কোড আর এননিয়াগ্রাম
Enneagram আর ESTP: ঝুঁকি একই, টান আলাদা
ভাবুন তো, শেষ কবে কোনো সিদ্ধান্তের জন্য আপনি পুরো এক সপ্তাহ অপেক্ষা করেছেন। ESTP-এর অক্ষর এই গতিটা ধরে, কিন্তু এননিয়াগ্রামের কোন ধরন আপনার, তা বলে না; নিচে বরং দেখা যাবে, তিনটে একেবারে আলাদা আবেগ কীভাবে একই ঝুঁকি-নেওয়া মানুষ গড়ে। বাইরে তিনজনই সমান চটপটে, আর তফাতটা থাকে সেখানে, যেখানে অক্ষর পৌঁছয় না।
01
এই চারটি অক্ষর কী বলে
ESTP কোডের মানুষ অচেনা অবস্থায় আগে হাত লাগায়, ভাবে পরে। বর্ষায় গলিতে হাঁটুজল জমলে বাকিরা যখন পৌরসভাকে দুষছে, সে ততক্ষণে ইট পেতে পারাপারের পথ বানিয়ে ফেলেছে। মাসের শুরুতে লেখা কেনাকাটার ফর্দ মাঝপথে বদলে যায়, কারণ পথে একটা ভালো দাঁও মিলেছে। মাছের বাজারে দরদাম সে উপভোগ করে, হারলেও হাসে; অপ্রিয় কথা বলে সোজাসুজি। নতুন অফিসে প্রথম দিনেই সে জেনে যায়, কোন বেয়ারাকে ধরলে চা আগে আসে, আর তত্ত্বের লম্বা আলোচনায় তার হাই ওঠে। সব মিলিয়ে একটা স্বাদ তৈরি হয়, যা আলাদা কোনো অক্ষরে নেই: ঝুঁকির হিসাব সে কষে কাগজে নয়, ঘটনাস্থলে।
বাইরে থেকে তার সবচেয়ে কাছাকাছি ISTP: একই ঠান্ডা মাথা, একই হাতেকলমে কাজের ঝোঁক। তফাত E আর I-এ। মোড়ে মোটরবাইক বিগড়োলে ISTP চুপচাপ নিজেই প্লাগ খুলে দেখে; ESTP ততক্ষণে দুজন পথচারী আর পাশের গ্যারেজের মিস্ত্রিকে জুটিয়ে দর কষাকষি শুরু করেছে। বড় ঝুঁকির পর ISTP হিসাবটা একা মেলায়, ESTP গল্পটা সন্ধ্যার আড্ডায় শোনায়।
এগুলো দেখায় মানুষটা কত দ্রুত চলে; কীসের দিকে ছুটছে আর কী থেকে পালাচ্ছে, সেখানে এরা নীরব।
02
একই কোডের পেছনে তিনটি কারণ
নয়টির মধ্যে তিনটি উদাহরণ: এই কোড যে কোনো ধরন থেকে আসতে পারে
উল্টো পথ নেই: কোড থেকে কারণ বের হয় না
এই কারণের সবচেয়ে আলগা অক্ষর
দৃঢ়চেতা
জমি কেনার আগে আট নম্বর ধরন নিজে গিয়ে আল মেপে আসে, দলিলের মিষ্টি কথায় ভোলে না: যা ছোঁয়া যায় না, তাতে তার ভরসা নেই, আর এখানেই তার S। কেউ “এভাবেই করতে হবে” বললে সে অন্যভাবে করে দেখায়, সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত খোলা রাখে, যাতে কেউ তার লাগাম ধরতে না পারে, এটা তার P। সে আগলায় নিজের ওপর নিজের হাত। পাড়ার ম্যাচে বাজির অঙ্ক বাড়াতে পারে তিনজনেই; আট বাড়ায়, কারণ পিছিয়ে আসা মানে মাথা নোয়ানো। সবচেয়ে কম পোক্ত তার T। অচেনার সঙ্গে সে ঠান্ডা হিসাবি, কিন্তু রাস্তায় কেউ দুর্বল কাউকে মারলে হিসাব থেমে যায়, সিদ্ধান্ত নেয় গরম রক্ত।
উচ্চাকাঙ্ক্ষী
“আজ কী দেখাতে পারলাম?” এই প্রশ্নে তিন নম্বর ধরনের দিন শেষ হয়, আর তার দাম মাপা হয় কেবল ফলে। ফল চাই চোখে দেখার মতো আর তাড়াতাড়ি: মাসের শেষে সেলসের বোর্ডে নিজের নামের পাশের অঙ্কটা, এখান থেকে তার S। মন খারাপ সে তুলে রাখে পরের জন্য, মুখে থাকে লাভ-ক্ষতি; ক্রেতা ফিরিয়ে দিলে ভেঙে পড়ে না, পরের জনের দিকে ঘোরে, বাইরে থেকে এটাই T। মেলার স্টলে ভিড় জমানো তিনজনের কাছেই সহজ; তিন জমায়, কারণ ভিড়টাই সাফল্যের প্রমাণ, আর ছবিটা রাতে ফেসবুকে যাবে। সবচেয়ে দুর্বল তার P। যেখানে সাফল্য আসে নিয়ম মেনে, যেমন সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে, সে ঘণ্টা ধরে রুটিন বাঁধে, আর উত্তর সরে যায় J-এর দিকে।
