enneagramwing

কোড আর এননিয়াগ্রাম

INTP-কে যেভাবে পড়ে Enneagram: দূরত্বের তিন কারণ

লোকে আপনাকে চুপচাপ বলে, অথচ মাথার ভেতরের তর্ক কখনো থামে না। ব্যক্তিত্ব পরীক্ষা এর নাম দিয়েছে INTP, কিন্তু এননিয়াগ্রামের নম্বর এই অক্ষর থেকে বেরোয় না, আর এখানে দেখা যাবে কেন: মাথার ভেতরের একই জীবন দাঁড়াতে পারে তিনটে আলাদা ভিতের ওপর। বাইরে তিনটেই সমান নীরব, আর আপনার ভিতটা খুঁজতে হয় সেই নীরবতার ওপারে।

01

এই চারটি অক্ষর কী বলে

  1. শক্তি আসে কোথা থেকে

    ENTP
  2. তথ্য নেয় কীভাবে

    ISTP
  3. সিদ্ধান্ত নেয় কী দিয়ে

    INFP
  4. পরিকল্পনা সামলায় কীভাবে

    INTJ

পাশের কোড: একটি অক্ষর উল্টে গেলে

যানজটে আটকে থাকা বাসে বসেই INTP কোডের মানুষ সিগন্যাল ব্যবস্থার একটা নতুন নকশা মাথায় কষে ফেলে, আর বাড়ি ফিরে কাউকে তা বলে না। নীলক্ষেত বা কলেজ স্ট্রিটে সে ঢোকে একটা বই কিনতে, বেরোয় পাঁচটা নতুন বিষয়ের খোঁজ নিয়ে; খেতে ডাকলে তাকে তিনবার ডাকতে হয়। পরীক্ষার আগের রাতে সে আটকে যায় সিলেবাসের বাইরের একটা প্রশ্নে, কারণ সময়সীমার চেয়ে অমীমাংসিত প্রশ্ন তাকে বেশি খোঁচায়। আড্ডায় সে কম বলে, তবে এমন প্রশ্ন তোলে, যা নিয়ে বাকিরা ভাবেনি। মানুষকে সে পছন্দ করে, কিন্তু রাখে এক হাত দূরে। চারটে অক্ষর মিলে যা দাঁড়ায়, তা আলাদা কোনো অক্ষরে নেই: এমন ভাবনা, যার চলতে শ্রোতাও লাগে না, ফলও না।

তার সবচেয়ে কাছের চেহারা INTJ-এর: একই নীরবতা, একই তত্ত্বের টান, মানুষের থেকে একই দূরত্ব। তফাত P আর J-এ। INTJ তত্ত্ব থেকে সোজা পরিকল্পনায় যায়, তারিখ বসায় আর কাজ শেষ করে; INTP তত্ত্বটাকেই আরেকবার খুলে দেখে, আর কাজটা পড়ে থাকে। দলের প্রকল্পে INTJ চায় সিদ্ধান্ত, INTP চায় আরও একটা প্রশ্ন তোলার সুযোগ।

মানুষটা দিন কাটায় কীভাবে, চিহ্নগুলো তা খুঁটিয়ে বলে; তার বন্ধ দরজার ওপারে কী বাঁচানো হচ্ছে, সে বিষয়ে একটা কথাও নয়।

