কোড আর এননিয়াগ্রাম
ISFJ আর Enneagram: যে যত্ন কেউ টের পায় না, তার উৎস
শীতের রবিবার, সকাল ন'টার মধ্যে ছাদে সবার লেপ রোদে মেলা হয়ে গেছে, ছোট ভাইয়ের স্নানের জল ফুটছে। ব্যক্তিত্ব পরীক্ষা বলেছে ISFJ, কিন্তু এননিয়াগ্রামের নম্বর এই অক্ষরে লেখা নেই। একই যত্ন তিনটে একেবারে ভিন্ন কারণ থেকে আসতে পারে, নিচে সেগুলো আলাদা করে রাখা। বিকেলে লেপ নামানোর সময় সবাই বলবে রোদের গন্ধ কী সুন্দর; কাজটা আপনি কেন করেন, সে প্রশ্ন কেউ তুলবে না।
01
এই চারটি অক্ষর কী বলে
রোজার মাসে অফিসের বিকেলের মিটিং ইফতারের আগে শেষ করার ব্যবস্থা ISFJ চুপচাপ করে রাখে, কারণ দুজন সহকর্মী রোজা রাখেন। দেওয়া কাজ তারিখের আগেই শেষ, কাউকে না জানিয়ে। নতুন নিয়ম বা নতুন যন্ত্র সে ধীরে মেনে নেয়, আগে কাজে প্রমাণ হোক; আর প্রতি পয়লা বৈশাখে ঘরে আসে সেই একই প্রকাশনীর পঞ্জিকা। ‘না’ বলতে গিয়ে আটকে যায়, তাই ছুটির দিনগুলো চলে যায় অন্যের দরকারে, আর সেই ক্লান্তি বাইরে থেকে প্রায় চোখে পড়ে না।
সময়ানুবর্তী, নির্ভরযোগ্য, হঠাৎ বদলে অস্বস্তি: ISTJ সম্পর্কেও লোকে ঠিক এই কথাগুলোই বলে, তাই দুটো কোড প্রায় এক হয়ে যায়। তফাত T আর F-এ। বাড়িতে অতিথি আসার দিন ISTJ দেখে তালিকার সব কাজ শেষ হলো কি না, ISFJ দেখে বুড়ো পিসিমার জন্য নরম ভাত আলাদা রাখা হলো কি না। ISTJ নিয়মের প্রতি বিশ্বস্ত, ISFJ সেই মানুষগুলোর প্রতি, নিয়ম যাদের আরাম দেয়।
তবে এই হাত কেন থামে না, চার অক্ষরে তা লেখা থাকে না।
02
একই কোডের পেছনে তিনটি কারণ
নয়টির মধ্যে তিনটি উদাহরণ: এই কোড যে কোনো ধরন থেকে আসতে পারে
উল্টো পথ নেই: কোড থেকে কারণ বের হয় না
এই কারণের সবচেয়ে আলগা অক্ষর
আদর্শবাদী
এক নম্বর ধরনের কাছে ঠিকঠাক শেষ করা কাজ মানে নিজের ওপর থেকে প্রশ্ন সরে যাওয়া। কাজ সে একা সারে, বাইরে আনে যাচাই করা জিনিস, যাতে ভুলটা ধরে সে নিজেই, অন্য কেউ নয়: এটাই তার I। বাঁধা ক্রমে, সময়ের আগে কাজ বন্ধ করা তার J। মাসের হিসাব জমা দেওয়ার আগে তিনজনই আরেকবার চোখ বোলায়, কিন্তু এক দেখে কারণ একটা ভুল অঙ্ক থেকে গেলে সেটা তার নামে লেখা থাকবে। তার নড়বড়ে অক্ষর F। বড় মামা নিজের লেখা বই নিয়ে মত চাইলেন, আর বইয়ে তথ্যের ভুল ভরা: এক ভুলগুলো দাগিয়েই ফেরত দেয়, মামা যতই আহত হোন, আর সেই সময়ের পরীক্ষা T দেখায়।
পরোপকারী
বর্ষার রাতে পাশের ফ্ল্যাটের বাচ্চার জ্বর উঠলে দুই নম্বর ধরন থার্মোমিটার আর জলপট্টি নিয়ে হাজির। হাতের কাছের বাস্তব দরকার চোখে পড়ে আগে, এখানেই তার S; আর যেকোনো সিদ্ধান্ত সে মাপে মানুষটার মনে কেমন লাগবে তা দিয়ে, এখান থেকে F। সে চায় সেই আসন, যেটা খালি থাকলে সবাই টের পায়। ঈদে প্রতিবেশীর বাড়িতে সেমাই তিনজনই পাঠায়, কিন্তু দুইয়ের কাছে আসল পাওনা হলো ‘ওর সেমাই না এলে ঈদ জমে না’। এই কোডে সবচেয়ে কাঁচা অক্ষর I, আর সেটাকে ধরে রাখে পরিস্থিতি, তাগিদ নয়। বাবার অসুখের দুই বছর দুই ঘরে বাঁধা ছিল; বাবা সেরে ওঠার পর সেই মানুষই পাড়ার লাইব্রেরি কমিটিতে সবার আগে নাম লেখায়, আর সে বছরের পরীক্ষা E দেখায়।
