ধারণা
এমবিটিআই আর Enneagram: দুটো আলাদা ফল নিয়ে কী করবেন
চারটে অক্ষর সম্ভবত আগে থেকেই আপনার হাতে ছিল, এখন তার পাশে একটা সংখ্যাও এসেছে। প্রথম ইচ্ছেটাই হয় দুটোকে এক লাইনে বসিয়ে দেখা, মেলে কি না। মিলবে না, আর দোষটা দুটো প্রশ্নমালার কোনোটার নয়, চেষ্টাটারই। এই পাতায়: প্রতিটি মডেল ঠিক কী মাপে, দুটোর মধ্যে অনুবাদের ছক কেন নেই, বড় নমুনায় তবু সত্যিই কী দেখা যায়, আর দুটো ফল যখন ঝগড়া করছে বলে মনে হয় তখন কী করা যায়।
01
প্রতিটি ছক কী মাপে
16টি কোড, চারটি বাছাই থেকেকীভাবে
- শক্তি আসে কোথা থেকে
- তথ্য নেয় কীভাবে
- সিদ্ধান্ত নেয় কী দিয়ে
- পরিকল্পনা সামলায় কীভাবে
9টি তাড়না, সঙ্গে একটি খাড়া অক্ষকেন
এমবিটিআই এসেছে ইয়ুংয়ের ধরন-তত্ত্ব থেকে, যাকে ক্যাথরিন ব্রিগস আর ইসাবেল মায়ার্স একটা প্রশ্নমালায় বদলে নেন। সে মাপে চারটে পছন্দ: মানুষ শক্তি পায় কোথা থেকে, তথ্য নেয় কীভাবে, সিদ্ধান্ত নেয় কীসের ভিত্তিতে, আর পরিকল্পনার সঙ্গে চলে কেমন করে। প্রতিটি পছন্দ দুটোর মধ্যে একটা বেছে নেওয়া, আর চারটে বাছাই মিলে ষোলোটা কোড। অক্ষরগুলো “কীভাবে”-র উত্তর দেয়: কাজ করে কীভাবে, ঠিক করে কীভাবে, দলের মধ্যে থাকে কীভাবে। এসব সে করে কেন, এমবিটিআই প্রশ্নই করে না।
এননিয়াগ্রাম কাটে অন্য জায়গায়। তার নয়টা ধরন আলাদা হয় পদ্ধতিতে নয়, কারণে: মানুষ বাঁচিয়ে রাখে কী, সবচেয়ে ভয় পায় কীসে, আর কেউ না দেখলে তার মন যায় কোথায়। এক ধরনের দুজন মানুষ কাজ আর মেলামেশা একেবারে আলাদাভাবে করতে পারে, অথচ ভেতরে সমাধান করছে একই সমস্যা। ধরনের উপরে মডেলটা রাখে ডানা, সহজাত প্রবৃত্তি আর বিকাশের ধাপ, মানে তার একটা খাড়া অক্ষ আছে: একই ধরন সামর্থ্যের সময়ে আর চাপের সময়ে দুজন আলাদা মানুষের মতো দেখায়। এমবিটিআই-এ এমন কোনো অক্ষ নেই, অক্ষরগুলো নকশা অনুযায়ীই স্থির।
একটা তফাত পাটিগণিতেরও। ষোলোটা কোড হল চারটে স্বাধীন ভাগের গুণফল, দুইয়ের চতুর্থ ঘাত। নয়টা ধরন কোনো অক্ষেই খোলে না: এমন কোনো মাপকাঠির সেট কেউ পায়নি, যার মিশেল থেকে এই নয়টা বেরিয়ে আসত। তাই “INFP কোন এননিয়াগ্রাম ধরন” প্রশ্নটা গড়নে ঠিক “নীল রঙের ওজন কত” প্রশ্নের মতো। দুটো মডেলই মানুষকে বর্ণনা করে, কিন্তু দুই দিক থেকে, আর তাদের কোনো সাধারণ ফিতে নেই।
02
মিলিয়ে দেখার ছক কেন কাজ করে না
- 7
- টি গবেষণা ২০২১-এর পর্যালোচনায়, ছাপা হয়েছে একটিই
- 964
- জন ১৯৯৮-এর জরিপে
- 19
- জন তাদের মধ্যে ছয় নম্বর ধরনের
| # | ১৯৯৬-এর বই | জরিপের ছক |
|---|---|---|
| 8 | EN | ESTJ · ENTJ |
| 9 | IS | ISFP · INFP |
| 6 | IF | 4 9 |
আবার দিলে এমবিটিআই-এর অন্য কোড পান
ক্ষেত্রে এননিয়াগ্রামের দুটো প্রশ্নমালা একই ধরন দেয়
