কোড আর এননিয়াগ্রাম
INTJ আর Enneagram: একা কষা হিসাবের তিন কারণ
তিন বছর আগে গ্রামের পুকুরটা ইজারা নিয়ে মাছ চাষের পুরো হিসাব আপনি একাই কষেছিলেন, পোনা থেকে বিক্রি পর্যন্ত, আর বাবাকে জানিয়েছিলেন প্রথম জাল ফেলার দিন। তারপর ব্যক্তিত্ব পরীক্ষা বলল INTJ, আর এখন জানতে ইচ্ছে করছে এননিয়াগ্রামে আপনার ধরন কোনটা। এই পাতা একটা সংখ্যা ধরিয়ে দেবে না। একই পুকুর, একই হিসাব, অথচ তার পেছনে তিনটে আলাদা কারণ থাকতে পারে, তিনটে আলাদা কেন্দ্র থেকে।
01
এই চারটি অক্ষর কী বলে
INTJ কোডের মানুষ বইমেলায় ঢোকে ছয়টা বইয়ের তালিকা নিয়ে, আর চল্লিশ মিনিটে বেরিয়ে আসে। বাজেটের দিন টিভির টক-শো নয়, সে পড়ে পুরো বক্তৃতার নথি। ফ্যান্টাসি ক্রিকেটে তার দল বাছা হয় পরিসংখ্যান দেখে, প্রিয় খেলোয়াড়ের মুখ দেখে নয়। অফিসে যে কাজের শেষ কোথায় কেউ জানে না, সেটা সে নিতে চায় না, আর যেটা নেয়, সেটা নিজের ঠিক করা তারিখের আগেই শেষ করে। মা বলেন, ও কারও কথা শোনে না; অথচ যে দু-তিনজনকে সে কাছে রাখে, তারা জানে তার যত্ন ঠিক কতটা গভীর।
বাইরে থেকে সবচেয়ে সহজে তাকে INFJ ভেবে ভুল হয়: একই শান্ত ভাব, একই দূরের দিকে চোখ। মিটিং শেষে INFJ মনে রাখে কে কেমন বোধ করছিল, INTJ মনে রাখে কী ঠিক হলো। আর পরিকল্পনা INFJ বদলায় কাছের কেউ আহত হলে, INTJ বদলায় সংখ্যা বদলালে।
অক্ষরগুলো তার চলার ছক এঁকে দেয়, কিন্তু কীসের টানে সে এমন ছকে চলে, সেই ঘর ফাঁকা থেকে যায়।
02
একই কোডের পেছনে তিনটি কারণ
নয়টির মধ্যে তিনটি উদাহরণ: এই কোড যে কোনো ধরন থেকে আসতে পারে
উল্টো পথ নেই: কোড থেকে কারণ বের হয় না
এই কারণের সবচেয়ে আলগা অক্ষর
আদর্শবাদী
খাতার নম্বর যোগ এক নম্বর ধরন দু’বার করে মেলায়, কারণ কোনো অভিভাবক যোগের ভুল ধরলে সেটা তার কাছে আরও দশ রাত জাগার চেয়েও ভারী। INTJ-এর অক্ষরে এটা শান্ত সতর্কতা হয়ে দেখা দেয়: কাজটা সে একা ঠিক করে তোলে কারও চোখে পড়ার আগে, এখান থেকেই তার I, আর ফল জমার তারিখ আর ক্রম আগে থেকে বাঁধা থাকে যাতে কোনো ভুল চমকে না দেয়, এটাই J।
বাড়তি আয়ের প্রাইভেট টিউশন সে-ও ফিরিয়ে দেয়, বাকি দুজনের মতো, তবে তার কারণ এই যে নিজের ছাত্রকে বাড়িতে পড়ানো তার কাছে অন্যায্য।
সবচেয়ে আলগা অক্ষর N। তার চোখ যায় তিন নম্বর পাতার ভুল যোগফলে, আর পাঠ্যক্রম দশ বছরে কোথায় যাবে, সেই ছবি সে আঁকে তখনই, যখন পদ সেটা চায়।
অনুভূতিপ্রবণ
যে গল্প আগে কেউ বলেনি, শুধু সেটা নিয়েই চার ছবি বানাতে চায়, আর নদীর চরের গ্রাম নিয়ে ফোনে তোলা তার স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবিটা দু’বছরেও কেউ দেখেনি। তৈরি জিনিস তাকে ক্লান্ত করে, কারণ সেটা সবার, আর সে গড়ে যা এখনও নেই: এটাই তার N। কাজ সে দেখায় না, কারণ আগে দেখানো ভাবনা অন্যের হয়ে যায়, তাই সে ভেতরমুখী।