নিষ্ঠাবান
ঝড় এলে কোন খুঁটি ধরবে, ছয় নম্বর ধরন সেটা রোদের দিনেই ঠিক করে রাখে। নতুন দলে সে মুখ খোলে ধীরে, ভরসা করে অল্প কয়েকজনকে, এখানে তার I দেখা যায়। মাসের প্রথম দিনেই ডিপিএসের কিস্তি, সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ ডায়েরিতে টোকা, কারণ আগে থেকে বাঁধা ব্যবস্থা হলো ধরার রেলিং: এটা J। তিনজনই বাড়িতে এক বস্তা চাল মজুত রাখে, কিন্তু ছয় রাখে যাতে হরতাল বা বন্যায় দোকান বন্ধ থাকলেও হাঁড়ি চড়ে। তার S দাঁড়িয়ে শান্ত জীবনের ওপর। দিন স্বাভাবিক চললে সে চোখে দেখা আর আগে পরখ করা জিনিসে চলে; ঘূর্ণিঝড়ের বিপদসংকেত বাড়তে থাকলে মাথা চলে যায় এমন সব দৃশ্যে যা এখনও ঘটেনি, আর তখনকার পরীক্ষা N দেখায়।
03
তিনটির মধ্যে নিজেরটা কীভাবে চিনবেন
- বাইরে থেকে একই আচরণ
- মানুষটি কী আগলে রাখে, সেই প্রশ্ন
- আপনার নিজের কারণ, অক্ষর নয়
বাজার থেকে ফেরার পথে দাদুর পান কিনে আনা, সহকর্মীর ছেলের পরীক্ষার খবর রাখা, পাড়ার গ্রুপে লোডশেডিংয়ের সময়সূচি দেওয়া: ISFJ-এ তিন কারণই এই একই অভ্যাস গড়ে। যত্নের মাপে লাভ নেই; দেখতে হবে কী না থাকলে মানুষটা টিকতে পারে না।
পাড়ার লাইব্রেরির বইয়ের তালিকা আপনি সাজালেন। তারপর দুটোর একটা কথা কানে এল: “অর্ধেক বই ভুল তাকে উঠেছে” অথবা “ধন্যবাদ, এরপর কমিটিই করে নেবে”। কোনটা এক সপ্তাহ খচখচ করে? ভুল তাকের কথা গেলে পথ যায় একের দিকে, ‘কমিটিই করে নেবে’ বিঁধলে দুইয়ের দিকে।
যে ছোট বোনের সংসার আপনি বহু বছর গুছিয়ে দিয়েছেন, সে স্বামীর বদলিতে চট্টগ্রামে চলে গেছে, ফোন আসে কেবল ঈদে। আসলে হারাল কী: আপনাকে আর কারও সেভাবে দরকার নেই, নাকি ভর দেওয়ার মতো কেউ আর কাছে নেই? অদরকারি হয়ে যাওয়ার ব্যথা দুইয়ের, ভরসা হারানোর ব্যথা ছয়ের।
সন্তানের স্কুলে নতুন শিক্ষাক্রম এল, পরীক্ষার বদলে মূল্যায়ন। রাতে ঘুম আসে না কীসে: নতুন পদ্ধতি ঢিলেঢালা আর ভুল, নাকি এখন কোনটার ওপর ভরসা রাখা যায় বোঝা যাচ্ছে না? ভুলে কষ্ট পায় এক, অনিশ্চয়তায় ছয়।
দ্বিতীয় প্রশ্নটা ISFJ-এর কাছে আয়না না হয়ে জানলা হয়ে যায়। উত্তর আসে বোনকে নিয়ে: “ও ভালো থাকলেই হলো”। এটা বলছে F আর S, অন্যের অবস্থা আগে দেখার অভ্যাস, অথচ প্রশ্ন ছিল আপনার কী গেল। চেনার উপায় উত্তরের সহজতা: বোনের খবর মুখে লেগে থাকে, নিজের শূন্যতা হাতড়ে খুঁজতে হয়।
04
অক্ষর যা বলে না
মানুষ কীভাবে কাজ করে: অক্ষর এটুকুই দেখে
চারটি অক্ষরে যা নেই
- বিকাশের ধাপ
- সহজাত উপধরন
- চাপ কোথায় নিয়ে যায়
