enneagramwing

কোড আর এননিয়াগ্রাম

ENTJ আর Enneagram: হাল ধরার তাগিদ কোথা থেকে

পাড়ার ক্রিকেট টুর্নামেন্টের মিটিংয়ে তর্ক থামার আগেই আপনি ফিক্সচার, আম্পায়ার আর চাঁদার হিসেব ভাগ করে দিয়েছেন, আর MBTI টেস্ট এর নাম দেয় ENTJ। অক্ষর থেকে এননিয়াগ্রামের নম্বর পড়া যায় না: একই তাড়না আলাদা মানুষের মধ্যে রাগ, লজ্জা বা ভয়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। আপনারটা সবচেয়ে পরিষ্কার দেখা যায় সেই সপ্তাহে, যখন সিদ্ধান্ত হয় আপনাকে ছাড়াই।

01

এই চারটি অক্ষর কী বলে

  1. শক্তি আসে কোথা থেকে

    INTJ
  2. তথ্য নেয় কীভাবে

    ESTJ
  3. সিদ্ধান্ত নেয় কী দিয়ে

    ENFJ
  4. পরিকল্পনা সামলায় কীভাবে

    ENTP

পাশের কোড: একটি অক্ষর উল্টে গেলে

ENTJ কোডের মানুষ বাড়ির পুজোর আয়োজনে প্রথমেই তালিকা বানিয়ে ফেলে: কে ঠাকুর আনবে, কে ভোগের বাজার করবে, কোন দিন কোন আত্মীয় আসবে। ফোনে তার সারা বছরের লক্ষ্যের একটা ছক থাকে, রবিবার রাতে সে সেটা খোলে। নতুন চাকরিতে এক সপ্তাহেই বুঝে যায় আসল সিদ্ধান্ত কোথায় হয়, আর ছ মাস পরে সেই টেবিলে নিজেই বসে। সমালোচনা করে সোজাসুজি, আর অন্যজন আহত হলে অবাক হয়, কথা তো কাজ নিয়েই হচ্ছিল। দোনামনা করা লোক তাকে ভারী কাজের চেয়েও বেশি ক্লান্ত করে। অক্ষরগুলো মিলে যা দেয়, তা কোনো একটা একা দেয় না: দূরের লক্ষ্য আর মানুষকে ধাপে ধাপে সেখানে নিয়ে যাওয়ার ধৈর্য।

বাইরে থেকে তার সবচেয়ে কাছাকাছি ENTP: একই দ্রুত ভাবনা, তর্কের একই মজা, ভবিষ্যৎ নিয়ে একই গল্প। তফাত করে শেষ অক্ষরটা। ENTP একটা ভাবনা আড্ডায় ছুড়ে দেয় দেখতে যে তার কী হয়, আর কাল উল্টোটার পক্ষে দাঁড়াতে পারে; ENTJ কথা বলে সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়ার পরে, আর জোরালো কারণ ছাড়া সেখানে ফেরে না। মেসেজেও তফাত দেখা যায়: ENTJ-এর মেসেজ শেষ হয় তারিখে, ENTP-র নতুন প্রশ্নে।

এর কোনটা সে আগলে রাখে আর কোনটা শুধু তার দক্ষতা, অক্ষর থেকে পড়া যায় না।

02

একই কোডের পেছনে তিনটি কারণ

নয়টির মধ্যে তিনটি উদাহরণ: এই কোড যে কোনো ধরন থেকে আসতে পারে

উল্টো পথ নেই: কোড থেকে কারণ বের হয় না

এই কারণের সবচেয়ে আলগা অক্ষর

8

দৃঢ়চেতা

আট পরিকল্পনা এমনভাবে বানায় যাতে কেউ নাক গলাতে না পারে: সময়সূচি, কার কী ভূমিকা আর অনুমোদনের ক্রম তার নিজের হাতে, আর প্রশ্নমালা এটাকে J পড়ে। সিদ্ধান্ত সে মাপে কার হাতে কী আছে আর কোথায় চাপ দেওয়া যায় তা দিয়ে, তাই তার T-তে সংকোচের জায়গা নেই। যে কঠিন খদ্দেরকে কেউ চায় না, সে তাকে নিজের ঘাড়ে নেয়, যেমন তিন আর সাতও নিতে পারে, কিন্তু আট নেয় যাতে ওই অংশে কেউ তার ওপর শর্ত চাপাতে না পারে। তার N টেকে কাজের আকারের জোরে: দূরের দৃষ্টি লাগে যতক্ষণ মাঠ বড়। নিজের ছোট্ট কারখানায় আট আজকের দিনে বাঁচে, আর পরীক্ষা দেখায় ESTJ।