অফিসের সবচেয়ে নামী প্রকল্পে যাওয়ার প্রস্তাব সে-ও ফিরিয়ে দেয়, বাকি দুজনের মতো; তার কারণ, ওখানে সবাই যেতে চায়।
সবচেয়ে কম টেকে T। সহকর্মীদের সামনে বাজেটের হিসাব সে নিখুঁত দেয়, কিন্তু ছবির শেষ দৃশ্যটা কেটে দেয় শুধু এই জন্য যে ওটা তার মতো লাগছিল না, যদিও সবাই বলেছিল ওটাই সেরা।
জিজ্ঞাসু
কতটা দিলে কতটা বাকি থাকে? পাঁচ নম্বর ধরনের মাথায় এই হিসাব সারাক্ষণ চলে, আর এই মজুত তার কাছে প্রশংসার চেয়ে দামি। কাজের পর চায়ের দোকানের আড্ডায় সে যায় সপ্তাহে একদিন, সঙ্গ নেয় মেপে, এখান থেকে I। অফিসের বিবাদে সে ঝগড়ায় যায় না, ইমেইলে তারিখ আর সংখ্যা লেখে, কারণ যুক্তির তর্ক আবেগের চেয়ে সস্তা, এটাই T।
ছুটির দিনে অফিসের ফোন সে-ও ধরে না, বাকি দুজনের মতো, তবে তার কাছে ছুটির দিন জমানো পুঁজি, ভুল বা নিজেকে হারানোর ব্যাপার নয়।
J তাকে ধরে রাখে পরিস্থিতি। ব্যাংকের চাকরি ছাড়বে কি না, এই প্রশ্নে নোটখাতায় পঞ্চাশ পাতা জমেছে, সিদ্ধান্ত একটাও নয়; কড়া সময়সীমাগুলো ঠিক করে ম্যানেজার।
03
তিনটির মধ্যে নিজেরটা কীভাবে চিনবেন
- বাইরে থেকে একই আচরণ
- মানুষটি কী আগলে রাখে, সেই প্রশ্ন
- আপনার নিজের কারণ, অক্ষর নয়
বাইরে থেকে তিনজনই একরকম: কাজ একা সারে, নিজের সময় মানে, অন্যের তাড়ায় নড়ে না।
প্রথম প্রশ্ন এক আর চারকে আলাদা করে। লিটল ম্যাগাজিনে ছাপা আপনার প্রবন্ধ নিয়ে কোন মন্তব্যটা এক সপ্তাহ মাথা থেকে যাবে না: “তৃতীয় অনুচ্ছেদে সালটা ভুল” নাকি “এমন লেখা আজকাল সবাই লিখছে”? সালের ভুল বিঁধলে এক, “সবাই লিখছে” বিঁধলে চার।
দ্বিতীয় প্রশ্ন চার আর পাঁচকে আলাদা করে। বন্যায় জেলার ত্রাণ সমন্বয়ে আপনি একটা ফেসবুক গ্রুপ খুলেছিলেন। একটা এনজিও সেটা নিজের নামে বদলে নিতে চায়, নয়তো আপনাকে দিয়ে প্রতি শুক্রবার চালাতে চায়। কোনটা ছাড়া বেশি কঠিন, নাম নাকি শুক্রবার? নাম আঁকড়ালে চার, শুক্রবার আঁকড়ালে পাঁচ।
তৃতীয় প্রশ্ন এক আর পাঁচকে আলাদা করে। কোনটা খারাপ: মামার পুরনো রেডিও সারিয়ে ফেরত দেওয়া, যার ভেতরের একটা ঝালাই কাঁচা বলে শুধু আপনি জানেন, নাকি আত্মীয়দের মধ্যে একমাত্র আপনি ঢাকায় থাকেন বলে সবার হাসপাতাল আর ভিসার দৌড় আপনার ঘাড়ে আসা, যা ফেরানো যায় না? প্রথমটা এক, দ্বিতীয়টা পাঁচ।
এই কোডের ফাঁদ দ্বিতীয় প্রশ্নে। INTJ-এর মানুষ কৌশলবিদের মতো সঙ্গে সঙ্গে বলে: সময়ই সবচেয়ে দুষ্প্রাপ্য, তাই শুক্রবার। এটা N আর T-এর উত্তর, শোনায় হিসাবের মতো। যাচাই একটা ঘটনায়: বাবা যেদিন না জানিয়ে আপনার হিসাবের দু’মাস আগেই পুকুরের মাছ বেচে দিলেন, সেদিন কী বিঁধেছিল, নষ্ট হওয়া সময়, নাকি পরিকল্পনাটা আর আপনার রইল না?
