enneagramwing

কোড আর এননিয়াগ্রাম

ESFJ-এর আতিথেয়তা: Enneagram-এ তিনটি উৎস

আত্মীয়দের জমায়েতের তালিকা শেষমেশ আপনার হাতেই আসে, আর ব্যক্তিত্ব পরীক্ষাও বলল ESFJ। এবার প্রশ্ন, এননিয়াগ্রামের নয়টি ধরনের কোনটা আপনার। অক্ষর সেটা বলে না; এই পাতা বরং পাশাপাশি রাখে রাগ, লজ্জা আর ভয় থেকে আসা তিনটি কারণ। যেকোনোটা একজনকে এমন মানুষ বানাতে পারে, যাকে ছাড়া পাড়ার কোনো বিয়ে জমে না।

01

এই চারটি অক্ষর কী বলে

  1. শক্তি আসে কোথা থেকে

    ISFJ
  2. তথ্য নেয় কীভাবে

    ENFJ
  3. সিদ্ধান্ত নেয় কী দিয়ে

    ESTJ
  4. পরিকল্পনা সামলায় কীভাবে

    ESFP

পাশের কোড: একটি অক্ষর উল্টে গেলে

ESFJ কোডের মানুষের ফোনে পরিবারের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটা থাকে সবার ওপরে, আর কার বাড়িতে কবে আকিকা, অন্নপ্রাশন বা বিয়ে, সে খবর মাসের গোড়াতেই তার জানা। অফিসে কারো মেয়ের বিয়ে ঠিক হলে উপহারের চাঁদা সে-ই তোলে, পাড়ায় নতুন ভাড়াটে এলে প্রথম দিনই দিয়ে আসে কলের মিস্ত্রির নম্বর। তার গল্প ঘোরে মানুষ আর ঘটনা নিয়ে: কার ছেলে চাকরি পেল, কে কবে ফিরছে; তত্ত্ব নিয়ে কম। একবার দিন ঠিক হলে দাওয়াত হবেই, আর শেষ মুহূর্তে কেউ না এলে সেটা তার গায়ে লাগে। সিদ্ধান্তের আগে সে ভাবে, কার ওপর এর কী প্রভাব পড়বে।

সবচেয়ে সহজে তাকে গুলিয়ে ফেলা যায় ISFJ-এর সঙ্গে, যে একই রকম যত্নশীল আর খুঁটিনাটি মনে রাখে। তফাত E আর I-এ, আর সেটা বোঝা যায় কে কোথায় দাঁড়িয়ে। অনুষ্ঠানের দিন ISFJ রান্নাঘরে পায়েস নাড়ে আর চুপচাপ বয়স্ক আত্মীয়ের পাতে নরম খাবার তুলে দেয়; ESFJ গোটা আসর চালায়, দেরিতে আসা অতিথিকে ফোনে রাস্তা বোঝায়। রাতে ISFJ একটু একা থাকতে চায়, ESFJ-এর তখনও গল্প বাকি।

মানুষটা সংসার আর মহল কীভাবে সামলায়, এসব থেকে তা জানা যায়; কেন সামলায়, সেই উত্তর এখানে নেই।

