enneagramwing

ধারণা

বুদ্ধির তিনটি কেন্দ্র: আপনারটা কোনটা, কীভাবে বুঝবেন

ফলাফলে আপনার ধরনের একটা রং আছে, আর সেই রং আরও দুটো ধরনের, যাদের সঙ্গে আপনার মিল নেই। গোটা সাইট এভাবেই তিন ভাগে সাজানো। প্রশ্নটা সোজা: এই তিন ভাগ আসলে কী, আর ফলাফল যে ভাগ দেখাল, সেটা আপনার কি না। এখানে কোনো একটা কেন্দ্রের বিশ্লেষণ নেই, নয়টি ধরনও নেই। এখানে শুধু যা তিন ভাগেই এক: জগতের সঙ্গে প্রথম দেখার তিন পথ, তিনটি আবেগ, ভাগের ভেতরের গড়ন, আর ফলাফলে কেন্দ্র কী বলে।

01

তিনটি কেন্দ্র, তিনটি আবেগ

শরীরের কেন্দ্র

সীমানা আর প্রতিরোধ

রাগ

হৃদয়ের কেন্দ্র

নিজের ছবি আর মূল্য

লজ্জাকোনো কোনো ঘরানায়: দুঃখ

মাথার কেন্দ্র

ভরসা আর নিরাপত্তা

ভয়

জগতের সঙ্গে প্রথম দেখা হয় তিন পথে: শরীর দিয়ে, অনুভূতি দিয়ে, নাকি ভাবনা দিয়ে। এই তিন পথই তিনটি কেন্দ্র, প্রত্যেকের নিজের বিষয়। শরীরের কেন্দ্রের বিষয় সীমানা: আমার জায়গা কোথায় শেষ, আর বাইরের চাপ কোথায় শুরু। হৃদয়ের কেন্দ্রের বিষয় নিজের ছবি আর তার দাম: আমাকে কেমন দেখা যায়, আর সেই ছবি ধরে রাখার মতো কি না। মাথার কেন্দ্রের বিষয় ভরসা আর নিরাপত্তা: কীসের উপর দাঁড়ানো যায়, আর দিশা হারানো এড়ানো যায় কীভাবে। একই ঘটনা তাই তিন রকম শোনায়: হামলা, মাপা, হুমকি।

প্রত্যেক কেন্দ্রের একটা আবেগ আছে, যা সে নিজে থেকে সামলায় না: শরীরের রাগ, হৃদয়ের লজ্জা, মাথার ভয়। এটা প্রধান বৈশিষ্ট্য নয়, বাইরে থেকে চোখে পড়াও নয়: শরীরের কেন্দ্রের অনেকের রাগ বাইরে আসেই না, আর মাথার কেন্দ্রে ভয় ঢাকা পড়ে আত্মবিশ্বাসে। কেন্দ্রের আবেগকে ঘিরেই তার সব রক্ষাব্যবস্থা দাঁড়িয়ে, আর সেটা ধরা পড়ে কেন্দ্র কী এড়িয়ে চলে তাতে। হৃদয় নিয়ে ঘরানাগুলো একমত নয়: রিসো আর হাডসনের কাছে লজ্জা, কিছু লেখকের কাছে দুঃখ। এই সাইট প্রথমটা ধরে রাখে।

বৃত্তে ভাগগুলো পরপর বসে: আট, নয় আর এক মিলে শরীরের কেন্দ্র, দুই, তিন আর চার হৃদয়ের, পাঁচ, ছয় আর সাত মাথার। এটা মনে রাখার সুবিধা নয়। অস্কার ইচাজো তিনটি কেন্দ্র আকৃতিতে এমনভাবে বসান যে প্রতিটি ভাগ নিজের একটা বৃত্তচাপ পায়, আর প্রতিটি চাপের মাঝে পড়ে ভেতরের ত্রিভুজের একটা কোণ। নয়, তিন আর ছয় তাই নিজের ভাগের মাঝের ঘর, আর ভাগের গড়নের মূল বৈশিষ্ট্য এদের সঙ্গেই বাঁধা।

02

প্রতিটি ভাগের গড়ন

রাগএকটাই আবেগ, সামলানোর তিন রকম

  • 8বাড়তি: রাগ বাইরে বেরোয়
  • 1ঘাটতি: রাগ নিয়ন্ত্রণে
  • 9সংযোগ কাটা: রাগ মানাই হয় না

একটা ভাগের ভেতরে একই আবেগ তিনভাবে সামলানো হয়, আর এটা মডেলের গড়ন, মানুষ দেখে বানানো মন্তব্য নয়। একটা ধরন আবেগ বাইরে ছাড়ে মাত্রার বেশি, একটা ধরন কম দেয় আর নিয়ন্ত্রণে রাখে, আর ভাগের মাঝের ধরন তার সঙ্গে যোগ হারিয়ে এমনভাবে থাকে যেন আবেগটা নেই। রিসো আর হাডসনের ভাষায় এটা অতিরিক্ত, অপ্রতুল আর আটকে যাওয়া ব্যবহার। এক ভাগের তিন ধরনের তফাত আবেগে নয়, আবেগটা নিয়ে তারা কী করে তাতে।

