enneagramwing

কোড আর এননিয়াগ্রাম

ISTP আর Enneagram: চুপচাপ কাজের লোকের তিন তাগিদ

লোকাল ট্রেনে পাশের যাত্রীর পকেটে পকেটমারের হাত ঢুকতেই আপনি চুপচাপ তার কবজি ধরে পরের স্টেশনে নামিয়ে দিলেন, একটা কথাও না বলে। MBTI-র ISTP তাই অবাক করে না, এখন জানতে ইচ্ছে এননিয়াগ্রামের ধরন। চার অক্ষর থেকে নম্বরে সোজা পথ নেই, তাই এই পাতা স্থিরতাটাকে তিন শিকড়ে ভাগ করে। সিদ্ধান্ত নিজের হাতে রাখা, অন্যের কাজে লাগা, শক্তি গুনে রাখা: তিন তাগিদেই কবজিটা একইভাবে ধরা যায়।

01

এই চারটি অক্ষর কী বলে

  1. শক্তি আসে কোথা থেকে

    ESTP
  2. তথ্য নেয় কীভাবে

    INTP
  3. সিদ্ধান্ত নেয় কী দিয়ে

    ISFP
  4. পরিকল্পনা সামলায় কীভাবে

    ISTJ

পাশের কোড: একটি অক্ষর উল্টে গেলে

ISTP কোডের মানুষ অচেনা শহরে রাস্তা কাউকে জিজ্ঞেস করে না, নিজে খুঁজে নেয়। সদরঘাটে লঞ্চ ছাড়তে দেরি হলে সবাই যখন হইচই করে, সে ততক্ষণে ইঞ্জিনঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে খালাসির কাছে জেনে নিয়েছে কোন পাম্পটা বিগড়েছে। পারিবারিক আড্ডায় কথা বলে কম, কিন্তু কেউ কিছু সারাতে ডাকলে সবার আগে ওঠে। যে কাজে মন বসে তাতে ঘণ্টার খেয়াল থাকে না, আগ্রহ ফুরোলে সেটা আধখানা পড়ে থাকে। সব মিলিয়ে সে এমন একজন, হইচইয়ের মধ্যে যাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন আর গোলমালের মধ্যে যাকে খুঁজতে হয় না।

পাশাপাশি রাখলে সবচেয়ে গুলিয়ে যায় ISTJ-এর সঙ্গে: সেও চুপচাপ, কাজের মানুষ, যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। তফাত শেষ অক্ষরে। টিউশনিতে ISTJ সিলেবাস ধরে সপ্তাহে সপ্তাহে এগোয়, কোনো অধ্যায় বাদ পড়ে না। ISTP সেদিন যে অধ্যায়ে ছাত্রের চোখ জ্বলে ওঠে সেটাই দু ঘণ্টা ধরে পড়ায়, বাকিটা পিছিয়ে যায়, তারপর পরীক্ষার আগের সপ্তাহে এক টানা সব গুছিয়ে দেয়। ISTJ কাজ সারে যে ক্রমে তা এসেছে, ISTP সেই ক্রমে যে ক্রমে আগ্রহ জাগে।

