enneagramwing

কোড আর এননিয়াগ্রাম

ESFP আর Enneagram: এক হইচই, তিন রকম কারণ

তিন দিন ধরে “টু-লেট” বোর্ড দেখে বাসা খুঁজলেন। বাসা মিলল না, কিন্তু দালাল ভাইয়ের জীবনের গল্প জানা হয়ে গেল, এক বাড়ির দারোয়ান মেয়ের বিয়ের দাওয়াত দিয়ে দিলেন, আর ফোনে জমল দুই ভবিষ্যৎ প্রতিবেশীর নম্বর। টেস্ট বলেছে ESFP। এই অক্ষরগুলোর পেছনে Enneagram-এর তিনটে আলাদা কারণ থাকতে পারে, পাতাটা সেগুলো পাশাপাশি রাখে। ওই তিন দিন আপনাকে আসলে কী টানছিল, সেটাই খোঁজার বিষয়।

01

এই চারটি অক্ষর কী বলে

  1. শক্তি আসে কোথা থেকে

    ISFP
  2. তথ্য নেয় কীভাবে

    ENFP
  3. সিদ্ধান্ত নেয় কী দিয়ে

    ESTP
  4. পরিকল্পনা সামলায় কীভাবে

    ESFJ

পাশের কোড: একটি অক্ষর উল্টে গেলে

বাসে পাশের যাত্রীর কোলের বাচ্চাটাকে ESFP কোডের মানুষ পাঁচ মিনিটে হাসিয়ে ফেলে, আর নামার আগে বাচ্চার মায়ের সঙ্গেও গল্প জমে যায়। কোন টং দোকানের লেবু চা সবচেয়ে ভালো আর কোনটার বেঞ্চে বিকেলের রোদ পড়ে, সেটাও তার জানা। লম্বা ম্যানুয়াল সে পড়ে না, হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে শেখে। শুক্রবারের প্ল্যান ঠিক হয় দুপুরে বন্ধুর ফোনে, ঈদের কেনাকাটা চাঁদরাতে।

পাশের কোড ISFP-র সঙ্গে তাকে গুলিয়ে ফেলা সহজ: একই উষ্ণতা, একই হাতে-কলমে চলা। তফাত প্রথম অক্ষরে। বিয়েবাড়িতে ISFP রান্নাঘরে এক খালাতো বোনের সঙ্গে চুপচাপ পেঁয়াজ কাটে, ESFP তখন গায়েহলুদের মঞ্চে সবাইকে নাচিয়ে তুলছে। রাত দুটোয় অনুষ্ঠান শেষ হলে ISFP চায় নিঃশব্দ ঘর, ESFP চায় কাজিনদের নিয়ে স্টেশনের দোকানে আরেক কাপ চা।

এসব দেখে বোঝা যায় মানুষটা কীভাবে বাঁচে। কীসের টানে এভাবে বাঁচে, সে কথা এখানে লেখা নেই।

02

একই কোডের পেছনে তিনটি কারণ

নয়টির মধ্যে তিনটি উদাহরণ: এই কোড যে কোনো ধরন থেকে আসতে পারে

উল্টো পথ নেই: কোড থেকে কারণ বের হয় না

এই কারণের সবচেয়ে আলগা অক্ষর

9

শান্তিকামী

“দেখি, পরে জানাব”: চট্টগ্রামের চাকরির প্রস্তাবে নয় নম্বর ধরন সপ্তাহের পর সপ্তাহ এই উত্তরই দেয়, কারণ হ্যাঁ বা না যা-ই বলুক, বাড়ির কেউ না কেউ মন খারাপ করবে। এখান থেকে তার P। ছুটির দুপুরে পুকুরঘাটে পা ডুবিয়ে বসে থাকাই তার প্রিয়, কারণ সেখানে কিছু ঠিক করতে হয় না, কারও সঙ্গে মন কষাকষিও নেই: এটাই তার S।

বাকি দুজনের মতো সেও পরিবারের গ্রুপে ছবি পাঠিয়ে জমিয়ে রাখে, তবে পাঠায় ঝগড়ার পরের নীরবতা যাতে জমে না বসে।

তার E টিকে থাকে পরিস্থিতির জোরে। পাড়ার মাঠে রোজ বিকেলে ক্রিকেট হত, সে থাকত মাঝখানে; মাঠে বিল্ডিং উঠল, আর সন্ধেগুলো সে ঘরেই কাটায়, আফসোস ছাড়াই।

2

পরোপকারী

গ্রাম থেকে আসা নতুন সহকর্মী শহরে দিশেহারা। দুই নম্বর ধরন তার মুখ দেখেই বোঝে, আর শুক্রবারের মধ্যে তাকে বাসের রুট আর সস্তা মেস দুটোই চিনিয়ে দেয়। সিদ্ধান্ত সে নেয় মন দিয়ে, মানুষের মুখ দেখে: এই তার F। কারও কাজে আসা তার কাছে দূর থেকে হয় না, ফোনে মুখ দেখা যায় না, তাই সে নিজে গিয়ে হাজির হয়, আর এভাবেই তৈরি হয় E।