সবচেয়ে পরিষ্কার দেখা যায় শরীরের ভাগে, আর এই পাতায় এটাই একমাত্র উদাহরণ। আট নম্বর ধরন রাগ বাইরে ছাড়ে: গলায়, নড়াচড়ায়, চাপে, আর তাতে তার সংকোচ নেই। এক নম্বর ধরন রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখে: রাগ হয়ে যায় নিজের প্রতি দাবি আর ভুলের প্রতি বিরক্তি, আর নিজের ভেতরে রাগ আছে সেটা সে মানে না। নয় নম্বর ধরন রাগ অস্বীকার করে: তার সঙ্গে তার যোগ এত কম যে নয়জনের মধ্যে তাকেই সবচেয়ে শান্ত দেখায়, আর তার রাগ অন্যরা তার আগে টের পায়।

এখান থেকেই সবচেয়ে বড় গোলমালটা আসে: এক ভাগের তিন ধরনকে একেবারে আলাদা দেখাতে পারে, কারণ একই আবেগ নিয়ে তারা উল্টো কাজ করে। চাপ দেওয়া আর শান্ত, দাবি করা আর মেনে নেওয়া, একই কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে। তাই মেজাজ দেখে কেন্দ্র আন্দাজ করা যায় না; সেটা ঠিক হয় আচরণের পেছনের বিষয় দিয়ে: সীমানা, ছবি, নাকি ভরসা। হৃদয়ের আর মাথার ভাগের গড়ন একই, দেখতে অন্যরকম, আর সেটা খোলা আছে তাদের নিজের পাতায়।

03

নিজের কেন্দ্র কীভাবে চিনবেন

  1. শরীর আগেই কাজে নেমে পড়ে বা দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়
  2. কথার আগে অনুভূতি উঠে আসে
  3. চিন্তা পিছিয়ে গিয়ে পথগুলো গোনে
ভাগের মাঝের ধরনই কেন্দ্র চিনতে সবচেয়ে বেশি ভুল করে

দেখতে হবে প্রথম প্রতিক্রিয়া, চরিত্র নয়। চরিত্র কেন্দ্রের উপরে গড়ে ওঠে আর যেকোনো রকম দেখাতে পারে। হঠাৎ সমস্যার প্রথম সেকেন্ডটা সহজ: শরীর আগেই নড়ে উঠেছে বা দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে, অনুভূতি উঠে এসেছে কথার আগে, নাকি ভাবনা সরে গিয়ে পথ গুনছে। যেটা আগে আসে, সেটাই কেন্দ্র। গতি আর মিশুকে স্বভাব এখানে গোলমাল।

দুটো প্রশ্ন, গত মাস নিয়ে, নিজের সম্পর্কে ধারণা নিয়ে নয়। প্রথম: পরিকল্পনা ভেঙে পড়লে প্রথম সেকেন্ডে আপনার কী হয়, আপনি কাজে নেমে পড়েন, অনুভূতি আপনাকে ভাসিয়ে নেয়, নাকি সরে গিয়ে হিসাব করেন। দ্বিতীয়: কোনটা সহ্য করা আপনার সবচেয়ে কঠিন, আপনাকে চেপে দেওয়া, আপনি যেমন তেমন করে না দেখা, নাকি ভরসা ছাড়া ফেলে রাখা। দুটো উত্তর না মিললে ভার প্রথমটার: সেটা প্রতিক্রিয়ার কথা, মূল্যবোধের নয়।

গোলমাল হয় একটা জায়গাতেই। ভাগের মাঝের ধরনকে তার ভাগের আবেগের সঙ্গে সবচেয়ে কম মেলে, কারণ যোগটা সে হারিয়েছে, আর কেন্দ্র নিয়ে ভুলও সে-ই সবচেয়ে বেশি করে: শান্ত নয় নম্বর ধরন নিজেকে খোঁজে মাথার ধরনগুলোর মধ্যে, সম্মতি-খোঁজা ছয় খোঁজে হৃদয়ের ধরনগুলোর মধ্যে, আর তিন অনুভূতির জায়গায় কাজ বসিয়ে দেয়। ফলাফল যদি ভাগের মাঝের ঘর দেখায় আর কেন্দ্রের বর্ণনা নিজের মনে না হয়, সেটা মাঝের ঘরের স্বভাব, ভুল নয়।

04

ফলাফলে কেন্দ্র

কেন্দ্র গোনা হয় না: সেটি ধরন থেকেই আসে

আলাদা ভাগের দুই প্রার্থী: আগে কেন্দ্র

একই ভাগ: কেন্দ্র ধরে বাছাই কাজে আসে না

পরীক্ষা কেন্দ্রকে আলাদা মাপ হিসেবে গোনে না। কেন্দ্র আসে ধরন থেকে: ধরনটা কোন ভাগে দাঁড়িয়ে, তাতেই সেটা ঠিক, আর ফলাফলে সেটা দেখা যায় রঙে আর আকৃতির উপর জায়গায়, সংখ্যায় নয়। প্রশ্নমালায় কেন্দ্রের আলাদা কোনো মাপকাঠি নেই: কেন্দ্র মডেলের একটা ভাগ, মানুষের এমন কোনো গুণ নয় যা ধরনের বাইরে মাপা যায়।