02

একই কোডের পেছনে তিনটি কারণ

নয়টির মধ্যে তিনটি উদাহরণ: এই কোড যে কোনো ধরন থেকে আসতে পারে

উল্টো পথ নেই: কোড থেকে কারণ বের হয় না

এই কারণের সবচেয়ে আলগা অক্ষর

9

শান্তিকামী

মাথার ভেতরে সরে যাওয়া নয় নম্বর ধরনের কাছে ঘষাঘষি এড়ানোর উপায়। পরিবারের গ্রুপে তর্ক বাধলে সে কিছু লেখে না, ফোন উল্টে রেখে বইয়ে ফেরে, আর ঝড়টা পাশ দিয়ে বয়ে যায়: এই হলো তার I। সিদ্ধান্ত সে ঝুলিয়ে রাখে, কারণ যেকোনো পাকা সিদ্ধান্ত কাউকে না কাউকে কষ্ট দেবে, আর বাছাই না হওয়া পর্যন্ত সবাই কাছে থাকে: এটা তার P। অফিসের পিকনিক এড়ানোর অজুহাত খোঁজে তিনজনেই; নয় খোঁজে, কারণ ভিড়ে কোনো না কোনো টানাপোড়েন থাকবেই। তার সবচেয়ে ভঙ্গুর অক্ষর N। চাকরি বা পড়াশোনা নতুন প্রশ্ন জোগালে তা জেগে থাকে; ছুটির মাসে সে ফেরে চেনা জিনিসে, একই সিরিয়ালের পুরোনো পর্ব, একই চায়ের দোকান, আর উত্তর গড়ায় S-এর দিকে।

4

অনুভূতিপ্রবণ

চার নম্বর ধরন নিজের তত্ত্ব আগলে রাখে মুখের ছাপের মতো: সেটা প্রমাণ করে, সে আর দশজনের মতো নয়। থিসিসের বিষয় সে ধরে এমন কোণ থেকে, যা বিভাগের কেউ কখনো ধরেনি, এখান থেকে তার N। উপসংহার লিখতে তার অনীহা, কারণ বাঁধা সিদ্ধান্ত অন্যদের মতো দেখায়, খোলা ভাবনা থাকে নিজের: এখান থেকে P। আত্মীয়দের জমায়েতে এক কোণে বই হাতে বসে থাকে তিনজনেই; চার বসে, কারণ তার মনে হয় এই ভিড়ে তাকে কেউ চিনবে না। T-এর সঙ্গে তার টানাপোড়েন, মাপা যোগ চারকে টানে F-এর দিকে। যুক্তি কড়া থাকে, যতক্ষণ সেটা তার নিজের গড়া ব্যবস্থা; কেউ তার লেখাকে “সাধারণ” বললে যুক্তি সরে যায়, সিদ্ধান্ত নেয় অভিমান।

5

জিজ্ঞাসু

ইউটিউব ঘেঁটে তিন রাতে জমির খাজনার নিয়ম নিজেই শিখে নেয় পাঁচ নম্বর ধরন, যাতে কোনো দালালের দরজায় যেতে না হয়: বোঝা তার কাছে শক্তি বাঁচানোর পথ, যে শক্তি দুনিয়ার দাবির তুলনায় সবসময় কম। কারও মতের ওপর ভর দেওয়াও নির্ভরতা, তাই সে ওজন করে নিজের যুক্তিতে, এখানেই তার T। মানুষের সঙ্গ সে দেয় রেশনের মতো: এক সন্ধ্যার দাওয়াত মানে পরের দুই সন্ধ্যা দরজা বন্ধ, এটাই তার I। ফোন সাইলেন্টে রাখে তিনজনেই; পাঁচ রাখে, কারণ প্রতিটা কল কিছু না কিছু চেয়ে বসে। এই কোডে তার দুর্বল জায়গা P। আত্মীয়রা বেড়াতে এলে খোলা ভাব উবে যায়, দিনের প্রতিটা ঘণ্টা আগে থেকে ভাগ করা থাকে, আর দাবি যত বাড়ে, উত্তর তত J-এর দিকে যায়।

03

তিনটির মধ্যে নিজেরটা কীভাবে চিনবেন

  1. বাইরে থেকে একই আচরণ
  2. মানুষটি কী আগলে রাখে, সেই প্রশ্ন
  3. আপনার নিজের কারণ, অক্ষর নয়

এই কোডে তিনজনের ঠিকানা একই: বইয়ের পাতা, মাথার ভেতরের প্রশ্ন, ভিড় থেকে একটু দূরের কোণ। কাজ দেখে আলাদা করা যায় না, তত্ত্ব তিনজনেরই খাঁটি।

