enneagramwing

কোড আর এননিয়াগ্রাম

ENFJ আর Enneagram: অন্যকে এগিয়ে দেওয়ার টান কোথায় বাঁধা

কোনো বন্ধু চাকরি বদলাবে কি না ঠিক করতে না পারলে ফোনটা আসে আপনার কাছে, আর পয়লা বৈশাখে অফিসের আড্ডা জমানোর ভারও প্রতি বছর আপনার। ফল ENFJ দেখে আপনি মাথা নেড়েছেন, এবার এননিয়াগ্রামের সংখ্যাটাও চাই। এই পাতা সংখ্যার বদলে তিনটি তাগিদ পাশাপাশি রাখে, যাদের যেকোনোটা থেকে ঠিক এমন মানুষ তৈরি হতে পারে। বৈশাখী আড্ডায় তিনজনের হাসি একই রকম শোনায়।

01

এই চারটি অক্ষর কী বলে

  1. শক্তি আসে কোথা থেকে

    INFJ
  2. তথ্য নেয় কীভাবে

    ESFJ
  3. সিদ্ধান্ত নেয় কী দিয়ে

    ENTJ
  4. পরিকল্পনা সামলায় কীভাবে

    ENFP

পাশের কোড: একটি অক্ষর উল্টে গেলে

ENFJ কোডের মানুষ পাড়ার প্রায় উঠে যাওয়া ফুটবল ক্লাবে নতুন সদস্য জোটায়, রবিবার সকালের অনুশীলনের দিন বেঁধে দেয়, আর ছেলেমেয়েদের বলে ক্লাবটা পাঁচ বছরে কী হতে পারে। অফিসে সে দুই বিভাগের এমন দুজনকে এক টেবিলে চা খেতে বসিয়ে দেয়, যারা আগে শুধু ইমেলে কথা বলত। চারটে অক্ষর একসঙ্গে থাকলে এমন একটা চিহ্ন দেখা যায়, যা আলাদা কোনো অক্ষরে নেই: ধুঁকতে থাকা কোনো দলকে সে নতুন একটা মানে দিয়ে ফের দাঁড় করায়, আর সেই মানের সঙ্গে একটা তারিখও জুড়ে দেয়।

পাশাপাশি দাঁড় করালে ESFJ-এর থেকে তাকে আলাদা করা কঠিন: একই আন্তরিকতা, একই আয়োজনের হাত, নাম মনে রাখার একই অভ্যাস। তফাত S আর N-এ। ESFJ-এর নজর এখনকার দিকে: ভাইফোঁটার থালা সময়ে সাজানো হলো কি না, কে আজ নিরামিষ খাবে। ENFJ-এর কথা এগিয়ে যায় সামনের দিকে: ভাইঝির সঙ্গে দুটো কথার পরেই সে জানতে চায়, বড় হয়ে কী গড়তে চায়। স্কুলের প্রাক্তনীদের পুনর্মিলনী ESFJ চেনা ছকে সাজায়, উদ্বোধনী সংগীত, মিষ্টির প্যাকেট, দলবদ্ধ ছবি; ENFJ সেই টাকায় গরিব ছাত্রদের জন্য একটা বৃত্তি চালুর প্রস্তাব আনে, যাতে দিনটার একটা মানে থাকে।