কেন সে এভাবে বাঁচে, চারটে অক্ষরের কোথাও তার উত্তর লেখা নেই।

02

একই কোডের পেছনে তিনটি কারণ

নয়টির মধ্যে তিনটি উদাহরণ: এই কোড যে কোনো ধরন থেকে আসতে পারে

উল্টো পথ নেই: কোড থেকে কারণ বের হয় না

এই কারণের সবচেয়ে আলগা অক্ষর

8

দৃঢ়চেতা

“নিজের চরকায় তেল দিন”: আট নম্বর ধরনের ISTP কথাটা মুখে না বললেও চলাফেরায় বুঝিয়ে দেয়। সে আগলায় নিজের ব্যাপারে শেষ কথা বলার অধিকার। কে মনঃক্ষুণ্ণ হবে না ভেবে ঠিক-ভুল দিয়ে বিচার করাটা তার T; কাজ ধরে যখন নিজে ঠিক করে, দমবন্ধ লাগলে চুপচাপ জায়গা বদলায়, এটা P। নেমন্তন্নে তিনজনেই নিজের সময়ে পৌঁছোয়, কিন্তু আট দেরি করে কারণ অন্যের বেঁধে দেওয়া ঘড়ি মানা তার কাছে হার মানার মতো। তার সবচেয়ে কাঁচা অক্ষর I। এই চুপ থাকা স্বভাব নয়, বেছে নেওয়া: অফিসে কেউ তার সারানো মেশিনের কৃতিত্ব নিজের বলে চালাতে গেলে এই শান্ত মানুষটাই এমন গলা চড়ায় যে পাশের ঘর থেকে লোক উঁকি দেয়।

2

পরোপকারী

কোরবানির ঈদের আগের রাতে পাড়ার তিনটে বাড়ির ফ্রিজ দেখে দিয়ে আসে দুই নম্বর ধরনের ISTP। অন্যের জীবনে তার জায়গা তৈরি হয় কথায় নয়, হাতের কাজে: আলগা প্লাগ, ঝুলে পড়া দরজার কবজা আগে তার চোখে পড়ে, এটা S; ফোন এলে নিজের পরিকল্পনা তখনই মুলতবি, এটা P। তিনজনেই অন্যের বাড়ির জিনিস সারিয়ে দেয়, কিন্তু নিজের বাড়ির লোক কিছু চাইলে দুই-এর উৎসাহ নিভে যায়, কারণ সেখানে সে নতুন করে দরকারি হয়ে ওঠে না। তার সবচেয়ে আলগা অক্ষর T। ঠান্ডা মাথাটা এসেছে হাতের কাজ থেকে, তার আর যন্ত্রাংশ থেকে; মানুষের বেলায় সে মাপে কার মনে লাগবে। মেসের ম্যানেজার হয়ে কাউকে বকেয়া ভাড়ার কথা বলতে হলে দিনের পর দিন পিছোয়।

5

জিজ্ঞাসু

ছাদের কোণ, নদীর ঘাট, সাইবার ক্যাফের শেষ চেয়ার: পাঁচ নম্বর ধরনের ISTP এমন জায়গা চেনে যেখানে কেউ তার কাছে কিছু চাইবে না। সে বাঁচিয়ে রাখে সময়, শক্তি আর নীরবতা। আত্মীয়বাড়িতে এক কাপ চায়ের বেশি না থাকাটা তার I; কেউ কাজ দিলে আগে মেপে নেওয়া কতটা শক্তি যাবে আর তা পোষাবে কিনা, এটা T। তিনজনেই রাস্তা জিজ্ঞেস না করে ম্যাপ দেখে, কিন্তু পাঁচ জিজ্ঞেস করে না কারণ অচেনা লোকের সঙ্গে দু মিনিটের কথাও তার কাছে খরচ। তার সবচেয়ে টলমলে অক্ষর S। হাত চলে জিনিসের চেয়ে জিনিসের পেছনের নিয়ম জানার কৌতূহলে: এবার কালবৈশাখী কেন দেরিতে এল, সে বোঝাতে পারে, অথচ বেরোনোর সময় ছাতাটা নিতে ভোলে। টেস্ট তখন N দেখাতে পারে।

03

তিনটির মধ্যে নিজেরটা কীভাবে চিনবেন

  1. বাইরে থেকে একই আচরণ
  2. মানুষটি কী আগলে রাখে, সেই প্রশ্ন
  3. আপনার নিজের কারণ, অক্ষর নয়

তিনজনেই কম কথা বলে, বিপদে ঘাবড়ায় না, মাঝে মাঝে উধাও হয়। তফাত হলো, কে কোন জিনিসে কাউকে হাত দিতে দেয় না।