বাকি দুজনের মতো সেও গলির সব দোকানিকে নামে চেনে, তবে চেনে তাদের ছেলেমেয়ের খোঁজ নিতে নিতে।

তার P পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। নিজের দিন সে ঢিলেঢালা রাখে, কিন্তু পাড়ার রক্তদাতা গ্রুপ তাকে সমন্বয়ক বানানোর পর থেকে কার কোন গ্রুপ, শেষবার কবে দিয়েছে, খাতায় তোলে, একদিনও বাদ না দিয়ে।

7

উৎসাহী

না বলা সাত নম্বর ধরনের ধাতে নেই, কারণ প্রতিটা না তার কাছে কিছু একটা হারানো, আর এই থেকেই তার P। শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানে বেড়াতে গিয়ে সে পাতা তোলা মেয়েদের সঙ্গে গল্প জুড়ে দেয়, বিকেলে ম্যানেজারের বাংলোয় চায়ের দাওয়াত পায়। মানুষ আর ঘটনার দিকে সে সোজা এগোয়, ডাকের অপেক্ষা না করে: এই তার E।

বাকি দুজনের মতো সেও ঝগড়া তাড়াতাড়ি ভুলে যায়, তবে তার কাছে মনে পুষে রাখা মানে একটা দরজা বন্ধ করা।

তার S টেকে যতক্ষণ বর্তমানটা ভরা। একই রুটিনের দ্বিতীয় বছরে সে খাতায় লিখতে থাকে বেদেদের নৌকায় এক মাস কাটানোর পরিকল্পনা।

03

তিনটির মধ্যে নিজেরটা কীভাবে চিনবেন

  1. বাইরে থেকে একই আচরণ
  2. মানুষটি কী আগলে রাখে, সেই প্রশ্ন
  3. আপনার নিজের কারণ, অক্ষর নয়

তিনজনই আড্ডা জমায়, অন্যের মেজাজ ধরে ফেলে আর পরিকল্পনা আঁকড়ে থাকে না। বাইরে থেকে এটা একই হালকা, উষ্ণ স্বভাব, আর তফাত বোঝা যায় কেবল তখন, যখন জানতে চাওয়া হয় কী হারালে বুকে লাগত।

বোনের গায়েহলুদের পুরো আয়োজন আপনার হাতে ছিল। পরদিন সকালে মনে কী খচখচ করে: দুই খালা উপহার নিয়ে কথা কাটাকাটি করেছেন, নাকি কেউ বলেনি মঞ্চটা আপনি সাজিয়েছিলেন? প্রথমটা নয়ের দিকে ইঙ্গিত করে, দ্বিতীয়টা দুইয়ের দিকে।

অফিসে অডিট, তাই বন্ধুরা আপনাকে ছাড়াই লঞ্চে সুন্দরবন ঘুরে এল। কোনটা বেশি খোঁচায়: আপনি না থাকলেও রান্না আর বাজার দিব্যি সামলে নিয়েছে, নাকি ভোরবেলা খালের ধারে হরিণ দেখার মুহূর্তটা আপনি পাননি? দরকার না পড়ার কষ্ট দুইয়ের, হাতছাড়া হওয়ার কষ্ট সাতের।

ঈদের ছুটি কোথায় কাটাবেন: গ্রামে বাবা-মায়ের কাছে, যেখানে প্রতিটা দিন আগের দিনের মতো, নাকি বন্ধুদের সঙ্গে বান্দরবানে, যেখানে পাহাড় আছে, আবার দুই বন্ধুর মধ্যে ঠান্ডা লড়াইও আছে? যে একঘেয়েমি সইতে পারে কিন্তু মন কষাকষি নয়, সে নয়ের কাছাকাছি; যে উল্টো, সে সাতের।

এই শেষ প্রশ্নেই এই কোড হোঁচট খায়। মানুষটার আগে অক্ষর উত্তর দিয়ে দেয়: বান্দরবান, আবার কী। উত্তরটা E আর P-র, কারণের নয়, কারণ নয়ের কাছে হইচইও শান্ত একটা পটভূমি হতে পারে। মিলিয়ে নিন স্মৃতি দিয়ে: বন্ধুদের শেষ ঝগড়াটা কত দিন মনের মধ্যে ছিল, আর শেষ ম্যাড়মেড়ে সপ্তাহটা কত দিন।