অক্ষরের খাতায় তার খাটুনির হিসেব আছে, কিন্তু পাওনার ঘরটা ফাঁকা।

02

একই কোডের পেছনে তিনটি কারণ

নয়টির মধ্যে তিনটি উদাহরণ: এই কোড যে কোনো ধরন থেকে আসতে পারে

উল্টো পথ নেই: কোড থেকে কারণ বের হয় না

এই কারণের সবচেয়ে আলগা অক্ষর

1

আদর্শবাদী

যা আরও ভালো হতে পারত, তা আধখেঁচড়া পড়ে থাকলে এক নম্বর ধরন শান্তি পায় না, মানুষের বেলাতেও না। পাড়ার নাটকের মহড়ায় সে দেখে না কে আজ কেমন বলল, দেখে কে কতদূর যেতে পারে; সেই দূরের মাপটা আগে থেকে দেখতে পাওয়া N। মহড়ার সময়সূচি কড়া, দেরি চলে না, নিজেরও না, দলেরও না: এটা J। বিয়েবাড়িতে কেটারারের তদারকি কাঁধে তুলে নেওয়া তিনজনেই পারে, কিন্তু এক তুলে নেয় কারণ আধসেদ্ধ মাংস অতিথির পাতে যাবে, এটা তার কাছে অন্যায়ের মতো লাগে। তার সবচেয়ে দুর্বল অক্ষর E: পদ থাকলে সে মঞ্চে, পদ গেলে ছুটির দিনে একা গঙ্গার ধারে হাঁটে, কাউকে ডাকে না।

2

পরোপকারী

কোন বন্ধুর মা কোন ওষুধ খান, কার মেয়ের পরীক্ষা কবে, দুই নম্বর ধরন সব জানে। সে আগলে রাখে অন্যের জীবনে নিজের জায়গাটা। সেই জায়গার জন্যই গোটা পাড়া তাকে নাম ধরে চেনে, এটা E; যেকোনো সিদ্ধান্ত সে মাপে সামনের মানুষটার কেমন লাগবে সেই দাঁড়িপাল্লায়, এটা F। অফিসের পিকনিকে রান্নার ভার নেওয়া তিনজনেই পারে, কিন্তু দুই মনে মনে খেয়াল রাখে, ফেরার বাসে কে কে এসে তাকে ধন্যবাদ বলল। J তার সবচেয়ে আলগা অক্ষর: নিজের গানের রেওয়াজ বা ডাক্তার দেখানো পিছিয়ে যায় যখনই কারও দরকার পড়ে, আর যে মাসে কেউ কিছু চায় না, সেই মাসে তার দিনের কোনো কাঠামো থাকে না।

7

উৎসাহী

একই আড্ডা, একই গল্প, একই রেস্তোরাঁ: তৃতীয় সপ্তাহে সাত নম্বর ধরন উশখুশ করতে শুরু করে। শহরের কোন কোণে নতুন কী খুলছে, কোন বন্ধু কোন নতুন কাজ ধরেছে, সব তার মাথায় মানচিত্রের মতো জ্বলে, আর সেখানে সে পরের রাস্তা খোঁজে; এটা N। প্রতিটা নতুন মুখ মানে নতুন একটা সম্ভাবনা, তাই চেনাজানা ফুরোয় না; এটা E। ছাঁটাইয়ের গুজবে অফিস চুপ হয়ে গেলে লাঞ্চে একটা কুইজ চালু করে দেওয়া তিনজনেই পারে, কিন্তু সাত সেটা করে কারণ থমথমে ঘরে তার নিজেরই শ্বাস আটকায়। J তার সবচেয়ে টলমলে অক্ষর: পরিকল্পনা নতুন থাকতে দারুণ চলে, আর যেদিন সেটা বাকি সব দিকের রাস্তা আটকাতে শুরু করে, সেদিন থেকে জমার তারিখ পিছোতে থাকে।

03

তিনটির মধ্যে নিজেরটা কীভাবে চিনবেন

  1. বাইরে থেকে একই আচরণ
  2. মানুষটি কী আগলে রাখে, সেই প্রশ্ন
  3. আপনার নিজের কারণ, অক্ষর নয়

মানুষ জোটানো, কে পিছিয়ে পড়ল টের পাওয়া, দলকে ভালোর দিকে টানা: ENFJ-এর তিন রূপই এগুলো করে, অক্ষরও তিনজনের খাঁটি।

