enneagramwing

ধারণা

Enneagram-এর বিকাশের ধাপ: সিঁড়িতে আপনি কোথায় আছেন

ফলাফলে আপনি নম্বর ছাড়া একটা অবস্থা দেখেছেন, আর ইন্টারনেটে নয়টি ধাপের কথা পড়ে ভাবছেন, আপনি কোথায়। এই পাতায় কোনো একটি ধরনের জন্য কোনো ধাপ লেখা নেই: তার জন্য নয়টি আলাদা পাতা আছে। এখানে সিঁড়িটা: কোথা থেকে এল, নয়টি ধাপ তিনটি অবস্থায় কীভাবে ভাগ হয়, তাতে ওঠানামা রেখা ধরে সরে যাওয়ার থেকে কোথায় আলাদা, আর এর কতটুকু ব্যক্তিত্ব পরীক্ষা মাপতে পারে, কতটুকু পারে না।

01

নয়টি ধাপ, তিনটি অবস্থা

  • প্রথম ধাপ, যেখানে নিজের দরকারি জিনিসটা অন্যের কাছে দাবি হয়ে ওঠে
  • শেষ ধাপ, যেখানে মানুষ এখনো নিজেকে ধরে রাখে
  • নয়টি ধাপেই ধরন একটাই

ধাপের সিঁড়িটা ডন রিচার্ড রিসো বানান ১৯৭৭ সালে, ১৯৮৭ সালের বইয়ে লেখেন, আর ১৯৯৬ সালের সংস্করণের জন্য রাস হাডসনের সঙ্গে নতুন করে সাজান। লেখকদের মতে সিঁড়িটা একটা জিনিস মাপে: মানুষ নিজের ধরনের কলের সঙ্গে কতটা মিশে গেছে। উপরের ধাপে ধরন একটা রীতি, যা মানুষ খুশিমতো ব্যবহার করে আর সরিয়ে রাখতেও পারে। নিচের ধাপে রীতিটাই মানুষকে ব্যবহার করে: সব চলে আপনা থেকে, আড়াল হিসেবে, আর সরিয়ে রাখা আর যায় না।

ধাপ নয়টি, তিনটি অবস্থার প্রতিটিতে তিনটি করে। এই সাইটে অবস্থাগুলির নাম “সামর্থ্যে”, “মাঝামাঝিতে” আর “কবলে”, বইয়ে যে রায়ের শব্দগুলি চলে সেগুলি নয়: অবস্থা বলে মানুষ আজ কেমন আছে, মানুষটা কে তা নয়। একটি অবস্থার ভেতরে ধাপগুলি মাত্রায় আলাদা, আর নয়টির মধ্যে দুটি আলাদা রকম। চতুর্থটি প্রথম ধাপ, যেখানে নিজের দরকারি জিনিসটা অন্যের কাছে দাবি হয়ে ওঠে। ষষ্ঠটি শেষ ধাপ, যেখানে মানুষ এখনো নিজেকে ধরে রাখে, আর সেখানে সে অন্যের সঙ্গে ঠিক তাই করে, যা নিজের বেলায় সবচেয়ে বেশি ভয় পায়।

সিঁড়ির সবচেয়ে বড় কথা: নয়টি ধাপেই ধরন একটাই। নিচে নামতে নামতে চার নম্বর ধরন পাঁচ হয় না, দুইও হয় না, সে হয় নিজের সবচেয়ে খারাপ সংস্করণের চার। উপরে উঠতে উঠতে সে এমনিতে ভালো মানুষ হয়ে ওঠে না, সে হয় আড়াল ছাড়া নিজে। তাই সিঁড়ি নয়টি, একটি নয়: একই ধাপ চার নম্বর ধরনের আর আট নম্বর ধরনের বেলায় দুটি আলাদা অবস্থা।

02

সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা

আড়াআড়ি: তীর ধরে অন্য ধরনের দিকে

খাড়া: নিজের ধরনের ভেতরে ওঠা আর নামা

আপনি কি অন্য কারো মতো হয়ে গেছেন, নাকি নিজেরই খারাপ রূপ হয়ে গেছেন?

