কোড আর এননিয়াগ্রাম
ISFP আর Enneagram: হাতের কাজ, মনের তিন রকম টান
রবিবার দুপুরে মায়ের পুরনো সেলাই মেশিনটা খুলে তেল দিলেন, আর সন্ধ্যায় ফোনের একটা পরীক্ষা জানাল: ISFP। এবার প্রশ্ন, এই অক্ষরের নিচে এননিয়াগ্রামের কোন ধরন। রাগ, লজ্জা আর ভয়, এই তিনের যেকোনোটা থেকেই এমন শান্ত, কাজের মানুষ তৈরি হতে পারে; নম্বরের বদলে এই পাতায় তিনটে উৎস সাজানো। মেশিন চলছে, কিন্তু কোন টানে স্ক্রুড্রাইভার হাতে উঠেছিল, তার উত্তর সেলাইয়ের শব্দে নেই।
01
এই চারটি অক্ষর কী বলে
অফিসের পিকনিকে সবাই যখন অন্তাক্ষরীতে মাতে, ISFP কোডের মানুষটি রান্নার ঠাকুরের পাশে বসে কাঠের জ্বাল ঠিক রাখে; ফেরার বাসে একজনের পাশে বসে সারা পথ গল্প করে, ভিড়ে প্রায় মুখ খোলে না। গন্ধ শুঁকেই সে বলে দেয় ইলিশটা পদ্মার কি না, আর কালবৈশাখীর আগের হাওয়া সবার আগে তার গায়ে লাগে। পরিকল্পনা বড়জোর সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত: দুপুরে ঠিক হয় বিকেলে নৌকায় গঙ্গা পেরিয়ে ওপারের মেলায় যাওয়া। কেন এটাই, জিজ্ঞেস করলে উত্তর “মনে হলো, তাই”। যত্ন সে দেখায় হাতে: ভাইপোর স্কুলের প্রজেক্টের মডেল রাত জেগে বানিয়ে দেয়, কাউকে না জানিয়ে।
বাইরে থেকে তার সবচেয়ে কাছে দাঁড়ায় ISFJ: তেমনই চাপা, সংসারের খুঁটিনাটি আর চারপাশের মানুষের আরামের দিকে তেমনই নজর। দুজনকে আলাদা করে শেষ অক্ষর। ISFJ প্রতি বৃহস্পতিবার ঠাকুমার ওষুধ এনে দেয় নিয়ম করে, ক্লান্ত থাকলেও; ISFP আনে যখন মন চায়, আবার দু সপ্তাহ ভুলেও যায়। ভাইফোঁটায় ISFJ রীতি মেনে বোনের হাতে উপহার তুলে দেয়; ISFP নিজের হাতে বোনের জন্য কাঠের একটা গয়নার বাক্স বানায়, কারণ তার মনে হয়েছিল সেটাই ঠিক।
এই সব ছবি তার চলাফেরার; ভেতরে সে কী পাহারা দেয়, তার খবর এতে মেলে না।
02
একই কোডের পেছনে তিনটি কারণ
নয়টির মধ্যে তিনটি উদাহরণ: এই কোড যে কোনো ধরন থেকে আসতে পারে
উল্টো পথ নেই: কোড থেকে কারণ বের হয় না
এই কারণের সবচেয়ে আলগা অক্ষর
শান্তিকামী
ফোঁড়ের পর ফোঁড়: নকশিকাঁথা সেলাই করতে করতে নয়ের ভেতরের খচখচানি থিতোয়, কারও সঙ্গে ঠোকাঠুকি ছাড়াই। হাতের জিনিসে ডুবে থাকা, লোকজন থেকে একটু সরে, প্রশ্নমালায় হয় S আর I। পুজোয় বেড়ানোর তারিখ সে পাকা করে না: বাঁধা তারিখে কেউ বদল চাইবে, বদলে জন্মাবে অভিমান, আর অভিমান থেকে ঝগড়া দূরে নয়; তাই P। মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের তর্কে তিনজনের কেউই ঢোকে না; নয় ঢোকে না কারণ ওই তর্কে পাড়ার বন্ধুত্ব ভাঙে। সবচেয়ে আলগা অক্ষর F: নরম ভাবটা মনের সিদ্ধান্ত মনে হয়, আসলে সে পাশের মানুষের দিকে হেলে। দাবার ক্লাবে, যেখানে সব তর্ক চালের হিসেবে মেটে, সে হিসেবেও একই সহজে সায় দেয়, আর প্রশ্নমালা দেখায় T।
পরোপকারী