উৎসাহী
ফোনে দুটো দাওয়াত, একটা সিনেমার টিকিট আর একটা ট্যুরের প্রস্তাব, কোনোটাতেই পাকা “হ্যাঁ” নেই: সাত নম্বর ধরনের P এভাবেই সব রাস্তা খোলা রাখে। হাতের কাজ একঘেয়ে হলে সে পাশে আরেকটা শুরু করে, কারণ আটকে থাকা তার কাছে অসমাপ্ত কাজের চেয়ে খারাপ। তার E-ও একটা বেরোনোর পথ: মন ভার হলে সে একা বসে না, বন্ধুদের ডেকে চায়ের দোকানে আড্ডা বসায়। হঠাৎ রাতের বাসে বন্ধুদের নিয়ে পাহাড়ে চলে যেতে পারে তিনজনের যে কেউ; সাত যায়, কারণ ভেতরে কিছু একটা চাপ দিতে শুরু করেছিল। সবচেয়ে আলগা তার S। হাসপাতালের করিডরে অপেক্ষার সময় তার মাথা চলে যায় পরের মাসের পরিকল্পনায়: বর্তমান তাকে ধরে রাখে কেবল যতক্ষণ তা মধুর।
03
তিনটির মধ্যে নিজেরটা কীভাবে চিনবেন
- বাইরে থেকে একই আচরণ
- মানুষটি কী আগলে রাখে, সেই প্রশ্ন
- আপনার নিজের কারণ, অক্ষর নয়
তিনটে তাগিদই ESTP-কে একই জিনিস দেয়: চটজলদি বাজি, অন্যের বাঁধা ছকে না চলা, দরদামে খোলা কথা। কে কীভাবে ঝুঁকি নেয় তা দেখে লাভ নেই, তিনজনেই নেয়, আর সমান দক্ষতায়।
আট না তিন? মিটিংয়ে বসের সামনে আপনার প্রস্তাব বাতিল হলো, আর নেওয়া হলো এক জুনিয়রেরটা। কোনটা বেশি দিন জ্বালায়: যে আপনার জায়গায় অন্য কেউ সিদ্ধান্ত নিল, নাকি যে সবাই আপনাকে হারতে দেখল? প্রথম জ্বালা আটের কাছাকাছি, দ্বিতীয়টা তিনের।
তিন না সাত? একটা চুক্তি নিলে দুই বছর একই জেলায় একঘেয়ে কাজ, শেষে বড় নাম; না নিলে আপনি স্বাধীন, কিন্তু নাম নেই। কোনটা রাখবেন: লোকে কদর করবে এমন ফল, নাকি যখন খুশি বেরিয়ে যাওয়ার অধিকার? প্রথমটা টানে তিনের দিকে, দ্বিতীয়টা সাতের দিকে।
আট না সাত? বাড়িওয়ালা হঠাৎ ভাড়া দ্বিগুণ করলেন, আর চুক্তিতে সেটা আটকানোর উপায় নেই। প্রথম জোরটা যায় কোথায়: সোজা গিয়ে মুখোমুখি লড়তে, নাকি ততক্ষণে অন্য বাসা খুঁজতে? লড়াই আটের পথ, সরে পড়া সাতের।
এই কোডের নিজস্ব ফাঁদ আছে। কী জ্বালায়, এই প্রশ্নে ESTP উত্তর দেয় পরের চাল দিয়ে: “আমি ওসব নিয়ে পড়ে থাকি না, পরের কাজ ধরি।” এটা S আর P-এর উত্তর, তিনজনের বেলাতেই খাটে, কিছু আলাদা করে না। চেনার উপায় সহজ: উত্তরে যদি সামনে কী করবেন তার ক্রিয়া থাকে, আর কী হারিয়ে কষ্ট হয়েছিল তা না থাকে, প্রশ্নের উত্তর এখনো দেওয়া হয়নি।
04
অক্ষর যা বলে না
মানুষ কীভাবে কাজ করে: অক্ষর এটুকুই দেখে
চারটি অক্ষরে যা নেই
- বিকাশের ধাপ
- সহজাত উপধরন
- চাপ কোথায় নিয়ে যায়