অন্য কারো মতো: রেখানিজেরই খারাপ রূপ: সিঁড়ি

সিঁড়িতে চলাচল খাড়া: নিজের ধরনের ভেতরে ওঠা আর নামা। প্রত্যেকের একটা অভ্যস্ত ধাপ আছে, যার চারপাশে সে দোলে, আর সেই দোলার একটা পাল্লা। এক দিনে এক ধাপ নেমে ফিরে আসা যায়, কঠিন একটা বছরে পুরো একটা অবস্থা নেমে যাওয়া যায়, আর নিজের উপর বছরের পর বছর কাজ করে অভ্যস্ত ধাপটা তোলা যায়। বদলায় ধাপ, ধরন বদলায় না।

রেখা হল আড়াআড়ি চলাচল: তীর ধরে অন্য ধরনের দিকে সরে যাওয়া। রিসো আর হাডসন রেখাকে ধাপের সঙ্গে সরাসরি জুড়ে দেন। চাপের মধ্যে এক নম্বর ধরন চারের ছাপ নেয়, তবে সেই চারের, যে একই ধাপে দাঁড়িয়ে, আর হাতে জোর থাকলে সামর্থ্যে থাকা সাতের ছাপ। তীর বলে কার ছাপ ফুটে উঠছে, সিঁড়ি বলে কোন চেহারায়। কোন ধরনের তীর কোথায় যায়, তা তার নিজের পাতায় আছে, এখানে শুধু দুটি অক্ষের তফাত।

দুটোর মধ্যে গুলিয়ে যায় একটা শব্দের জন্য: দুই চলাচলকেই চাপ বলা হয়। একটা প্রশ্ন তাদের আলাদা করে দেয়: মানুষটা কি অন্য কারো মতো হয়ে গেছে, নাকি নিজেরই খারাপ রূপ হয়ে গেছে? প্রথমটা রেখার কথা, দ্বিতীয়টা সিঁড়ির। বেশিরভাগ সময় দুটোই একসঙ্গে ঘটে, আর দুটোই দেখতে পাওয়া কাজের: এক ধাপ নেমে যাওয়া সাধারণত চাপের বিন্দুর ছাপ নিয়ে আসে, আর ফিরে আসা বাড়ার বিন্দুর ছাপ নিয়ে।

03

ব্যক্তিত্ব পরীক্ষা কী মাপে

১০৮প্রশ্ন মিলে নয়টি ধাপের মধ্যে মোটামুটি তিনটি আলাদা করতে পারে

নম্বর আরও নিখুঁত দেখাত, কিন্তু সেটি বানানো হত

অবস্থা হল পাল্লার ঝোঁক, স্কেলের উপর একটা বিন্দু নয়

সামর্থ্যে আর কবলে, দুটোতেই একসঙ্গে সায় দেওয়া যায়

একই অবস্থার দ্বিতীয় সংকেত: কার ছাপ বেশি ফুটছে

ব্যক্তিত্ব পরীক্ষা অবস্থা দেখায়, ধাপ নয়, আর কারণটা অঙ্কের। নয়টি ধাপ ভরসা করে আলাদা করতে প্রশ্নমালার যে সূক্ষ্মতা দরকার, ১০৮টি প্রশ্নে তা নেই। এই দৈর্ঘ্যে মোটামুটি তিনটি আলাদা করা যায়। ধাপের নম্বর আরও নিখুঁত দেখাত, কিন্তু সেটি বানানো হত।

অবস্থা হল পাল্লার ঝোঁক, স্কেলের উপর একটা বিন্দু নয়। সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন আর কবল নিয়ে প্রশ্ন আলাদা জিনিস মাপে, আর একজন মানুষ দুটোতেই একসঙ্গে সায় দিতে পারেন। তাই “মাঝামাঝিতে” মানে অর্ধেক নয়, মানে কোনো পাশই ভারী হচ্ছে না। এর উপরে দেখা হয়, কার ছাপ বেশি ফুটছে, বাড়ার বিন্দুর নাকি চাপের বিন্দুর, আর সেটি একই অবস্থার দ্বিতীয় সংকেত। সূত্র, সীমানা আর অবস্থা কোথায় ভুল করে, সব পদ্ধতির পাতায়।

05

প্রশ্ন

ফলাফলে ধাপের নম্বর নেই কেন?