3

উচ্চাকাঙ্ক্ষী

তিন প্রতিটা বছর মনে রাখে যে ফল দেখাতে পেরেছে তা দিয়ে। বোর্ডের সামনে রাখা পাঁচ বছরের স্বপ্ন, যখন পুরো ঘরকে রাজি করায়, তাকে N দেয়: অন্যরা যে ভবিষ্যতে বিশ্বাস করে, তা আগে থেকেই তার নামের জন্য কাজ করছে। প্রতিটা মাইলফলক সে ছকে দাগ দেয়, কারণ গোনা হয় শুধু যা শেষ আর নথিভুক্ত, আর সেখান থেকেই J। লঞ্চের আগের রাতে সে অফিসে থেকে যায়, আট আর সাতের মতো, কিন্তু তিন থাকে কারণ ফলটা সবার সামনে বিচার হবে। তার T পরিবেশ থেকে ধার করা: সেলসে সে ঠান্ডা মাথায় হিসেব করে, কোনো ট্রাস্টে কয়েক মাসে যত্নের ভাষায় কথা বলতে শুরু করে আর পরীক্ষা দেয় ENFJ।

7

উৎসাহী

যা এখনও নেই, সেটাই সাতকে বাঁচিয়ে রাখে। কোন শিল্প কোন দিকে ঘুরবে, খবরে আসার আগেই সে টের পায়, এটা তার N; একটা নৈশভোজে একটা ভাবনার চারপাশে লোক জুটিয়ে ফেলে, এটা E। সে কাজ দ্রুত করার জন্য চাপ দেয়, আট আর তিনের মতোই, কিন্তু সাত দেয় যাতে একঘেয়ে না লাগে। তার J টিকে থাকে নতুনত্বে: যতক্ষণ রণকৌশল লেখা হচ্ছে, সময়সীমা পবিত্র। একই জিনিস বছরের পর বছর চালানোর সময় এলে সাত স্থির সিদ্ধান্ত আবার লিখতে বসে, আর পরীক্ষা দেখায় ENTP।

03

তিনটির মধ্যে নিজেরটা কীভাবে চিনবেন

  1. বাইরে থেকে একই আচরণ
  2. মানুষটি কী আগলে রাখে, সেই প্রশ্ন
  3. আপনার নিজের কারণ, অক্ষর নয়

মিটিংয়ে এই তিনজনকে আলাদা করা যায় না: সবাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়, কয়েক বছর আগাম হিসেব কষে আর অদরকারি জিনিস নির্দ্বিধায় ছাঁটে। হাল কেড়ে নিলে তফাত দেখা যায়: প্রত্যেকে আলাদা জিনিস হারায়।

আপনার পদ আর উপাধি রইল, কিন্তু বড় সিদ্ধান্ত এখন নেয় নতুন পরিচালক। কোনটা বেশি খোঁচায়: অন্য কেউ হুকুম চালাচ্ছে, নাকি দলের চোখে ব্যাপারটা কেমন দেখাচ্ছে? প্রথমটা সিদ্ধান্তের অধিকার নিয়ে, আটের দিকে; দ্বিতীয়টা আপনাকে কেমন দেখায় তা নিয়ে, তিনের দিকে।

কোনটা খারাপ: এমন ব্যর্থতা যা নিয়ে পুরো শিল্প কথা বলবে, নাকি এমন পাঁচ বছরের চুক্তি যা ছাড়া যায় না, বদলানো যায় না? প্রথমটায় তিন শিউরে ওঠে, কারণ তার কাছে নাম আর ফল একই। দ্বিতীয়টা সাতের দম বন্ধ করে, যে তালাবন্ধ দরজা সইতে পারে না।

কার সঙ্গে কাজ করা বেশি কঠিন: যে সারাক্ষণ বলে দেয় কী করতে হবে, নাকি যে প্রতিটা ভুলের ঘণ্টাভর কাটাছেঁড়া চায়? প্রথমজন আটকে রাগায়, কারণ সে তার সিদ্ধান্তের অধিকারে হাত দেয়। দ্বিতীয়জন সাতকে নিংড়ে নেয়, কারণ সে তাকে ব্যথার জায়গায় আটকে রাখে।

এই কোডের ফাঁদ হলো: দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর ENTJ দেয় পরিকল্পনা দিয়ে, যেমন “দেখতে হবে এটা রণকৌশলে খাপ খায় কি না”। এই উত্তর দিচ্ছে অক্ষর J, কারণটা চুপ। “কার্যকর”, “যুক্তিসঙ্গত”, “পরিকল্পনামাফিক” জাতীয় শব্দ এটা ধরিয়ে দেয়; তখন প্রশ্নটা আবার করুন, যুক্তির আগের সাড়াটা ধরুন।