পাড়ার লাইব্রেরি নিয়ে আপনার ভাবনাটা কমিটি মেনে নিল, কিন্তু মিটিংয়ে মিটিংয়ে এত গোল হলো যে ধার আর নেই। মনে কী থাকে: শান্তি, যে ঝগড়া ছাড়াই মিটল, নাকি ফাঁকা লাগা, যে আপনার ছাপ হারিয়ে গেল? শান্তি নয়ের দিকে যায়, তার কাছে ঘষাঘষিহীন দিনটাই দামি; ফাঁকা লাগা চারের, খোয়া গেছে নিজের চিহ্ন।

একটা নামী পত্রিকা আপনাকে নিয়মিত কলাম দিতে চায়, দুটো শর্তে: লিখতে হবে তাদের পাঠকের রুচিমতো, আর প্রতি সপ্তাহে সম্পাদকের সঙ্গে বসতে হবে। কোন শর্তে আপনি নাম তুলে নেবেন? প্রথমটায় বিপদে পড়ে চারের নিজস্ব গলা, দ্বিতীয়টায় পাঁচের সময় আর শক্তি।

ছুটিতে বাড়ি ভরা আত্মীয়, সারাদিন লোক আসছে। কী নিঃশেষ করে: তাদের মধ্যেকার টানাপোড়েন, যা আপনাকেই ঠান্ডা করতে হয়, নাকি তারা আপনার কাছ থেকে যতটা নেয়? প্রথমটা নয়কে ক্লান্ত করে, দ্বিতীয়টা পাঁচকে: এই খরচ কেউ ফেরত দেয় না।

INTP-এর ফাঁদ পাতা প্রথম প্রশ্নে। উত্তরের বদলে সে প্রশ্নের শর্ত খুলতে বসে: শান্তি বলতে ঠিক কী, গোল হওয়া মানে কতটা, ভাবনাটা আদৌ ভালো ছিল কি না। কথা বলছে T আর P, তাগিদ চুপ। পাঁচ মিনিট পরেও উত্তর যদি “সেটা নির্ভর করে” শোনায়, ফাঁদে পা পড়েছে; এখানে প্রথমে মুখে আসা উত্তরই বেশি সৎ।

04

অক্ষর যা বলে না

মানুষ কীভাবে কাজ করে: অক্ষর এটুকুই দেখে

চারটি অক্ষরে যা নেই

  • বিকাশের ধাপ
  • সহজাত উপধরন
  • চাপ কোথায় নিয়ে যায়

এননিয়াগ্রাম আর এমবিটিআই মানুষকে দুটো আলাদা রেখায় কাটে, তাই দুটোর মধ্যে বাঁধা কোনো মিল নেই, আর আমরা সেটা বানিয়েও দিই না। এননিয়াগ্রাম দেখে ভেতরের কল আর ভয়, এমবিটিআই দেখে তথ্য নেওয়ার আর সিদ্ধান্তের পছন্দ। ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়ানো মিলিয়ে দেখার ছকগুলো মাপ থেকে নয়, অনুমান থেকে তৈরি, আর নিজেদের মধ্যেও মেলে না। মাপা হয়েছে কেবল এক দিকের যোগ, এননিয়াগ্রাম ধরন থেকে আলাদা আলাদা অক্ষরের দিকে: ধরন জানা থাকলে অক্ষর একটু ভালো আন্দাজ করা যায়। এই পাতা পড়ছে উল্টো দিকে, যেখানে কোনো মাপ নেই, তাই ওপরের তিনটি কারণ কলটা বোঝানোর উদাহরণ, পুরো তালিকা নয়, আর ধরন নয়টির যেকোনোটিই হতে পারে। খারাপ অবস্থায় INTP-এর দূরত্ব বিচ্ছিন্নতা হয়ে যায়: মায়ের ফোন বাজে, সে ধরে না; ভালো দিনে সেই মাথাই ছোট ভাইয়ের অঙ্কের জট ছাড়ায়। চাপে একজন বারবার ফোন করে নিশ্চিত হয় কেউ তার ওপর রাগ করেনি, আরেকজন না চাইতেই সবার দেখাশোনায় নামে, তৃতীয়জন তিনটে অনলাইন কোর্স ধরে, শেষ করে না একটাও। জমানো শক্তি নিজের কোণে যায়, মহলে বোদ্ধার আসনে, নাকি একজন কাছের মানুষে, তা বলে সহজাত প্রবৃত্তি।