ধরুন, অফিসের বিজয়া সম্মিলনী আপনি আয়োজন করলেন। সবাই আনন্দ করল, কিন্তু এক টেবিলে মিষ্টি কম পড়ল, গান শুরু হলো আধঘণ্টা দেরিতে, আর কেউ ধন্যবাদ বলল না। পরদিন সকালে মেট্রোয় বসে মাথায় কী ঘোরে? ওই দুটো গোলমাল আর কীভাবে হওয়া উচিত ছিল, তাহলে আপনি এক নম্বরের কাছে; সহকর্মীদের নীরবতা, তাহলে দুইয়ের কাছে।

টানা ক্লান্তির সপ্তাহের পর রবিবার সকালে আগে কী করতে মন চায়: বিছানায় পড়া বুড়ো মাস্টারমশাইয়ের বাজার করে দেওয়া, নাকি সামনের শীতে সিকিমের নতুন কোনো ট্রেকের রুট খোঁজা? প্রথমটা দুই, যে খোঁজে কোথায় তার দরকার; দ্বিতীয়টা সাত, যে খোঁজে বেরোনোর পথ।

সুপারভাইজারের সঙ্গে তর্ক হয়ে গেলেও কোনটা ছাড়বেন না: চলতি গবেষণাটা নিজের মাপে শেষ করা, নাকি বিদেশের পিএইচডির অফারটা খোলা রাখা? এক মান ছাড়ে না; সাত পথ ছাড়ে না, আর তর্ক বাড়ানোর বদলে চুপচাপ পরিকল্পনা পাল্টে ফেলে।

প্রথম প্রশ্নে সবচেয়ে সুন্দর উত্তরটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক: “সবাই খুশি হয়ে ফিরলেই হলো।” এটা বলছে E আর F, তাগিদ নয়, আর উত্তরটা নিজে থেকেই দুইয়ের দিকে গড়িয়ে যায়। ভাবুন, একই সম্মিলনী অন্য কেউ ঠিক ততটাই আন্তরিকভাবে সামলাল। হালকা লাগলে দুই দূরে; আয়োজক আপনি ছিলেন না ভেবে একটুও খচখচ করলে, ঠিক ওখানে থামুন।

04

অক্ষর যা বলে না

মানুষ কীভাবে কাজ করে: অক্ষর এটুকুই দেখে

চারটি অক্ষরে যা নেই

  • বিকাশের ধাপ
  • সহজাত উপধরন
  • চাপ কোথায় নিয়ে যায়

এননিয়াগ্রাম আর এমবিটিআই মানুষকে দুটো আলাদা রেখায় কাটে, তাই দুটোর মধ্যে বাঁধা কোনো মিল নেই, আর আমরা সেটা বানিয়েও দিই না। এননিয়াগ্রাম দেখে ভেতরের কল আর ভয়, এমবিটিআই দেখে তথ্য নেওয়ার আর সিদ্ধান্তের পছন্দ। ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়ানো মিলিয়ে দেখার ছকগুলো মাপ থেকে নয়, অনুমান থেকে তৈরি, আর নিজেদের মধ্যেও মেলে না। মাপা হয়েছে কেবল এক দিকের যোগ, এননিয়াগ্রাম ধরন থেকে আলাদা আলাদা অক্ষরের দিকে: ধরন জানা থাকলে অক্ষর একটু ভালো আন্দাজ করা যায়। এই পাতা পড়ছে উল্টো দিকে, যেখানে কোনো মাপ নেই, তাই ওপরের তিনটি কারণ কলটা বোঝানোর উদাহরণ, পুরো তালিকা নয়, আর ধরন নয়টির যেকোনোটিই হতে পারে। কবলে ENFJ-এর যত্ন হয় তদারকি: ভাইবোনের সব সিদ্ধান্তে সে মত দিতে চায়, আর যে কথা শোনে না, তার জন্মদিনে এবার ফোন যায় না। সামর্থ্যে সে ছাত্রের বেছে নেওয়া অচেনা পথকে মন খুলে আশীর্বাদ করে। দীর্ঘ চাপে প্রত্যেকে নিজের রেখায় গড়ায়: এক বিষণ্ণ হয়ে পড়ে, দুইয়ের গলা কড়া হয়, উপকারের হিসেব চায়, সাত অন্যের ছোট ভুল ধরে বেড়ায়। যত্ন রান্নাঘরে যাবে, মহলে, না একজনে, তা ঠিক করে সহজাত প্রবৃত্তি।