04
অক্ষর যা বলে না
মানুষ কীভাবে কাজ করে: অক্ষর এটুকুই দেখে
চারটি অক্ষরে যা নেই
- বিকাশের ধাপ
- সহজাত উপধরন
- চাপ কোথায় নিয়ে যায়
এননিয়াগ্রাম আর এমবিটিআই মানুষকে দুটো আলাদা রেখায় কাটে, তাই দুটোর মধ্যে বাঁধা কোনো মিল নেই, আর আমরা সেটা বানিয়েও দিই না। এননিয়াগ্রাম দেখে ভেতরের কল আর ভয়, এমবিটিআই দেখে তথ্য নেওয়ার আর সিদ্ধান্তের পছন্দ। ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়ানো মিলিয়ে দেখার ছকগুলো মাপ থেকে নয়, অনুমান থেকে তৈরি, আর নিজেদের মধ্যেও মেলে না। মাপা হয়েছে কেবল এক দিকের যোগ, এননিয়াগ্রাম ধরন থেকে আলাদা আলাদা অক্ষরের দিকে: ধরন জানা থাকলে অক্ষর একটু ভালো আন্দাজ করা যায়। এই পাতা পড়ছে উল্টো দিকে, যেখানে কোনো মাপ নেই, তাই ওপরের তিনটি কারণ কলটা বোঝানোর উদাহরণ, পুরো তালিকা নয়, আর ধরন নয়টির যেকোনোটিই হতে পারে। নিচের অবস্থায় এই কোডের মানুষ কারও কাছে কিছু আশা করা ছেড়ে দেয়, “সবাই অকেজো” বলে, আর তাচ্ছিল্যকে ভাবে স্পষ্ট দৃষ্টি। সহজাত প্রবৃত্তির ক্রমও অক্ষরে নেই: কারও সব সতর্কতা সঞ্চয় আর মাথার ছাদে, কারও একজন মানুষের ওপর, কারও পেশার মহলে নিজের জায়গায়। চাপে এক নম্বর ধরন অন্য জীবনের আক্ষেপে ডোবে, চার অন্যের কাজ সামলাতে লেগে যায়, পাঁচ দশটা বিষয়ে ছড়িয়ে পড়ে; কোন দিকে যাবে, অক্ষর তা বলে না।
05
প্রশ্ন
চার নম্বর ধরনের মানুষ কি INTJ হতে পারে?
পারে। দেখার অক্ষর T: চারের কাছে যুক্তি অন্যদের সঙ্গে কাজের ভাষা হতে পারে, কিন্তু নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয় অন্য প্রশ্নে, এতে সে নিজেকে চিনছে কি না। দুটো ফ্ল্যাটের মধ্যে বাছার সময় আপনি কোনটা নিলেন: যেটার হিসাব ভালো, নাকি যেটার বারান্দায় দাঁড়িয়ে মনে হয়েছিল “এটা আমার”? দ্বিতীয়টা হলে এননিয়াগ্রামের ফলটা গুরুত্ব দিয়ে দেখুন।
দশ বছরের পরিকল্পনা আমার মাথায় সাজানো থাকে। এতে কি কারণ বোঝা যায়?
এতে বেশি বোঝা যায় কাজের ঢং, কারণ নয়। লম্বা পরিকল্পনা তিনজনেরই থাকে, দাঁড়িয়ে থাকে আলাদা জিনিসে: একের কাছে সব ঠিকঠাক হওয়ার নিশ্চয়তা, চারের কাছে যে মানুষ হতে চায় তার পথ, পাঁচের কাছে এমন মজুত যাতে কেউ খালি হাতে না ধরে। কোম্পানি বন্ধ হয়ে পরিকল্পনা ভাঙলে প্রথম কী মনে হবে: “হিসাবে ভুল ছিল”, “এ জীবন আমার নয়”, নাকি “হাত খালি”?
অন্যকে বোঝানোর চেয়ে নিজে করে ফেলা সহজ লাগে। এর পেছনে কি একটাই কারণ?
অভ্যাসটা কোডের, নিচের কারণ আলাদা। এক নিজে করে কারণ অন্যের কাজ পরে শোধরাতে হবে, চার কারণ বুঝিয়ে বলা ভাবনা নিজের মুখ হারায়, পাঁচ কারণ বোঝাতে গেলে জমানো শক্তি খরচ হয়। খেয়াল করুন, কেউ আপনার কাজটা করে দিলে, আর ভালোই করলে, ভেতরে কী ওঠে: ভুল খোঁজার চুলকানি, কিছু হাতছাড়া হওয়ার খচখচানি, নাকি বাঁচা সময়ের স্বস্তি।
তথ্য পেলে মত বদলাই, চাপে নয়। এটা কি ধরনের লক্ষণ?
এটা কোডের লক্ষণ, তিন কারণের নিচে আলাদাভাবে গড়া। এক মাথা নোয়ায় ঠিকের কাছে, মানুষের কাছে নয়, আর চায় নতি স্বীকার দুর্বলতা না দেখাক। চারের ভয়, বাইরের চাপ তার নিজের দেখাটা মুছে দেবে। পাঁচের কাছে তর্ক আবার হিসাব কষার চেয়ে দামি। মনে করুন শেষ কবে অফিসের চাপে কোনো সিদ্ধান্তে রাজি হয়েছিলেন, আর পরে কী ভারী লেগেছিল।