05

প্রশ্ন

কোড INTP, আর এননিয়াগ্রাম বলছে চার নম্বর ধরন। এটা কি মেলে?

মেলে, তবে T-টা দেখে নিন। মাপা যোগ চারকে টানে F-এর দিকে, আর তার কড়া যুক্তি টেকে, যতক্ষণ সেটা তার নিজের গড়া ব্যবস্থা, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। মনে করুন কেউ আপনার লেখা বা পছন্দের গান নিয়ে ঠাট্টা করল। তখন কে কথা বলে, যুক্তি না অভিমান? অভিমান হলে আপনার T শেখা, আর এননিয়াগ্রামের ফল ঠিক হতেই পারে।

বছরের পর বছর আমার কাজ আধখানা পড়ে থাকে। এটা অক্ষরের ব্যাপার, না ধরনের?

কাজ খোলা রাখার অভ্যাস আসে N আর P থেকে: নীতিটা আকর্ষণীয়, শেষ ঘষামাজা একঘেয়ে। ধরন দেখা যায় শেষ ধাপটা কেন ভয় দেখায় তাতে। আধখানা উপন্যাস শেষ হলে ছাপতে হবে আর তর্ক উঠবে, এই আশঙ্কা নয়ের। শেষ হলে জিনিসটা আর পাঁচটার মতো হয়ে যাবে, এই ভয় চারের। শেষ হলে লোকে আরও চাইবে, এই হিসাব পাঁচের।

নিজের ধরন খোঁজার চেয়ে এননিয়াগ্রামের কলকবজা ঘাঁটতেই ভালো লাগে। কেন?

মডেলের যন্ত্রপাতির প্রতি টান আপনার N আর T, ধরন নিয়ে তা নিজে কিছু বলে না। বলে এটা: বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার দরকারটা কীসের। নয়ের কাছে নকশা ঘাঁটা সুবিধের, তাতে নিজের চাওয়ার মুখোমুখি হতে হয় না; পাঁচের কাছে ব্যবস্থাটা জানা নিরাপদ, নিজেকে তার ভেতরে ঢোকানোর চেয়ে; চারের দরকার তাতে একটা খুঁত, যাতে সে নিজে একটা খোপ হয়ে না যায়।

আমি থাকি মাথার ভেতরে। তবু কি শরীরের কেন্দ্রের ধরন হতে পারি?

পারেন। শরীরের কেন্দ্র মাপা হয় খেলাধুলো দিয়ে নয়, রাগ সামলানো দিয়ে, আর এই তিনজনের মধ্যে নয় রাগকে চেনে সবচেয়ে কম: রাগ ঘুমিয়ে থাকে, মন চলে যায় ভাবনায়। মনে করুন বাড়িতে সবাই আপনার মত না নিয়েই কোনো বড় সিদ্ধান্ত নিল। রাগটা যদি টের পান দুদিন পরে, যখন কারণটাই আর ঠিক মনে নেই, সেটা মাথার ভেতরে থাকা নয়ের মতো শোনায়।

নিজের ধরন, ডানা আর ধাপ জানুন

১০৮টি প্রশ্ন, ফলাফল সঙ্গে সঙ্গে

নিজের ধরন, ডানা আর ধাপ জানুন