05

প্রশ্ন

আমি ENFJ, অথচ এননিয়াগ্রাম বলছে এক নম্বর ধরন। লোকজন ভালোবাসি, তবু এমন কেন?

গোলমাল নেই, তবে E-টা পরখ করুন। এক নম্বরের মিশুকে ভাব কখনো ভূমিকার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে: কাউকে তো ঠিকভাবে এগোতে হবে, তাই আপনি সামনে। এমন জায়গায় নিজেকে দেখুন যেখানে আপনার কোনো ভূমিকা নেই, যেমন নতুন যোগ ক্লাসের প্রথম দিন। সেখানে চুপ করে বসে মনে মনে আয়োজনের খুঁত টুকে রাখতে ইচ্ছে হলে E আসছে ভূমিকা থেকে, তাগিদ এক থেকে।

বন্ধুরা ঠাট্টা করে আমাকে ‘মাস্টারমশাই’ ডাকে। এতে ধরন বোঝা যায়?

বোঝানোর অভ্যাস গড়ে N, F আর E মিলে: অন্যের সম্ভাবনা চোখে পড়ে, তার মন বোঝা যায়, আর মুখ ফুটে বলার সাহসও থাকে। তিন তাগিদেই এটা আছে। তফাত এতে, বুঝিয়ে আপনি কী পেতে চান। সামনের মানুষটা ঠিক পথে এলে শান্তি, এটা এক-এর কাছাকাছি; সে বারবার আপনার কাছেই ফিরে আসুক, এটা দুইয়ের; নতুন সম্ভাবনা খুলে দেওয়ার উত্তেজনা, এটা সাতের।

ENFJ হয়েও মঞ্চে উঠলে আমার গলা শুকিয়ে যায়। এটা কি অদ্ভুত?

অদ্ভুত নয়। মানুষের দিকে টান আর মঞ্চের সাহস এক জিনিস নয়; আড্ডায় যে সাবলীল, হাজার চোখের সামনে সে আড়ষ্ট হতেই পারে। ধরন দেখা যায় ভয়ের চেহারায়। ভুল কিছু বলে ফেলার ভয় এক-এর দিকে টানে; শ্রোতারা পছন্দ করবে কি না, এই দুশ্চিন্তা দুইয়ের দিকে; আর মুখস্থ বক্তৃতায় দমবন্ধ লাগা, ছক ছাড়লে স্বস্তি, এটা সাতের দিকে।

প্রবাসে এসে প্রথম কয়েক মাস আমি একেবারে নিভে গেছি। ENFJ বলেই কি এমন?

খানিকটা তাই: E চায় চারপাশে মানুষ, আর F চায় সেই মুখগুলো, যাদের সে খেয়াল রাখে। তবে আসলে কী হারিয়েছে, তা তাগিদ অনুযায়ী আলাদা। যদি খারাপ লাগে যে এখানে কিছুই আপনার মাপে চলে না, তবে এক-এর কাছে; যদি মনে হয় কারও কাছে আপনি দরকারি নন, তবে দুইয়ের কাছে; নতুন দেশ যদি রোমাঞ্চ দেয় আর মন খারাপ শুধু একঘেয়ে সপ্তাহগুলোতে, তবে সাতের কাছে।

নিজের ধরন, ডানা আর ধাপ জানুন

১০৮টি প্রশ্ন, ফলাফল সঙ্গে সঙ্গে

নিজের ধরন, ডানা আর ধাপ জানুন