কার কী কম পড়েছে, দুই সেটা দেখে ফেলে কানে শোনার আগেই। সে আগলায় দরকারি মানুষের পাশের জায়গা, আর ISFP-তে তা গড়ে ওঠে কাজে: দারোয়ানের মেয়ের কলেজে ভর্তির ফর্ম সে নিজে জমা দিয়ে আসে। কাজটা অন্যের দিন কতটা বদলাবে, সেই মাপে সিদ্ধান্ত, এটা F; অভাব আগে চোখে পড়ে সেখানে, যেখানে হাত পৌঁছয়, এটা S। বিয়েবাড়িতে তিনজনই পরিবেশনে হাত লাগায়, কিন্তু দুই লাগায় যাতে খাওয়া শেষে কনের বাবা খোঁজেন, “ও কোথায় গেল?” দুর্বল অক্ষর I: সে মানুষের দিকে টানে, চাপা ভাবটা পরিস্থিতির, কারণ হাতের সাহায্য হয় দুজনের মধ্যে। বন্যার ত্রাণ শিবিরে মাইকে নাম ডেকে সবার সামনে চাল-ডাল বিলোতে হলে প্রশ্নমালা দেখায় E।
নিষ্ঠাবান
“আগে নিজে দেখি”: ছয়ের ভরসা এই কথাতেই দাঁড়িয়ে। ওষুধ কেনে পাড়ার সেই দোকান থেকে, যার মালিক বাবাকে চিনতেন, আর মনের কথা বলে কেবল স্কুলের দুই বন্ধুকে। বৃত্ত ছোট, নতুন লোক ঢোকে ধীরে, প্রশ্নমালা একে পড়ে I; এখনই যা যাচাই করা যায় তা প্রতিশ্রুতির চেয়ে ভারী, একে পড়ে S। সদরঘাটে নতুন ঝকঝকে লঞ্চে তিনজনের কেউ ওঠে না, কিন্তু ছয় পুরনোটায় ওঠে কারণ সারেংকে চেনে। টলমলে অক্ষর P: স্বভাবে সে বাঁধা রুটিনের দিকে, খোলা পরিকল্পনা শিখিয়েছে টিউশনি করে সংসার চালানোর বছরগুলো, যখন ছাত্রদের সময় রোজ বদলাত আর প্রতিটা ব্যবস্থার পাশে বিকল্প রাখতে হতো। স্কুলে চাকরি পাকা হলে দিন নিজেই গোছায়, আর প্রশ্নমালা দেখায় J।
03
তিনটির মধ্যে নিজেরটা কীভাবে চিনবেন
- বাইরে থেকে একই আচরণ
- মানুষটি কী আগলে রাখে, সেই প্রশ্ন
- আপনার নিজের কারণ, অক্ষর নয়
তিনজনই কম কথা বলে, সপ্তাহের বেশি আগে কিছু বাঁধে না, আর ভালোবাসা দেখায় কাজে; রোজকার দিনে তাদের আলাদা করা কঠিন। তফাত সেই জিনিসে, যেটা প্রত্যেকে আঁকড়ে থাকে।
গত বর্ষায় ভাগ্নেকে পুকুরে সাঁতার শিখিয়েছিলেন। এখন সে একাই এপার-ওপার করে, ডাকে না। এক সপ্তাহ পরে কী থাকে: স্বস্তি, যে বিকেলগুলো আবার নিজের, নাকি ফাঁকা লাগা, যেন ঘাটে আপনার আর দরকার নেই? স্বস্তি নয়ের দিকে, যার কাছে সম্পর্ক ততক্ষণই ভালো যতক্ষণ তাতে ঘষা নেই। ফাঁকা লাগা দুইয়ের দিকে, যে হারাল সেই জায়গা যেখানে তাকে দরকার ছিল।
বন্ধুর সদ্যোজাত শিশু এনআইসিইউ-তে, রাতে করিডরে তার পাশে বসার কেউ নেই; সেই রাতেই দশ বছরের পুরনো বন্ধুদের আড্ডা, সেই একই কেবিনে। শহরের ওপারে হলেও টান কোন দিকে? বন্ধুর করিডর টানে দুইকে, কেবিন টানে ছয়কে, যার কাছে পরখ করা মানুষ দরকারের চেয়ে ভারী।
বাড়িতে তর্ক জমছে, ভেলোরে বাবার চিকিৎসার খরচ কোন ভাই কতটা দেবে তাই নিয়ে। রাতে ঘুম আসে না কীসে: সেই থমথমে আওয়াজে, যা যেকোনো ছাড়ে থামাতে ইচ্ছে করে, নাকি এই না-জানায় যে শেষটা কোথায় দাঁড়াবে আর তারপর কার ভরসায় থাকা যাবে? থামানোর ইচ্ছে নয়ের দিকে, শেষগুলো একে একে কষে দেখা ছয়ের দিকে।
ISFP-র ফাঁদ এই শেষ প্রশ্নেই। “হারমোনিয়ামটা নিয়ে বসে পড়ি” ধরনের উত্তর আসলে I আর P-এর, কারণের নয়। চেনার উপায়: উত্তরে কাজ আছে, কিন্তু সে কাজ কীসের থেকে বাঁচায় তা নেই।
04
অক্ষর যা বলে না
মানুষ কীভাবে কাজ করে: অক্ষর এটুকুই দেখে
চারটি অক্ষরে যা নেই
- বিকাশের ধাপ
- সহজাত উপধরন
- চাপ কোথায় নিয়ে যায়
