কোড আর এননিয়াগ্রাম
ENFP আর Enneagram: এই উচ্ছ্বাস কী আগলে রাখে
পাড়ার ক্লাবের দুর্গাপুজোয় এবার থিমের আইডিয়াটা আপনার, আর এক সন্ধ্যাতেই কুড়িজন স্বেচ্ছাসেবক জুটে গেছে। এমবিটিআই-তে আপনার ফল ENFP, এননিয়াগ্রাম ধরন এখনও খোলা। এই একই উৎসাহ তিনটে একেবারে আলাদা কারণ থেকে জন্মাতে পারে, আর এই পাতা কোনো নম্বর না দিয়ে তিনটিকে পাশাপাশি রাখে। বিসর্জনের পর প্যান্ডেল খুলে ফেলা হবে; আইডিয়াটা কেন আপনার মাথায় এসেছিল, সেটা থেকে যাবে।
01
এই চারটি অক্ষর কী বলে
কলেজ ক্যান্টিনে ENFP কোডের মানুষের টেবিলে চেয়ার কম পড়ে, আর অফিসে নতুন কেউ এলে প্রথম সপ্তাহেই সে তাকে শুক্রবারের আড্ডায় টেনে আনে। তার ড্রয়ারে তিনটে ডায়েরি, প্রতিটার প্রথম দশ পাতা লেখা: একটা উপন্যাস, একটা ব্যবসার হিসেব, একটা সফরের তালিকা। বন্ধুদের মধ্যে খরচ ভাগের সময় সে খেয়াল রাখে কার পকেটে টান, আর সেই ভাগটা চুপচাপ নিজে দিয়ে দেয়। পরিকল্পনা তার কাছে দিক, ছক নয়: দার্জিলিং যাওয়ার প্ল্যান পাকা হয় স্টেশনে পৌঁছে।
বাইরে থেকে তাকে ENTP বলে ভুল হয়: একই ভাবনার ঢল, বেরিয়ে পড়ার একই তাড়া। তফাত করে সিদ্ধান্তের অক্ষর। বন্ধুর বিয়ের বক্তৃতায় ENTP মজার খোঁচা দেয়, ENFP এমন গল্প বলে যাতে বর-কনে দুজনেরই চোখ ভেজে। কেউ চাকরি ছাড়ার পরামর্শ চাইলে ENTP বাজারের হিসেব কষে দেয়, ENFP জিজ্ঞেস করে কোন কাজে তার চোখ জ্বলে ওঠে।
পাড়ার লোক তার উৎসাহের গল্প করে, কিন্তু সেই উৎসাহ দিয়ে সে কী আগলে রাখছে, সে খবর কারও কাছে নেই।
02
একই কোডের পেছনে তিনটি কারণ
নয়টির মধ্যে তিনটি উদাহরণ: এই কোড যে কোনো ধরন থেকে আসতে পারে
উল্টো পথ নেই: কোড থেকে কারণ বের হয় না
এই কারণের সবচেয়ে আলগা অক্ষর
শান্তিকামী
বাড়িতে টিভি চলছে, আত্মীয়রা আসছে-যাচ্ছে, আর নয় এই কোলাহলেই স্বস্তি পায়; একা ঘরে তার ফাঁকা লাগে। মানুষের স্রোতে মিশে থাকার এই অভ্যাসকে প্রশ্নমালা E পড়ে। অফিসে দুই সিনিয়র দুই রকম নির্দেশ দিলে সে কোনোটাই চূড়ান্ত করে না, অপেক্ষা করে ওঁরা নিজেরা মিটিয়ে নেবেন, কারণ বেছে নেওয়া মানে কারও বিপক্ষে যাওয়া: এই P। সে-ও পুজোর চাঁদা তুলতে নামে, চার আর সাতের মতোই, কিন্তু যাতে পাড়ায় কেউ বলতে না পারে সে দলছুট। তার সবচেয়ে ঢিলে অক্ষর N: নতুন ভাবনা আসে বন্ধুদের কাছ থেকে, একা হলে সে চেনা জিনিসে ফেরে। বিয়ের পর সংসার যখন কেবল বাজার আর কিস্তির কথা বলে, উত্তর S-এর দিকে সরে যায়।
অনুভূতিপ্রবণ