02

একই কোডের পেছনে তিনটি কারণ

নয়টির মধ্যে তিনটি উদাহরণ: এই কোড যে কোনো ধরন থেকে আসতে পারে

উল্টো পথ নেই: কোড থেকে কারণ বের হয় না

এই কারণের সবচেয়ে আলগা অক্ষর

9

শান্তিকামী

শীতের ছুটিতে কোথায় বেড়াতে যাওয়া হবে, এই আলোচনায় নয় নম্বর ধরনের নিজের একটা পছন্দ থাকে, তবু সে হাত তোলে সবাই যেদিকে। সে আগলে রাখে সবার মধ্যেকার মিলটুকু, আর তা বাঁচায় ভিড়ে মিশে গিয়ে: যেখানে দল, সেখানে সে, আসরের মেজাজ সে গায়ে মেখে নেয়, তাই তার E। সিদ্ধান্ত নেয় যাতে কারো মুখ ভার না হয়, সেটাই তার F। মনোমালিন্যের পর আগে ফোনটা যেকোনো ESFJ করে; নয় করে, কারণ ঝুলে থাকা অভিমান তার কাছে গোটা সংসারের বাতাস ভারী করে রাখে। সবচেয়ে নড়বড়ে তার J। নয়ের গোছানো ভাব ধার করা, অন্যদের দিনক্ষণ থেকে; নিজের কাজে, যেখানে কেউ অপেক্ষায় নেই, সব গড়ায় শেষ মুহূর্তে, আর উত্তর হেলে পড়ে P-এর দিকে।

3

উচ্চাকাঙ্ক্ষী

নিজের দাম প্রমাণ করাই তিন নম্বর ধরনের লড়াই, আর আত্মীয়-বন্ধুর জমায়েত সেই দাম দেখানোর মঞ্চ। ভাগ্নির গায়ে হলুদে সবার চোখের সামনে আসরটা সে-ই চালায়, এখানে তার E; ডেকোরেটর, বাবুর্চি আর হলুদের ডালা আসে ঠিক সময়ে, তালিকা মিলিয়ে, এখানে তার J। ভোরে রান্নার জায়গায় গিয়ে বাবুর্চির হাঁড়ি চেখে দেখতে পারে যেকোনো ESFJ; তিন যায়, কারণ খাবার বিগড়োলে বদনাম জুড়বে আয়োজকের নামে। তার সবচেয়ে কম নিজের অক্ষর F। আত্মীয়-মহলে কদর পায় মায়া-মমতা, তাই সে মমতা দেখায়; যে মহলে দাম ঠান্ডা মাথার যুক্তির, যেমন আইনের চেম্বারে, সেখানে সে যুক্তিতে শান দেয়, আর প্রশ্নমালায় T ভারী হয়ে ওঠে।

6

নিষ্ঠাবান

ছয় নম্বর ধরন ভর দেয় সেই জিনিসে, যা আগে একবার কথা রেখেছে: বছরের পর বছর একই মুদির দোকানে মাসকাবারি বাজার, দোকানির খাতায় চেনা নাম, বাঁধা রীতি। নতুন প্রতিশ্রুতির চেয়ে পুরোনো নজির তার কাছে ভারী, এটাই তার S; কথা একবার পাকা হলে রাখতেই হবে, এটা তার J। আত্মীয় হাসপাতালে ভর্তি হলে টিফিন ক্যারিয়ার হাতে যেকোনো ESFJ হাজির হয়; ছয় হাজির হয়, কারণ যে মহল বিপদে তাকে ধরবে, সেটাকে আজ ধরে রাখা চাই। তার বিপক্ষে কাজ করে E, ছয়ের মাপা যোগ যায় I-এর দিকে। তার মিশুকে ভাব আসলে চেনা মানুষের মধ্যে স্বস্তি; বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির বড় পরিবারে প্রথম কয়েক মাস সে মেপে কথা বলে, আর তখন প্রশ্নমালা দিলে I বেরোতে পারে।

03

তিনটির মধ্যে নিজেরটা কীভাবে চিনবেন

  1. বাইরে থেকে একই আচরণ
  2. মানুষটি কী আগলে রাখে, সেই প্রশ্ন
  3. আপনার নিজের কারণ, অক্ষর নয়

দাওয়াত দেওয়ায় আর সবার খোঁজ রাখায় তিনজনেই পাকা, তাই “মানুষ জড়ো করতে ভালো লাগে?” প্রশ্নে কেউ আলাদা হয় না।