এননিয়াগ্রাম আর এমবিটিআই মানুষকে দুটো আলাদা রেখায় কাটে, তাই দুটোর মধ্যে বাঁধা কোনো মিল নেই, আর আমরা সেটা বানিয়েও দিই না। এননিয়াগ্রাম দেখে ভেতরের কল আর ভয়, এমবিটিআই দেখে তথ্য নেওয়ার আর সিদ্ধান্তের পছন্দ। ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়ানো মিলিয়ে দেখার ছকগুলো মাপ থেকে নয়, অনুমান থেকে তৈরি, আর নিজেদের মধ্যেও মেলে না। মাপা হয়েছে কেবল এক দিকের যোগ, এননিয়াগ্রাম ধরন থেকে আলাদা আলাদা অক্ষরের দিকে: ধরন জানা থাকলে অক্ষর একটু ভালো আন্দাজ করা যায়। এই পাতা পড়ছে উল্টো দিকে, যেখানে কোনো মাপ নেই, তাই ওপরের তিনটি কারণ কলটা বোঝানোর উদাহরণ, পুরো তালিকা নয়, আর ধরন নয়টির যেকোনোটিই হতে পারে। কবলে পড়লে ISFP-র দিন গড়ায় ঘুমে: দুপুরের ঘুম সন্ধে ছোঁয়, আর যে হাত রোজ কিছু সারাত, তা কম্বলের নিচে। সহজাত প্রবৃত্তি এই দক্ষতা পাঠায় ভাঁড়ার আর শরীরে, পাড়ার কোনো দায়িত্বে, বা একজন মানুষের পাশে। ভালো সময়ে মুখ ফুটে বলে, “এটা আমার ভালো লাগেনি”। ভার দীর্ঘ হলে গড়ানোর ঢাল ধরনের, অক্ষরের নয়: নয় প্রতিবেশীর ভালোমানুষিতে সন্দেহ খোঁজে, দুইয়ের কথা রূঢ় হয়, ছয় কাজের পর কাজে দম নেয় না।
05
প্রশ্ন
কোড ISFP, অথচ এননিয়াগ্রাম বলছে দুই নম্বর ধরন। তাহলে কি কোথাও ভুল হলো?
জরুরি নয়। দুই মানুষের দিকে এগোয়, কিন্তু দেখুন আপনার সাহায্যের চেহারা: একজনের সঙ্গে একজন, হাতে, নিজের কথা না বলে। এমন সাহায্য বাইরে থেকে অন্তর্মুখী দেখায়। শীতের ছুটির যে সপ্তাহে কেউ কিছু চায়নি, সেটা মনে করুন। তখন অস্থির লেগে থাকলে আর মন খুঁজতে শুরু করলে কার হাত দরকার, তবে দুই ঠিক জায়গায় আছে, আর I আসে আপনার জীবনের গড়ন থেকে।
সময়ে কোথাও পৌঁছতে পারি না, লোকে বলে “বাঙালি টাইম”। ধরনের যোগ আছে?
মুহূর্তে ডুবে থেকে ঘড়ি ভুলে যাওয়া P-এর ছবি, তিনজনেরই হতে পারে। দেরির কারণটা দেখুন। বেরোনোর মুখে কেউ কিছু বলছিল আর মাঝপথে থামিয়ে উঠতে মন সরেনি, এটা নয়ের কাছাকাছি। পথে কারও একটা দরকার চোখে পড়েছিল আর দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন, দুইয়ের কাছাকাছি। বেরোনোর আগে তিনবার দেখে নিচ্ছিলেন গ্যাস বন্ধ কি না, দরজায় তালা কি না, ছয়ের কাছাকাছি।
বাজারে আমি দরদাম করতে পারি না, যা চায় তাই দিয়ে দিই। কেন?
দরদামে মুখোমুখি হওয়া এড়ানো I আর F-এর, তিন কারণেই দেখা যায়। ধরন খোলে এই প্রশ্নে: দাম কষতে গিয়ে কী আটকায়। চড়া গলার টানাটানিটাই অস্বস্তিকর হলে তা নয়ের দিকে। মাছওয়ালারও সংসার আছে, দুটো টাকা বেশি গেলে তারই কাজে লাগবে, এমন মনে হলে দুইয়ের দিকে। আসলে ঘুরেফিরে সেই চেনা দোকানেই যাওয়া, যেখানে ঠকার ভয় নেই, এমন হলে ছয়ের দিকে।
আত্মীয়দের “এখন কী করছ?” প্রশ্নে আমি গুটিয়ে যাই। এটা কি ধরনের ব্যাপার?
ভিড়ে নিজের কথা বলতে কুণ্ঠা I-এর, তিনজনেরই চেনা। ধরন লুকিয়ে থাকে গুটিয়ে যাওয়ার কারণে। প্রশ্নটার পেছনে তুলনা আর তর্কের গন্ধ পেলে, আর চুপ থাকাই নিরাপদ লাগলে, তা নয়ের কাছে। অন্যদের জন্য যা করেন তার কোনো দাম ওই প্রশ্নে নেই বলে খারাপ লাগলে, দুইয়ের কাছে। সামনেটা নিজের কাছেই অনিশ্চিত, আর অস্পষ্ট উত্তর দিতে ভয় করলে, ছয়ের কাছে।