তাহলে কেন্দ্র জানার দরকার কী। পরীক্ষা যদি দুটো ভিন্ন ভাগ থেকে দুজন দাবিদার দেখায়, কেন্দ্রই প্রথম মোড়, যেটা আগে ঠিক করা দরকার, আর দুই ধরনের মধ্যে বাছার চেয়ে সেটা সহজ: প্রশ্নটা প্রথম প্রতিক্রিয়ার, চরিত্রের নয়। দুজন দাবিদার একই ভাগে থাকলে এই মোড় কাজে আসে না, তখন দেখতে হয় একই আবেগ নিয়ে কে কী করে।

06

প্রশ্ন

একসঙ্গে দুটো কেন্দ্রে থাকা যায় কি?

না। কেন্দ্র ঠিক হয় ধরন দিয়ে, আর ধরন একটাই। আপনি শরীরেরও, মাথারও, এই অনুভূতির মানে অন্য: ধরন তিন পথই ব্যবহার করে, কিন্তু প্রথমে জ্বলে ওঠে একটা, আর সেটাই সবচেয়ে বেশি ফেলে দেয়। ডানা আর রেখা পাশের ভাগের ছাপ যোগ করে, কেন্দ্র তাতে বদলায় না। কেন্দ্র নিয়ে সন্দেহ আসলে ধরন নিয়ে সন্দেহ, আর তার মীমাংসা প্রথম প্রতিক্রিয়ায়।

নয় নম্বর ধরন এত শান্ত, তবু শরীরের কেন্দ্রে কেন?

কারণ কেন্দ্র ঠিক হয় সেই আবেগ দিয়ে, যা ধরন সামলাতে পারে না, কতটা দেখা যায় তা দিয়ে নয়। নয় শরীরের ভাগের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আর দুই প্রতিবেশীর চেয়ে বেশি রাগ অস্বীকার করে: রাগ বাইরে আসে না, নিয়ন্ত্রণেও থাকে না, স্বীকারই হয় না। শান্ত থাকা রাগ সামলানোর একটা পথ, রাগ না থাকা নয়: নয় চাপে অনেকক্ষণ জবাব দেয় না, তারপর হঠাৎ অনড়।

কেন্দ্র আর তিন ভাগ কি একই জিনিস?

ভাগ কথাটা বড়। নয়টি ধরনকে তিনটি করে ভাগ করার যত পথ আছে, কেন্দ্র তার একটা, সবচেয়ে পুরনো আর চেনা, জগতের সঙ্গে মানুষ প্রথমে কী দিয়ে দেখা করে সেই হিসেবে। অন্য ভাগও আছে: কষ্টে সাড়া দেওয়ার ধরন দিয়ে, সম্পর্কে মানুষ কোনদিকে যায় তা দিয়ে, আর তাদের নিজের পাতা আছে। বাড়তি কিছু না বলে তিন ভাগ বললে প্রায় সবসময় কেন্দ্রই বোঝানো হয়।

হৃদয়ের কেন্দ্রের আবেগ লজ্জা কেন, দুঃখ নয় কেন?

এখানে ঘরানাগুলো আলাদা। রিসো আর হাডসন বলেন লজ্জা, ড্যানিয়েলস আর চেস্টনাট বলেন দুঃখ বা শোক, আর কেউ কেউ আবেগ নয়, ছবির কথা বলেন। এই সাইট রিসো আর হাডসনের পথে চলে, কারণ পরীক্ষা তাঁদের স্তরের সিঁড়ির উপর তৈরি; শব্দটা বাছা মিলিয়ে রাখতে, বিতর্কের রায় হিসেবে নয়। শব্দের পেছনে জিনিস একটাই: নিজের দাম, যা ঠিক হয় অন্যের সাড়া দিয়ে।

ধরন এখনো ঠিক না হলে নিজের কেন্দ্র কীভাবে বুঝবেন?

প্রথম প্রতিক্রিয়া দিয়ে, ধরনের বর্ণনা দিয়ে নয়। শেষ হঠাৎ সমস্যাটা আর তার প্রথম সেকেন্ড মনে করুন: শরীর আগেই কাজে নেমেছিল, অনুভূতি উঠে এসেছিল, নাকি ভাবনা সরে গিয়ে পথ গুনছিল। এটা তিন ভাগের মোড়, নয়টির মধ্যে বাছার চেয়ে সহজ। তারপর ভাগের ভেতরে মেজাজ নয়, দেখুন ধরন আবেগ নিয়ে কী করে: ছাড়ে, ধরে রাখে, নাকি টেরই পায় না।

নিজের ধরন, ডানা আর ধাপ জানুন

১০৮টি প্রশ্ন, ফলাফল সঙ্গে সঙ্গে

নিজের ধরন, ডানা আর ধাপ জানুন