে ফেলা হয়

5জিজ্ঞাসু

পাঁচ আর চার দুজনেই ভেতরে থাকে, দুজনেই একা সময় চায় আর দুজনকেই দূরের মানুষ বলে মনে হয়। তফাত করে দেয় ভেতরে কী চলছে। পাঁচের ভেতরে চলে বোঝাপড়া: সে দূরত্ব রাখে যাতে ভাবার জায়গা থাকে, আর অনুভূতি সে পরে দেখবে বলে তুলে রাখে। চারের ভেতরে চলে অনুভূতি: সে দূরত্ব রাখে যাতে ভেতরের ঘরটা কেউ নষ্ট না করে, আর ভাবনাটা আসে অনুভূতির পিছু পিছু। নিজেকে যাচাই করুন: একা থাকার সময় আপনার ভেতরটা কি ঠান্ডা আর পরিষ্কার লাগে, নাকি ঘন আর ভরা?

7উৎসাহী

সাত আর চার দুজনেই কল্পনায় বাঁচে, দুজনেই সাধারণ জীবনে সহজে আটকে যায় না আর দুজনেই তীব্রতা ভালোবাসে। তফাত করে দেয় কল্পনার দিক। সাত কল্পনা করে সামনের দিকে: পরের ভ্রমণ, পরের পরিকল্পনা, পরের সম্ভাবনা, আর ব্যথা এলে সে দ্রুত পাশ কাটিয়ে যায়। চার কল্পনা করে যা হয়নি তার দিকে: না-পাওয়া, হারানো, হতে পারত এমন কিছু, আর ব্যথা এলে সে তার ভেতরে ঢুকে যায়। প্রশ্নটা সোজা: কষ্ট পেলে আপনার প্রথম নড়াচড়াটা কোন দিকে, নতুন কিছুর দিকে নাকি ভেতরের দিকে?

9শান্তিকামী

নয় আর চার দুজনেই স্বপ্ন দেখে, দুজনেই মেজাজে বাঁচে আর দুজনেই সহজে সিদ্ধান্তে আসে না। তফাত করে দেয় ভেতরের তীব্রতা। নয়ের ভেতরটা নরম আর ছড়ানো: সে ঝামেলা এড়ায় আর নিজের চাওয়াটা খুঁজে পায় না। চারের ভেতরটা ঘন আর ধারালো: সে নিজের চাওয়াটা ভালোই জানে, কেবল সেটি পাওয়া যায় না বলে কষ্ট পায়। নিজেকে প্রশ্নটা করুন: আপনার ভেতরে কি সব মিলিয়ে একটা শান্ত ধোঁয়াশা, নাকি একটা পরিষ্কার অভাববোধ, যার নামও আপনি বলতে পারেন?

06

কাঠামোর মধ্যে এই ধরন কোথায় দাঁড়ায়

কাঠামোর মধ্যে চার নম্বর ধরন দাঁড়ায় হৃদয়ের কেন্দ্রে, দুই আর তিনের সঙ্গে এক ঘরে, আর এই তিনজনের সাধারণ প্রশ্নটা হল, অন্যের চোখে আমি কে। দুই সেই চোখে দরকারি হতে চায়, তিন চায় সফল হতে, আর চার চায় সত্যিকারের নিজের মতো হতে। হর্নিভিয়ান ভাগে সে সরে থাকা দলে: চাপ এলে সে মানুষের দিকে যায় না, ভেতরের দিকে যায়। হারমোনিক ভাগে সে প্রতিক্রিয়ার দলে, অর্থাৎ কষ্ট এলে সে সেটি চেপে রাখে না, প্রকাশ করে আর চায় যে অন্যেও সেই ভার টের পাক। বৃত্তে তার পাশে তিন আর পাঁচ, আর রেখা দুটি যায় দুই আর একের দিকে। এই জায়গাটা মনে রাখলে চেনা সহজ হয়: চার নম্বর ধরন তিনের মতো ফল দেখায় না আর পাঁচের মতো ঠান্ডা হয়ে যায় না।

07

সাধারণ প্রশ্ন

এই ধরনের নাম কেন অনুভূতিপ্রবণ, রোমান্টিক নয়?