এননিয়াগ্রাম আর এমবিটিআই মানুষকে দুটো আলাদা রেখায় কাটে, তাই দুটোর মধ্যে বাঁধা কোনো মিল নেই, আর আমরা সেটা বানিয়েও দিই না। এননিয়াগ্রাম দেখে ভেতরের কল আর ভয়, এমবিটিআই দেখে তথ্য নেওয়ার আর সিদ্ধান্তের পছন্দ। ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়ানো মিলিয়ে দেখার ছকগুলো মাপ থেকে নয়, অনুমান থেকে তৈরি, আর নিজেদের মধ্যেও মেলে না। মাপা হয়েছে কেবল এক দিকের যোগ, এননিয়াগ্রাম ধরন থেকে আলাদা আলাদা অক্ষরের দিকে: ধরন জানা থাকলে অক্ষর একটু ভালো আন্দাজ করা যায়। এই পাতা পড়ছে উল্টো দিকে, যেখানে কোনো মাপ নেই, তাই ওপরের তিনটি কারণ কলটা বোঝানোর উদাহরণ, পুরো তালিকা নয়, আর ধরন নয়টির যেকোনোটিই হতে পারে। কবলে পড়লে ISFJ কিছুই ফেলতে পারে না: চলে যাওয়া আত্মীয়ের চশমা থেকে ভাঙা টিফিন বাক্স, আলমারি উপচে পড়ে, কেউ একটা জিনিস সরালে বাড়ি থমথমে। পরীক্ষার অক্ষর তবু একই থাকে। দীর্ঘ চাপে প্রত্যেকে টান খায় নিজের ধরনের রেখায়: একজন দাবি তোলে, একজন অন্য জীবনের জন্য হাহাকার করে, একজন কাজের ভিড়ে লুকোয়। সহজাত প্রবৃত্তি ঠিক করে যত্ন কোথায় গড়াবে: ঘর আর সঞ্চয়, একজন আপন মানুষ, নাকি পাড়া আর সমাজ।
05
প্রশ্ন
ISFJ, স্বভাবে নরম, অথচ এননিয়াগ্রাম বলছে এক নম্বর ধরন। কোথাও গোলমাল?
না। এই কোডে একের সঙ্গে I আর J মেলে, বেমানান লাগে শুধু F, কারণ একের ছবি কড়া হেডমাস্টারের। ISFJ-এর নরমি মাপকাঠি রক্ষারই উপায় হতে পারে: এখানে ঠিক মানে কারও মনে আঘাত না দেওয়া। মনে করুন, ছোট ভাইয়ের চাকরির দরখাস্তে ভুল পেয়ে পুরোটা আবার লিখিয়েছিলেন, তবে পাশে বসে, চা খাওয়াতে খাওয়াতে। মাপকাঠি একচুলও নড়েনি, শুধু বলার ধরনটা F-এর।
সারা জীবন অন্যের জন্যই কাটালাম। আমার নিজের কোনো তাগিদ কি আদৌ আছে?
আছে, আর যত্নই সেটাকে সবচেয়ে ভালো ঢেকে রাখে। অন্যের জন্য বাঁচা আচরণ, ISFJ-এ তা সবচেয়ে চোখে পড়ে, কিন্তু মানুষটা এর বদলে কী পায়, তা বলে না। ধরুন ভাইবোনেরা ঠিক করল, এখন থেকে নিজেদের কাজ নিজেরাই করবে। যদি ফাঁকা লাগে, যদি ওদের আলগা কাজ চোখে বেঁধে, যদি অস্থির লাগে যে ভরসা কোথায়, তবে এগুলো তিনটে আলাদা উত্তর, আর আপনারটা এর মধ্যেই।
বছরের পর বছর মুখ বুজে থাকি, তারপর তুচ্ছ কারণে ফেটে পড়ি। এর মানে কী?
কিছু জমছিল, আর ফেটে পড়ার মুহূর্তের কথাগুলো রাগের চেয়ে বেশি বলে। ISFJ নিজের পথ অনেক দিন বন্ধ রাখে, তাই চাপ বেরোয় ছোট্ট ফাটল দিয়ে, যেমন টেবিলে ভেজা ছাতা। শেষবার কী বলেছিলেন? “একটা জিনিসও জায়গামতো থাকে না কেন” এক দিকে ইশারা, “কেউ একবার জিজ্ঞেসও করে না আমি খেয়েছি কি না” আরেক দিকে, “কাল কিছু ঘটলে কার ভরসায় থাকব” তৃতীয় দিকে।
নতুন কিছু আমি ধীরে মেনে নিই। এই ফলাফলে কত দিনে ভরসা করব?
যত দিন লাগে, তাড়াহুড়োয় এখানে লাভ নেই। ISFJ-এর ধীর গতি হলো S আর J, আগে হাতেকলমে দেখে তবে মানার অভ্যাস, আর এই কাজে সেটা কাজেরই। প্রথম পড়ায় রায় দেবেন না। পরের বার কারও জন্য কিছু করার আগে এক মুহূর্ত থেমে দেখুন, না করলে কী খারাপ লাগত। কয়েক সপ্তাহে যে উত্তর বারবার ফেরে, সেই ধরনই আপনার বহু পুরোনো পুনরাবৃত্তিটা ব্যাখ্যা করবে।