কারণ ১০৮টি প্রশ্নের প্রশ্নমালা নয়টির মধ্যে মোটামুটি তিনটি ধাপ আলাদা করতে পারে, আর অবস্থাই তার সূক্ষ্মতার সৎ একক। নম্বর আরও পাকা দেখাত, কিন্তু সেটি বানিয়ে দিতে হত। আপনার যদি অবস্থা নয়, ধাপ দরকার হয়, তার জায়গা আপনার ধরনের ধাপের পাতা: সেখানে নয়টি ধাপ লেখা আছে, আর নিজেরটা খুঁজে নেওয়া যায় দুটি সীমানা আর তিনটি প্রশ্ন দিয়ে।

এক ধাপ উপরে ওঠা যায়?

যায়, আর একসঙ্গে দুটি গতিতে। এখনকার ধাপ বদলায় দিনে দিনে: ভালো একটা সপ্তাহের পরে আপনি কবল থেকে এক ধাপ দূরে দাঁড়ান, খারাপ সপ্তাহের পরে এক ধাপ কাছে। অভ্যস্ত ধাপ, যেখানে আপনি ফিরে আসেন, বদলায় বছরে বছরে। উপরে ওঠা আপনাকে অন্য ধরন বানায় না: সামর্থ্যে থাকা চার নম্বর ধরন চারই থাকে, কেবল নিজের কলটা ব্যবহার করে, তার হুকুম মানে না।

বিকাশের ধাপ আর চাপের ও বাড়ার রেখা কি এক জিনিস?

না, এ দুটি আলাদা অক্ষ। ধাপ হল নিজের ধরনের ভেতরে ওঠানামা, রেখা হল তীর ধরে অন্য ধরনের দিকে সরে যাওয়া। রিসো আর হাডসন দুটোকে জুড়ে দেন: চাপের মধ্যে ধরন নিজের চাপের বিন্দুর ছাপ নেয় নিজেরই ধাপে। যাচাইয়ের প্রশ্ন: আপনি কি অন্য কারো মতো হয়ে গেছেন, নাকি নিজেরই খারাপ রূপ? প্রথমটা রেখা, দ্বিতীয়টা সিঁড়ি।

আমি যদি কবলে থাকি, ধরনটা কি ভুল ধরা হয়েছে?

না। সব ধাপেই ধরন একটাই, আর কবলে মানুষ নিজেই থাকে, কেবল হাতে বাড়তি কিছু থাকে না। বেশিরভাগ সময় হয় উল্টোটা: কবলে থাকলে বর্ণনায় নিজেকে চেনা কঠিন হয়, কারণ ধরনের বর্ণনা লেখা হয় মাঝামাঝি অবস্থা ধরে। ধরন নিয়ে সত্যিকারের সন্দেহ থাকলে যাচাই করুন তাগিদ আর উপধরন দিয়ে, অবস্থা দিয়ে নয়: অবস্থা বলে আপনি এখন কেমন আছেন, আপনি কে তা নয়।

অভ্যস্ত ধাপ জিনিসটা কী?

যে ধাপে আপনি ফিরে আসেন, যখন পরিস্থিতি আর কোনো দিকে টানে না। রিসো আর হাডসন একে বলেন ভারকেন্দ্র। তার চারপাশে একটা পাল্লা আছে: ভালো সপ্তাহে সামর্থ্যের দিকে এক-দুই ধাপ, খারাপ সপ্তাহে কবলের দিকে। ফলাফলের অবস্থা দেখায় ঝোঁক এখন কোন দিকে, আর অভ্যস্ত ধাপ দেখা যায় কেবল কয়েক মাসের হিসাবে।

নিজের ধরন, ডানা আর ধাপ জানুন

১০৮টি প্রশ্ন, ফলাফল সঙ্গে সঙ্গে

নিজের ধরন, ডানা আর ধাপ জানুন