অন্য কারও নকল হয়ে বাঁচা, চারের কাছে এর চেয়ে ভারী কিছু নেই। কবিতার একটা লাইন থেকে সে গোটা একটা প্রদর্শনীর ভাবনা দাঁড় করায়, আর সেখানেই তার N। মানুষকে সে মাপে কথার আন্তরিকতা দিয়ে, ডিগ্রি বা পদ দিয়ে নয়, তাই প্রশ্নমালা পায় F। সে-ও ফেসবুকে লম্বা পোস্ট লেখে, বাকি দুজনের মতো, কিন্তু এমন কথা যা আর কেউ লিখত না। তার E দাঁড়িয়ে আছে সাড়ার ওপর: কলেজ ম্যাগাজিনে তার লেখা ছাপা হয়ে কারও চোখে পড়ল না, আর সে কয়েক সপ্তাহ আড্ডায় এল না। তখন পরীক্ষা I দিতে পারে।
উৎসাহী
“আবার সেই একই”: এই কথার মতো সাতকে আর কিছু তাড়া করে না। একা থাকার সন্ধ্যায় সে ফোনে পাঁচজনকে ডেকে আড্ডা বসিয়ে ফেলে, এখান থেকেই E। চেনা রাস্তাতেও সে নতুন গলি খোঁজে, আর প্রতিটা গলিতে একটা সম্ভাবনা দেখে: N। তার ক্যালেন্ডারে পাকা বলে কিছু নেই, সবই “দেখছি”, তাই P টিকে থাকে। সে-ও পরিকল্পনা মাঝপথে বদলায়, নয় আর চারের মতো, কিন্তু বদলায় কারণ নতুনটা বেশি ঝলমলে। তার সবচেয়ে নড়বড়ে অক্ষর F: উষ্ণতা সত্যি, তবে হালকা। বোনের ডিভোর্সের রাতে সে উকিলের নম্বর আর নতুন ফ্ল্যাটের বিজ্ঞাপন হাজির করে, শুধু পাশে বসে থাকাটা পারে না। অন্যের ভারে তার সিদ্ধান্ত ঠিক করে বেরোনোর রাস্তা খোঁজা, আর পরীক্ষা T দিতে পারে।
03
তিনটির মধ্যে নিজেরটা কীভাবে চিনবেন
- বাইরে থেকে একই আচরণ
- মানুষটি কী আগলে রাখে, সেই প্রশ্ন
- আপনার নিজের কারণ, অক্ষর নয়
পুজোর প্যান্ডেলে তিনজনকে আলাদা করা যাবে না। তফাত সেই জিনিসে, যা হাতছাড়া হলে ঘুম আসে না।
পাড়ার ক্লাব দু’ভাগ হয়ে দুটো আলাদা পুজো করল, নাকি ক্লাব এক থাকল কিন্তু সেখানে আপনি শুধু চাঁদা তোলার লোক, আপনার ভাবনা কেউ জানতে চায় না: কোনটা বেশি দিন বুকে বাজবে? ভাঙন সইতে না পারা নয়ের কাছে, নিজের লোকের মধ্যে অচেনা থাকা সইতে না পারা চারের কাছে।
বন্ধুরা মিলে যে লিটল ম্যাগাজিন বের করতেন, তিন সংখ্যার পর তা বন্ধ হয়ে গেল। প্রথম সন্ধ্যায় মন টানে কোথায়: এই হারানো আপনার সম্পর্কে কী বলে, নাকি পরের আইডিয়া? চার সেই অনুভূতির সঙ্গে থাকে আর তার মধ্যে নিজেকে খোঁজে; সাত পাশ কাটিয়ে যায়, আর নতুন আইডিয়া দুঃখের আগে পৌঁছে যায়।
আপনার গানের দলে সবাই পরিবারের মতো। একটাই রাখা গেলে কোনটা: দল ভারী হয়ে উঠলে বেরিয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা, নাকি দলের সবার সঙ্গে শান্তি? সাত বেরোনোর দরজাটা রাখবে আর অন্যদের অভিমান সয়ে নেবে; নয় ভারী হাওয়ার মধ্যেই থাকবে, শুধু সম্পর্কটা যেন না ছেঁড়ে।
এই শেষ প্রশ্নেই ENFP নিজের অক্ষরে জড়িয়ে পড়ে। স্বাধীনতাটা সে না ভেবেই বাছে, তারপর বোঝায় তারিখ দিয়ে: পরের শো-টা হয়ে যাক, পুজোর বায়না মিটুক, তারপর। উত্তরে তারিখ ভরা থাকলে কথা বলছে P। কারণটা শোনা যায় অন্য জায়গায়: গঙ্গার ঘাটে বসে থাকা বন্ধু, যার সম্পর্ক সদ্য ভেঙেছে, রাত বাড়ছে, কোনো পরিকল্পনা নেই। মন কি উঠে পড়ার অজুহাত খোঁজে?