নয় আর তিনকে আলাদা করে প্রশংসার প্রশ্ন। ছোট বোনের বিয়ের পুরো আয়োজন ছিল আপনার হাতে, সব ভালোয় ভালোয় মিটল, অথচ আত্মীয়রা ধন্যবাদ দিলেন কেবল মামাকে, যিনি খরচ দিয়েছিলেন। মনে কী থেকে যায়: নির্বিঘ্নে মেটার তৃপ্তি, নাকি খচখচানি যে খাটুনিটা খাতায় উঠল না? তৃপ্তি নয়ের দিকে, তার লক্ষ্যই ঝামেলাহীন দিন। খচখচানি তিনের দিকে: কেউ না দেখলে তার দামের প্রশ্ন খোলা থাকে।

তিন আর ছয় ভাগ হয় নাম আর নিজের মানুষের টানে। বিদেশে বড় চাকরির ডাক, সেখানে নাম ছড়াবে, কিন্তু মা-বাবা আর চেনা মহল থাকবে পেছনে। কোনটা ছাড়া কঠিন: চোখে পড়ার সুযোগ, নাকি চোখ বুজে ভরসা করার মানুষগুলো? প্রথমটা হারানো তিনের কাছে ভারী, দ্বিতীয়টা ছয়ের।

নয় আর ছয়ের বেলায় ভাবুন পৈতৃক বাড়ি, যেখানে প্রতি শীতে সবাই জড়ো হত, আর এবার বড়রা সেটা বিক্রির কথা পাকা করেছেন। প্রথমে কী জাগে: আশা, যেন ভাইবোনে মনোমালিন্য না হয়, নাকি ভয়, যে পরিবারের পায়ের নিচের মাটি সরছে? প্রথমটা নয়ের, দ্বিতীয়টা ছয়ের।

ESFJ-এর ফাঁদ দ্বিতীয় প্রশ্নে। “আমি চলে গেলে মা-বাবাকে কে দেখবে” শোনায় তাড়নার মতো, কিন্তু কথা বলছে F আর J, নিজের লোকের দায় নেওয়ার অভ্যাস। ধরা পড়ে বাক্যের কর্তায়: উত্তরে বসে আছেন তাঁরা, অথচ প্রশ্ন ছিল আপনি কী হারাবেন।

04

অক্ষর যা বলে না

মানুষ কীভাবে কাজ করে: অক্ষর এটুকুই দেখে

চারটি অক্ষরে যা নেই

  • বিকাশের ধাপ
  • সহজাত উপধরন
  • চাপ কোথায় নিয়ে যায়

এননিয়াগ্রাম আর এমবিটিআই মানুষকে দুটো আলাদা রেখায় কাটে, তাই দুটোর মধ্যে বাঁধা কোনো মিল নেই, আর আমরা সেটা বানিয়েও দিই না। এননিয়াগ্রাম দেখে ভেতরের কল আর ভয়, এমবিটিআই দেখে তথ্য নেওয়ার আর সিদ্ধান্তের পছন্দ। ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়ানো মিলিয়ে দেখার ছকগুলো মাপ থেকে নয়, অনুমান থেকে তৈরি, আর নিজেদের মধ্যেও মেলে না। মাপা হয়েছে কেবল এক দিকের যোগ, এননিয়াগ্রাম ধরন থেকে আলাদা আলাদা অক্ষরের দিকে: ধরন জানা থাকলে অক্ষর একটু ভালো আন্দাজ করা যায়। এই পাতা পড়ছে উল্টো দিকে, যেখানে কোনো মাপ নেই, তাই ওপরের তিনটি কারণ কলটা বোঝানোর উদাহরণ, পুরো তালিকা নয়, আর ধরন নয়টির যেকোনোটিই হতে পারে। ভালো সময়ে ESFJ-এর আপ্যায়নে মন ভরে; চাপের মুঠোয় তা জোর হয়ে ওঠে: পাতে তৃতীয়বার মাংস, “না” শোনার ধৈর্য নেই, অথচ অক্ষর একই। যত্ন কোথায় গড়ায়, ঘর-সংসারে, কাছের একজনে, নাকি মহলে নিজের জায়গায়, বলে সহজাত প্রবৃত্তি। চাপ চেপে বসলে একজন ভাবে আত্মীয়রা আড়ালে তাকে নিয়ে কথা বলছে, আরেকজন দাওয়াতের কার্ড ফেলে রাখে, তৃতীয়জন তিনটে কমিটির ভার নেয়; কোড কারো বদলায় না।