রোমান্টিক কথাটা বাংলায় প্রেমের দিকে টেনে নিয়ে যায়, আর এই ধরনের ব্যাপারটা প্রেম নয়, অনুভূতির গভীরতা আর অভাববোধ। অনুভূতিপ্রবণ বলতে বোঝায় সেই মানুষ, যার ভেতরে অনুভূতিটা সবচেয়ে জোরে বাজে, আর ধরনটা ঠিক তা-ই। নামটা দুর্বলতার নাম নয়, দিক নির্দেশ।

sp4 জিনিসটা কী?

চার নম্বর ধরন, যার প্রধান সহজাত প্রবৃত্তি নিজের বন্দোবস্তের দিকে ফেরানো। এই উপধরন ব্যথা দেখায় না, সয়ে নেয় আর কাজ চালিয়ে যায়, তাই বাইরে থেকে তাকে শক্ত আর সংযত মনে হয়। চেনা বর্ণনা থেকে এটিই সবচেয়ে দূরে, আর সেই কারণে এই উপধরনের মানুষ নিজেকে চারে খুঁজতেই যান না।

চার নম্বর ধরন মানে কি সবসময় মন খারাপ করে থাকা?

না, আর এটাই সবচেয়ে চেনা ভুল বোঝাবুঝি। এই ধরনের ব্যাপারটা মেজাজ নয়, মনোযোগের দিক: চোখ যায় ফাঁকটার দিকে। সেই মনোযোগ সামর্থ্যের অবস্থায় গভীরতা আর সৃষ্টির কাজে লাগে, আর কবলের অবস্থায় দুঃখে গিয়ে দাঁড়ায়। একই গড়ন, দুই দশা।

চাপে পড়লে চার নম্বর ধরন কি দুই নম্বর হয়ে যায়?

না, আর এভাবে বলাটা ক্ষতিকর। ধরন বদলায় না। চাপের মধ্যে চারের ভেতরে দুইয়ের কয়েকটা দিক দেখা দেয়: বেশি দেওয়া, বেশি খোঁজ নেওয়া আর মানুষ ধরে রাখার চেষ্টা। এটি চারের ভেতরেই ঘটা একটা অবস্থা, নতুন ধরন নয়, আর চাপ সরে গেলে এটিও সরে যায়।

আমি সৃষ্টিশীল আর আমার মেজাজ বদলায়। তার মানে কি আমি চার নম্বর?

জরুরি নয়। সৃষ্টিশীল হয় সব ধরনের মানুষ, আর মেজাজ বদলায় ঘুম কম হলে, চাপ বাড়লে বা শরীর খারাপ লাগলে। ধরন ঠিক হয় গুণ দেখে নয়, মনোযোগ কোন দিকে যায় তা দেখে। প্রশ্নটা এই নয় যে আপনি কিছু বানান কি না, প্রশ্নটা হল, ভালো কিছু হাতে এলে ভেতরে কি সঙ্গে সঙ্গে একটা অভাব এসে দাঁড়ায়।

এরপর কোথায়

এটি সাধারণ ক্রমের একটি জায়গা। ব্যক্তিত্ব পরীক্ষা দিলে ক্রমটি আপনার জন্য সেজে যাবে।

  1. 01অনুভূতিপ্রবণআপনি কেআপনি এখানে
  2. 024w34w5আপনার রং

পরের ধাপ · আপনার রং

4w3

ব্যক্তিত্ব পরীক্ষা দিয়ে মিলিয়ে দেখুন

১০৮টি প্রশ্ন, প্রায় ২০ মিনিট। ধরন, ডানা, সহজাত উপধরন আর ধাপ একসঙ্গে।

ব্যক্তিত্ব পরীক্ষা দিয়ে মিলিয়ে দেখুন