04
অক্ষর যা বলে না
মানুষ কীভাবে কাজ করে: অক্ষর এটুকুই দেখে
চারটি অক্ষরে যা নেই
- বিকাশের ধাপ
- সহজাত উপধরন
- চাপ কোথায় নিয়ে যায়
এননিয়াগ্রাম আর এমবিটিআই মানুষকে দুটো আলাদা রেখায় কাটে, তাই দুটোর মধ্যে বাঁধা কোনো মিল নেই, আর আমরা সেটা বানিয়েও দিই না। এননিয়াগ্রাম দেখে ভেতরের কল আর ভয়, এমবিটিআই দেখে তথ্য নেওয়ার আর সিদ্ধান্তের পছন্দ। ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়ানো মিলিয়ে দেখার ছকগুলো মাপ থেকে নয়, অনুমান থেকে তৈরি, আর নিজেদের মধ্যেও মেলে না। মাপা হয়েছে কেবল এক দিকের যোগ, এননিয়াগ্রাম ধরন থেকে আলাদা আলাদা অক্ষরের দিকে: ধরন জানা থাকলে অক্ষর একটু ভালো আন্দাজ করা যায়। এই পাতা পড়ছে উল্টো দিকে, যেখানে কোনো মাপ নেই, তাই ওপরের তিনটি কারণ কলটা বোঝানোর উদাহরণ, পুরো তালিকা নয়, আর ধরন নয়টির যেকোনোটিই হতে পারে। কবলে ENFP-র ডায়েরি বাড়ে, আর যে বন্ধুরা তার ভরসায় নেমেছিল, তাদের সামনে সে আসে না। দীর্ঘ চাপে টান আসে ধরনের রেখায়: নয় প্রতিটা সম্পর্ক বাজিয়ে দেখে কেউ রেগে আছে কি না, চার বন্ধুদের বিপদ কাঁধে নেয়, সাত তেতো আর খিটখিটে হয়ে ওঠে। সামর্থ্যে সে আলো নেভার পরেও গোছগাছে থেকে যায়। উৎসাহ কোন খাতে বইবে, সঞ্চয় আর শরীরে, একজন সঙ্গীতে, নাকি পাড়ায়, তাতে হাত সহজাত প্রবৃত্তির।
05
প্রশ্ন
আমার কোড ENFP, আর এননিয়াগ্রাম পরীক্ষা দিল নয়। কোথাও গোলমাল হলো?
গোলমালের কিছু নেই: নয়ের কোনো অক্ষরের সঙ্গে মাপা যোগ পাওয়া যায়নি, তাই কোডের আপত্তির কিছু নেই। যাচাই করার অক্ষর N। বর্ষার যে সপ্তাহে বন্ধুরা আসেনি, সেটা মনে করুন: নতুন ভাবনা যদি থেমে গিয়ে থাকে আর আপনি চেনা রুটিনে ফিরে থাকেন, তবে N ধরে রেখেছে চারপাশের মানুষ, আর নয় এই কোডের সঙ্গে মেলে। একা থেকেও ভাবনা এলে তিনটে প্রশ্নে ফিরে যান।
একা বেড়াতে যেতে আমার অস্বস্তি হয়, অথচ ফল বলছে আমি E। এর মানে কী?
একা যেতে অস্বস্তি E-র সঙ্গে দিব্যি মেলে, আর তিনটে কারণেই থাকতে পারে। প্রশ্ন হলো একা হলে ঠিক কী খারাপ লাগে। দিক ঠিক করে দেওয়ার কেউ নেই, এটা যদি হয়, তবে নয়ের কাছে। যা দেখছেন তা ভাগ করে নেওয়ার, বুঝবে এমন কেউ নেই, এটা যদি হয়, চারের কাছে। চুপচাপ রাতে নিজের ভাবনার সঙ্গে একা পড়ে যাওয়া যদি হয়, সাতের কাছে।
অফিসে কেউ কড়া কথা বললে আমি কয়েক দিন অন্যমনস্ক থাকি। এটা F, নাকি ধরন?
কথাটা এতটা গায়ে লাগা F-এর কাজ, আর সেটা তিনজনেরই আছে। ধরন বোঝা যায় কোন জায়গায় লেগেছে তা দিয়ে। ঘরের থমথমে ভাবটাই যদি সবচেয়ে কষ্টের হয়, সেটা নয়ের দিকে। কেউ আপনাকে ভুল চিনল, এটা যদি খচখচ করে, চারের দিকে। পরদিন থেকেই যদি অন্য বিভাগ বা অন্য চাকরির খোঁজ শুরু হয়, সাতের দিকে।
আমার সঙ্গী খুব গোছানো, আমি একেবারে উল্টো। এটা কি ধরনের অমিল?
গোছানো আর অগোছালোর তফাত J আর P-এর, অক্ষরের তফাত, ধরনের নয়। ধরন দেখা যায় সঙ্গীর গোছানো ভাবের কোন দিকটা আপনাকে খোঁচায় তাতে। তাঁকে হতাশ করার ভয় যদি থাকে, সেটা নয়ের কাছাকাছি। “ও তো এরকমই” বলে একটা খোপে ঢুকিয়ে দেওয়া যদি লাগে, চারের কাছাকাছি। বাঁধা রুটিনে আটকে পড়ার ভয় যদি হয়, সাতের কাছাকাছি।