05

প্রশ্ন

ESFJ হয়েও এননিয়াগ্রামে ছয় নম্বর ধরন এল। দুটো ফল কি একসঙ্গে টেকে?

টেকে, আর যতটা মনে হয় তার চেয়ে সহজে। মাপা যোগ বলে ছয় টানে I-এর দিকে, আর আপনার E হতে পারে চেনা মানুষের মধ্যে সহজ থাকা। লম্বা ট্রেন সফরে যাচাই করুন: অচেনা কামরায় আপনি কি চুপচাপ সবাইকে মাপেন, আর মুখ খোলেন কেবল যখন জানা যায় পাশের যাত্রী আপনার জেলারই লোক? তাহলে ছয় ঠিক জায়গায় আছে, আর E-টা আপনার মহলের, সবখানের নয়।

বিয়েবাড়িতে সবাই আমাকেই খোঁজে, অথচ ফিরে এসে আমি নিঃশেষ। আমি কি আদৌ E?

E বলে মনোযোগ কোন দিকে ঘোরে, শক্তি যে ফুরোয় না তা বলে না। একসঙ্গে খেয়াল রাখা কে খেল, কে পৌঁছায়নি আর কোন দুই আত্মীয়ের কথা বন্ধ, এতে যে কেউ হাঁপাবে। এননিয়াগ্রামের কাছে ক্লান্তিটা কম বলে। বেশি বলে ফেরার পরের রাত: নিশ্চিন্তে ঘুমোন, নাকি মাথায় ঘোরে কোন পদ কম পড়ল, নাকি গোনেন সামনের দাওয়াতে কী গোলমাল হতে পারে।

লোকে কী বলবে, এই চিন্তা আমাকে ছাড়ে না। এটা কোন ধরনের দিকে ইশারা করে?

ঘরের মেজাজ টের পাওয়া কোডেরই অংশ: E আর F মিলে কারো সায় বা বিরক্তি খুব দ্রুত ধরে। এননিয়াগ্রাম জানতে চায়, মতামতটা আসলে কী নিয়ে। বেশি বেঁধে যদি আপনার কারণে কারো মন খারাপ হয়, সেটা এক দিক; যদি খাটুনি কেউ খেয়াল না করে, আরেক দিক; যদি নিজের মহল আপনাকে দলছুট ভাবে, তৃতীয়। ধরনের পাতায় খুঁজবেন ওই “কী নিয়ে”-র উত্তরটা।

বাড়ির লোক বলে, সব অনুষ্ঠান আমি নিজের মুঠোয় রাখি। এটা অক্ষর, না ধরন?

আয়োজনের অভ্যাস দেয় E আর J: কাউকে তো দিন ঠিক করতে আর হল ভাড়া করতে হবে। সেটা নিয়ন্ত্রণে গড়িয়েছে কি না, সে প্রশ্ন ধরনের নয়, অবস্থার। দেখুন, মাঝপথে লোডশেডিং হলে বা বৃষ্টিতে ছাদের আসর ভেস্তে গেলে কী হয়। হেসে মানিয়ে নিলে পরিকল্পনা মানুষের কাজে লাগছে; প্রতিটা বিচ্যুতি গায়ে লাগলে ভার বেড়েছে, আর সেটা ধাপের কথা, অক্ষরের নয়।

নিজের ধরন, ডানা আর ধাপ জানুন

১০৮টি প্রশ্ন, ফলাফল সঙ্গে সঙ্গে

নিজের ধরন, ডানা আর ধাপ জানুন