এননিয়াগ্রাম আর এমবিটিআই মানুষকে দুটো আলাদা রেখায় কাটে, তাই দুটোর মধ্যে বাঁধা কোনো মিল নেই, আর আমরা সেটা বানিয়েও দিই না। এননিয়াগ্রাম দেখে ভেতরের কল আর ভয়, এমবিটিআই দেখে তথ্য নেওয়ার আর সিদ্ধান্তের পছন্দ। ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়ানো মিলিয়ে দেখার ছকগুলো মাপ থেকে নয়, অনুমান থেকে তৈরি, আর নিজেদের মধ্যেও মেলে না। মাপা হয়েছে কেবল এক দিকের যোগ, এননিয়াগ্রাম ধরন থেকে আলাদা আলাদা অক্ষরের দিকে: ধরন জানা থাকলে অক্ষর একটু ভালো আন্দাজ করা যায়। এই পাতা পড়ছে উল্টো দিকে, যেখানে কোনো মাপ নেই, তাই ওপরের তিনটি কারণ কলটা বোঝানোর উদাহরণ, পুরো তালিকা নয়, আর ধরন নয়টির যেকোনোটিই হতে পারে। ভাটার সময়ে ESTP-এর চটপটে ভাব জুয়ায় গড়ায়: ধার করে শেয়ারে টাকা ঢালা, দরদামে অন্যকে কোণঠাসা করা; জোয়ারের সময়ে একই অক্ষর দলের জন্য নতুন বাজার খোলে। শক্তি কোথায় খরচ হয়, নিজের লোকের নিরাপত্তায়, বড় মহলে জায়গা পেতে, নাকি একজন মানুষে, অক্ষর তা দেখে না। আর চাপে একজন চুপ মেরে রাত জেগে একা হিসাব ঘাঁটে, আরেকজন বড় কাজ ফেলে ড্রয়ার গোছায়, তৃতীয়জন সবার দেরি আর ভুল ধরে খিটখিট করে।
05
প্রশ্ন
ESTP-র সঙ্গে সাত নম্বর ধরন: পরীক্ষার ভুল, নাকি দুটোই সত্যি?
দুটোই সত্যি হতে পারে, তবে S-টা দেখুন। মাপা যোগ সাতকে টানে N-এর দিকে: তার মন ছোটে সামনের ভাবনায়। ESTP কোডের সাতের বর্তমান টেকে, যতক্ষণ বর্তমান মধুর। মনে করুন জমি ভাগ নিয়ে একটা লম্বা অস্বস্তিকর পারিবারিক বৈঠক। আপনার মন কোথায় ছিল, ঘরে না পরের ব্যবসার আইডিয়ায়? দ্বিতীয়টা হলে কোড আর ফল ঝগড়া করছে না: S এখানে রুচি, খুঁটি নয়।
সবাই বলে ESTP মানেই ঝুঁকির নেশা। এই নেশাই কি আমার তাড়না?
না, ঝুঁকি একটা ধরন-ধারণ, তিনটে তাগিদেই এক। আট ঝুঁকি নেয় যাতে অবস্থার কাছে ছোট না হয়, তিন নেয় এমন জয়ের জন্য যা লোকে দেখবে, সাত নেয় যাতে অপ্রিয় কিছুর পাশে বসে থাকতে না হয়। ধরুন ডাক্তার বললেন, এক বছর মোটরবাইক, শেয়ার আর রাত-জাগা ট্রিপ বন্ধ। সবচেয়ে অসহ্য কোনটা: হাল হাতছাড়া, নাম করার সুযোগ হাতছাড়া, নাকি খাঁচায় আটকে পড়া?
নিজেকে নিয়ে কাটাছেঁড়া আমার ধাতে নেই। তাহলে তাগিদ খুঁজব কীভাবে?
কাটাছেঁড়া লাগবে না, একটা ঘটনা লাগবে। শেষ যে রাতে ঘুম আসেনি, তার আগের দিনটা মনে করুন, আর খুঁজুন আপনি কী করেছিলেন তা নয়, দিনের কোন মুহূর্তটা অসহ্য লেগেছিল। এই কোডের মানুষের কাছে অনুভূতি ব্যাখ্যার চেয়ে দৃশ্য মনে করা সহজ, আর সেটাই কাজের পথ: দৃশ্যে দেখা যায় আপনার কাছ থেকে কী কেড়ে নেওয়া হচ্ছিল, হাল, মুখ, না বেরোনোর রাস্তা।
লম্বা প্রকল্পে আমি অল্পেই হাঁপিয়ে উঠি। এতে ধরনের কিছু বোঝা যায়?
শুধু বিরক্তিতে নয়: দীর্ঘ কাজে তিনজনেরই বিরক্তি আসে, তবে আলাদা কারণে। আটের দম আটকায় যখন ঠেলার মতো কিছু থাকে না। তিনের ফাঁকা লাগে যখন ফল চোখে পড়ে না। সাতের ভারী লাগে যখন কাজটা তাকে অপ্রিয় কিছুর পাশে বেঁধে রাখে। শেষ যে কাজটা মাঝপথে ফেলে এসেছেন, সেটা মনে করে বলুন কী ছিল না: লড়ার মতো প্রতিপক্ষ, হাততালির লোক, নাকি বেরোনোর দরজা।