04

অক্ষর যা বলে না

মানুষ কীভাবে কাজ করে: অক্ষর এটুকুই দেখে

চারটি অক্ষরে যা নেই

  • বিকাশের ধাপ
  • সহজাত উপধরন
  • চাপ কোথায় নিয়ে যায়

এননিয়াগ্রাম আর এমবিটিআই মানুষকে দুটো আলাদা রেখায় কাটে, তাই দুটোর মধ্যে বাঁধা কোনো মিল নেই, আর আমরা সেটা বানিয়েও দিই না। এননিয়াগ্রাম দেখে ভেতরের কল আর ভয়, এমবিটিআই দেখে তথ্য নেওয়ার আর সিদ্ধান্তের পছন্দ। ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়ানো মিলিয়ে দেখার ছকগুলো মাপ থেকে নয়, অনুমান থেকে তৈরি, আর নিজেদের মধ্যেও মেলে না। মাপা হয়েছে কেবল এক দিকের যোগ, এননিয়াগ্রাম ধরন থেকে আলাদা আলাদা অক্ষরের দিকে: ধরন জানা থাকলে অক্ষর একটু ভালো আন্দাজ করা যায়। এই পাতা পড়ছে উল্টো দিকে, যেখানে কোনো মাপ নেই, তাই ওপরের তিনটি কারণ কলটা বোঝানোর উদাহরণ, পুরো তালিকা নয়, আর ধরন নয়টির যেকোনোটিই হতে পারে। বিকাশের নিচের ধাপে এই প্রাণচাঞ্চল্য নিজের থেকে পালানোর উপায় হয়ে ওঠে: বাড়ি ফাঁকা থাকলে সে একা খেতে পারে না, রাস্তার দোকানে অচেনাদের ভিড়ে খেয়ে আসে। চাপ বাড়লে তিনজনের পথ আলাদা হয়: নয় নম্বর ধরন পুরোনো মেসেজ বারবার পড়ে খোঁচা খোঁজে, দুই নম্বর হঠাৎ দাবি করে আর চাপ দেয়, সাত নম্বর খুঁটিনাটিতে খুঁত ধরে। এর কোনোটাই ESFP থেকে আসে না। কোন সহজাত প্রবৃত্তি সামনে, সেটাও কোড দেখায় না।

05

প্রশ্ন

কোড ESFP, অথচ Enneagram বলছে সাত নম্বর ধরন। দুটো মেলে কী করে?

মেলে, আর প্রশ্নটা এখানে S নিয়ে। সাত নম্বর ধরন টানে যা এখনো ঘটেনি তার দিকে: পরের আইডিয়া, পরের জায়গা, পরের ছুটির প্ল্যান। তার S ততক্ষণ টেকে, যতক্ষণ চারপাশে রঙ আর স্বাদ ভরপুর। শেষ বৃষ্টির দিনটা মনে করুন: আপনি ছিলেন খিচুড়ির গন্ধ আর টিনের চালের শব্দে, নাকি বৃষ্টি থামলে কোথায় যাবেন তার হিসাবে? দ্বিতীয়টা হলে ফলটা সত্যির কাছাকাছি।

একা সন্ধে কাটাতে খুব কষ্ট হয়। এটা অক্ষরের ব্যাপার, নাকি ধরনের?

কষ্টটা অক্ষরের, কারণটা ধরনের। নয় নম্বর ধরনের দরকার সবার একসঙ্গে চলার ছন্দ, যাতে সে শান্ত থাকে; দুইয়ের দরকার এমন মানুষ, যাদের তাকে প্রয়োজন; সাতের দরকার ছোটাছুটি, যাতে যা থেকে সে পালায় তা চোখে না পড়ে। কোন মেসেজটা সন্ধেটা বাঁচাত: “আমরা সবাই রহিমের বাসায়, চলে আয়”, “একটু সাহায্য লাগবে”, নাকি “চল, নতুন কোথাও যাই”?

বন্ধুদের সঙ্গে বেরোলে বাজেট ছাড়িয়ে যায়। এর পেছনে কোনো কারণ আছে?

আছে, আর তিন ধরনে তিন রকম। নয় সবার তাল থেকে আলাদা হতে চায় না, তাই সবাই যা নেয় সেও তাই নেয়। দুই অন্যের বিল দিয়ে দেয়, কারণ খাওয়ানো মানেই দরকারি থাকা। সাত টেবিলে আসা ভালো বিকল্পটা ছাড়তে পারে না। এখন ভাবুন, কেউ জিজ্ঞেস করলে আপনি কী বলতেন: “সবাই তো নিল”, “ওরা খুশি হয়েছে”, নাকি “এমন সুযোগ রোজ আসে না”।

কারও মন খারাপ হলে আমিই আগে টের পাই। তাহলে কি আমি দুই নম্বর ধরন?

সবসময় নয়। মেজাজ ধরতে সাহায্য করে S আর F: আপনি মুখ আর গলার সুর দেখেন। তারপর কারণগুলো আলাদা হয়। দুই এগিয়ে যায় সাহায্য করতে, নয় ঘরের আবহাওয়া সহজ করে, সাত সবাইকে হাসায়, যাতে ভার কারও ঘাড়ে না চাপে, নিজেরও না। মন খারাপটা না কাটলে কোনটা বেশি অস্থির করে: আড্ডার সুর কেটে গেল, আপনি কিছু করতে পারলেন না, নাকি সন্ধেটাই মাটি হলো?

নিজের ধরন, ডানা আর ধাপ জানুন

১০৮টি প্রশ্ন, ফলাফল সঙ্গে সঙ্গে

নিজের ধরন, ডানা আর ধাপ জানুন