04

অক্ষর যা বলে না

মানুষ কীভাবে কাজ করে: অক্ষর এটুকুই দেখে

চারটি অক্ষরে যা নেই

  • বিকাশের ধাপ
  • সহজাত উপধরন
  • চাপ কোথায় নিয়ে যায়

এননিয়াগ্রাম আর এমবিটিআই মানুষকে দুটো আলাদা রেখায় কাটে, তাই দুটোর মধ্যে বাঁধা কোনো মিল নেই, আর আমরা সেটা বানিয়েও দিই না। এননিয়াগ্রাম দেখে ভেতরের কল আর ভয়, এমবিটিআই দেখে তথ্য নেওয়ার আর সিদ্ধান্তের পছন্দ। ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়ানো মিলিয়ে দেখার ছকগুলো মাপ থেকে নয়, অনুমান থেকে তৈরি, আর নিজেদের মধ্যেও মেলে না। মাপা হয়েছে কেবল এক দিকের যোগ, এননিয়াগ্রাম ধরন থেকে আলাদা আলাদা অক্ষরের দিকে: ধরন জানা থাকলে অক্ষর একটু ভালো আন্দাজ করা যায়। এই পাতা পড়ছে উল্টো দিকে, যেখানে কোনো মাপ নেই, তাই ওপরের তিনটি কারণ কলটা বোঝানোর উদাহরণ, পুরো তালিকা নয়, আর ধরন নয়টির যেকোনোটিই হতে পারে। কবলে ENTJ কোডের মানুষ শোনা বন্ধ করে: মিটিং হয় একতরফা বক্তৃতা, দূরের লক্ষ্য তলায় রোজকার আগুনে। সামর্থ্যে একই অক্ষর দেয় এমন নেতা যে অপেক্ষা করতে জানে; বিকাশের ধাপ অক্ষর আলাদা করে না। দীর্ঘ চাপে এই কোডের তিনজন নিজের রেখায় আলাদা হয়: আট গুটিয়ে চুপচাপ হিসেব কষে, তিন হঠাৎ থমকে যায়, সাত ছোট ব্যাপারে খুঁত ধরে। প্রবৃত্তি ঠিক করে শক্তি কোথায় যায়: টাকায়, কাছের মানুষে, না প্রভাবে।

05

প্রশ্ন

আমি ENTJ, কিন্তু এননিয়াগ্রাম পরীক্ষায় সাত এল: এটা কি ভুল?

না। সাতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নড়বড়ে অক্ষর J-ই, কারণ গবেষণা এই ধরনকে উল্টো অক্ষর P-এর সঙ্গে জোড়ে। তার J ধরে রাখতে পারে এমন পদ যেখানে সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়, বা এমন দল যা শুরু করা কাজ শেষ করে। দেখুন কাজের তৃতীয় মাসে, যখন সব ঠিক হয়ে গেছে, আপনার কী হয়। পুরো পরিকল্পনা নতুন করে গড়ার ইচ্ছে হলে সাত মানানসই।

কাজ অন্যকে ছেড়ে দিতে আমার কষ্ট হয়। এতে ধরন বোঝা যায়?

কষ্টটা নিজে নয়, তার কারণ বোঝায়। যদি ভয় হয় নিয়ন্ত্রণ হাত ফসকে যাবে, সেটা আটের চিহ্ন। যদি অস্বস্তি হয় ফলটা আপনার নামে যাবে অথচ হাত অন্য কারও, তিনের। যদি বোঝানো একঘেয়ে লাগে আর নিজে করে এগিয়ে যাওয়া সহজ মনে হয়, সাতের।

বাড়ির লোক বলে সংসারও আমার কথায় চলে। এর সঙ্গে ধরনের যোগ আছে?

অক্ষরের সঙ্গে আছে; ধরনের সঙ্গে শুধু এই পথে যে আপনি কী আগলাচ্ছেন। যদি জরুরি হয় সংসারের শেষ কথা আপনার, সেটা আটের মতো। যদি জরুরি হয় পরিবার লোকের চোখে সফল আর গোছানো দেখাক, তিন। যদি জরুরি হয় বাড়িতে নতুন কিছু ঘটতে থাকুক আর কিছু থেমে না থাকুক, সাত।

ম্যানেজারের পদ ছাড়লে কি আমার ধরন বদলাবে?

ধরন না, অক্ষর হয়তো। সিদ্ধান্ত চাওয়া ভূমিকা না থাকলে J কয়েক মাসে নরম হতে পারে, আর নতুন পরীক্ষা অন্য কোড দেখাতে পারে। কারণ নিয়ে বেশি বলবে প্রথম মাসে যার অভাব টের পেলেন: নিজের অংশের ওপর কর্তৃত্ব, পদ আর পরিচিতি, নাকি নতুন প্রকল্পের গতি।

নিজের ধরন, ডানা আর ধাপ জানুন

১০৮টি প্রশ্ন, ফলাফল সঙ্গে সঙ্গে

নিজের ধরন, ডানা আর ধাপ জানুন