বাজারে ঠকে আসা ফ্রিজটা আপনি নিজে ফেরত দিতে যাবেন ভেবেছিলেন, বন্ধু আগেই দোকানির সঙ্গে ঝগড়া করে টাকা ফেরত এনেছে। আগে কী ওঠে: বিরক্তি যে আপনার ব্যাপার অন্য কেউ মেটাল, নাকি অস্বস্তি যে এবার সাহায্যটা আপনি নিলেন? বিরক্তি আটের দিকে, অস্বস্তি দুইয়ের দিকে।

গ্রামের বাড়িতে দুই সপ্তাহ, নেটওয়ার্ক নেই, কেউ কাজে ডাকছে না। এটা কি শেষমেশ নিজের সময়, নাকি এমন ফাঁকা যে বোঝা যায় না আপনি আছেন কীসের জন্য? নিজের সময় পাঁচের মতো; ফাঁকা দুইয়ের মতো, অন্যের দরকার না থাকলে যার আঁকড়ে ধরার কিছু থাকে না।

গ্রামের নৌকাবাইচের দল বহু বছর আপনি সাজাতেন, এবার চেয়ারম্যানের ভাইপো সব নিজের মতো করতে চায়। কোনটা রাখবেন: নিজের মতো চালানোর অধিকার, সংঘাত হলেও, নাকি সরে এসে না জড়ানোর অধিকার? প্রথমটা আটের দিকে, দ্বিতীয়টা পাঁচের দিকে।

তৃতীয় প্রশ্নে ISTP-র অক্ষর পুরনো রাস্তাই ধরে: ঘাট থেকে নৌকা সরিয়ে নেওয়া। একা সরে যাওয়া I আর P-এর চেনা চাল, তাই উত্তর আপনা থেকে পাঁচের দিকে গড়ায়। এবার ভাবুন: আপনি সরে এসেছেন, তবু ভাইপো রোজ লোক পাঠায় ফিরে আসতে। রাগ চড়লে আর স্পষ্ট শুনিয়ে দিতে ইচ্ছে হলে সরে আসাটা ছিল রাশ ধরে রাখার উপায়, আটের কাছাকাছি। শুধু ক্লান্তি আর আরও দূরে যাওয়ার ইচ্ছে হলে পাঁচের কাছাকাছি।

04

অক্ষর যা বলে না

মানুষ কীভাবে কাজ করে: অক্ষর এটুকুই দেখে

চারটি অক্ষরে যা নেই

  • বিকাশের ধাপ
  • সহজাত উপধরন
  • চাপ কোথায় নিয়ে যায়

এননিয়াগ্রাম আর এমবিটিআই মানুষকে দুটো আলাদা রেখায় কাটে, তাই দুটোর মধ্যে বাঁধা কোনো মিল নেই, আর আমরা সেটা বানিয়েও দিই না। এননিয়াগ্রাম দেখে ভেতরের কল আর ভয়, এমবিটিআই দেখে তথ্য নেওয়ার আর সিদ্ধান্তের পছন্দ। ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়ানো মিলিয়ে দেখার ছকগুলো মাপ থেকে নয়, অনুমান থেকে তৈরি, আর নিজেদের মধ্যেও মেলে না। মাপা হয়েছে কেবল এক দিকের যোগ, এননিয়াগ্রাম ধরন থেকে আলাদা আলাদা অক্ষরের দিকে: ধরন জানা থাকলে অক্ষর একটু ভালো আন্দাজ করা যায়। এই পাতা পড়ছে উল্টো দিকে, যেখানে কোনো মাপ নেই, তাই ওপরের তিনটি কারণ কলটা বোঝানোর উদাহরণ, পুরো তালিকা নয়, আর ধরন নয়টির যেকোনোটিই হতে পারে। পকেটমার ধরা মানুষটা কবলে পড়লে শরীরকেও যন্ত্রের মতো চালায়: জ্বর নিয়ে কাজে যায়, ডাক্তারের কথায় বলে “ও কিছু না”। ভালো সময়ে সেই মানুষই বলতে পারে, আজ পারছি না। এই হাত সংসারে, একজনের জন্য, নাকি দলে খাটবে, তা ঠিক হয় জোরালো সহজাত প্রবৃত্তিতে। লম্বা চাপে তিনজন নিজের রেখা ধরে গড়ায়: আট চুপ করে ঠিক করে কাকে আর বিশ্বাস নয়, দুই হঠাৎ দাবি তোলে, পাঁচ দশটা কাজ ধরে একটাও শেষ করে না।

05

প্রশ্ন

দুই নম্বর ধরন মানে তো পরের উপকারে ছোটা। ISTP-র সঙ্গে এটা যায় কী করে?

ভুল হওয়া জরুরি নয়; দেখতে হবে T। এই অক্ষরের দুই-এর যুক্তি হাতের কাজ থেকে ধার হতে পারে: যন্ত্রের সামনে ঠান্ডা, মানুষের সামনে নরম। প্রতিবেশী ছেলের বানানো রোবট দেখিয়ে জানতে চাইলেন কেমন, আর সার্কিটে গোলমাল। সোজা বলবেন, নাকি ছেলেটার মুখ দেখে “দারুণ” বলবেন? দ্বিতীয়টা হলে কারণ দুইয়ের। মানুষের বেলাতেও যুক্তি চললে ওপরের প্রশ্ন দেখুন।

বর্ষার পদ্মায় সাঁতার, সুন্দরবনের খাঁড়িতে নৌকা: ঝুঁকি যত, টান তত। কেন?

ঝুঁকির স্বাদ অক্ষরের: S মনোযোগ রাখে শরীরে আর এই মুহূর্তে, P আগে থেকে সব নিরাপদে বেঁধে রাখতে দেয় না। কারণ বোঝা যায় যাওয়ার আগে কী গোছান তাতে। আট প্রায় কিছুই গোছায় না, দেখতে চায় কিছু তাকে আটকায় কিনা। পাঁচ জোয়ার-ভাটার সময় মুখস্থ করে, সেখানে শুধু দক্ষতা বলে, কেউ কিছু আশা করে না। দুই তখনই যায়, যখন কাউকে পথ দেখানোর লোক লাগে।

মাঝে মাঝে কয়েক দিন ফোন বন্ধ রাখি, বাড়ির লোক ভাবে রাগ করেছি। কেন এমন?

উধাও হওয়াটা অক্ষরের: I একা থেকে শক্তি ফেরায়, P ফেরার দিন ঠিক করে না। পেছনের কারণ বোঝা যায়, বাড়ির লোক বারবার ফোন করলে আপনার কেমন লাগে তাতে। পাঁচের লাগে দখল হয়ে যাওয়ার মতো, আরও ক্লান্তি আসে। আটের লাগে চাপের মতো, সে ফিরবে নিজের শর্তে। দুই ভেতরে ভেতরে খুশি হয়, কারণ কেউ তো খুঁজছে।

ঝড়ের রাতে সবাইকে শেল্টারে নিলাম, অথচ ভাইবোনের সঙ্গে তর্কে কথা আসে না।

বিপদে স্থির থাকা S, T আর P-এর একসঙ্গে কাজ: হাত জানে আগে কী করতে হবে, অনুভূতি পরে আসে, উপায় তৈরি হয় সেখানেই। তর্কে কারণগুলো আলাদা হয়। আট তর্কে চুপ হয় না, গলা চড়ায়, তাই কথা না আসা এই ধরন থেকে দূরে সরায়। দুই সম্পর্ক ভাঙার ভয়ে আগে নরম হয়। পাঁচের কাছে এখনই জবাব দেওয়ার চাপটা ভারী, তার দরকার সরে গিয়ে ভাবার সময়।

নিজের ধরন, ডানা আর ধাপ জানুন

১০৮টি প্রশ্ন, ফলাফল সঙ্গে সঙ্গে

নিজের ধরন, ডানা আর ধাপ জানুন