এননিয়াগ্রাম আর এমবিটিআই মানুষকে দুটো আলাদা রেখায় কাটে, তাই দুটোর মধ্যে বাঁধা কোনো মিল নেই, আর আমরা সেটা বানিয়েও দিই না। এননিয়াগ্রাম দেখে ভেতরের কল আর ভয়, এমবিটিআই দেখে তথ্য নেওয়ার আর সিদ্ধান্তের পছন্দ। ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়ানো মিলিয়ে দেখার ছকগুলো মাপ থেকে নয়, অনুমান থেকে তৈরি, আর নিজেদের মধ্যেও মেলে না। কারণ তিনটে, আর যে কোনো একটাই যথেষ্ট হত।
প্রথমটা: মাপজোক প্রায় নেই, আর যা আছে তা অন্য প্রশ্নের উত্তর। হুক আর সহকর্মীদের ২০২১ সালের পর্যালোচনা পেয়েছিল মাত্র সাতটা গবেষণা, যেখানে এননিয়াগ্রাম ধরন আর এমবিটিআই পাশাপাশি, আর প্রায় সবই নব্বইয়ের দশকের অপ্রকাশিত অভিসন্দর্ভ। সবচেয়ে বড়টা, ১৯৯৮ সালের জরিপ, ধরন-বিশেষজ্ঞদের এক সংঘের ৯৬৪ জন সদস্যকে নিয়ে: ধরন ঠিক হয়েছিল ঘরে বানানো বাছাই-তালিকায়, যার নির্ভরযোগ্যতা কখনো যাচাই হয়নি, আর ছয় নম্বর ধরন সেখানে মোটে উনিশ জন। বারবার মেলে কেবল আলাদা অক্ষরের সঙ্গে যোগ, সবার আগে বহির্মুখিতা আর অন্তর্মুখিতা। ধরনে-ধরনে মিল একটা গবেষণাও দেয় না।
দ্বিতীয়টা: ছকগুলো ঝগড়া করে ঠিক সেখানে, যেখানে মেলার কথা ছিল। রিসো আর হাডসন ১৯৯৬ সালের বইয়ে ইয়ুংয়ের আটটা ধরনের উপর নিজেদের ছক দেন, আর নিজেরাই লেখেন যে এক-এক মিল নাও থাকতে পারে। তাঁদের ছকে আট নম্বর ধরন বহির্মুখী স্বজ্ঞাবান, অথচ জরিপের প্রতিটি ছকে আট হল ESTJ আর ENTJ। নয়কে তাঁরা লিখেছেন অন্তর্মুখী সংবেদনে, জরিপ তাকে দেয় ISFP আর INFP। ছয়কে তাঁরা দেখেন অন্তর্মুখী অনুভূতিতে, মানে যেখানে জরিপ বসায় চার আর নয়কে। এটা একটার হাতে আরেকটার শুধরে যাওয়া নয়, এক প্রশ্নের আলাদা উত্তর।
তৃতীয়টা: দুটো যন্ত্রই কাঁপে, আর কাঁপা যন্ত্রের মধ্যে অনুবাদ স্থির থাকে না। এমবিটিআই-এর প্রকাশকের নিজের হিসাবেই প্রায় অর্ধেক মানুষ আবার উত্তর দিলে অন্য কোড পান, কারণ একটানা মাপকাঠি মাঝখান থেকে কাটা হয়। এননিয়াগ্রামের দুটো প্রধান প্রশ্নমালা এক মানুষকে এক ধরন দেয় একশোতে ৪২ বার। তখন “চার মানে INFP” ঘরটার মানে “এক কাঁপা নমুনার বেশিরভাগ”, আর পাশের নমুনায় বেশিরভাগ অন্য।
03
তবু কী দেখা যায়
| # | E/I | S/N | T/F | J/P |
|---|---|---|---|---|
| 1 | J | |||
| 2 | ||||
| 3 | ||||
| 4 | F | |||
| 5 | I6/7 | T7/7 | ||
| 6 | ||||
| 7 | E | |||
| 8 | ||||
| 9 | একটাও স্থির অক্ষর নেই | |||
কয়েকটি গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া অক্ষর
তবু বড় নমুনায় কিছু জিনিস স্থিরভাবে দেখা যায়, আর তা নিয়ে চুপ থাকা ছক আঁকার মতোই অসততা হত। পাঁচ নম্বর ধরন সবচেয়ে বেশি বার অন্তর্মুখী আর “ভাবনার” ধরন হয়ে বেরোয়: ২০২১ সালের পর্যালোচনায় অন্তর্মুখিতার সঙ্গে যোগটা সাতটার মধ্যে ছয়টা গবেষণা ধরেছে, ভাবনার সঙ্গে যোগটা সাতটাই, আর গোটা বিষয়ে এটাই সবচেয়ে টেকসই ফল। সাত নম্বর ধরন একই নির্ভরতায় বহির্মুখিতার দিকে যায়, চার অনুভূতির দিকে, এক বিচারের দিকে। নয়ের জন্য একটাও স্থির অক্ষর মেলেনি: ষোলোটা কোডেই সে প্রায় যেমন-তেমন ছড়িয়ে থাকে।
এটা পড়তে হয় এক দিকে আর একটা শর্ত সঙ্গে নিয়ে। এক দিকে: এননিয়াগ্রাম ধরন জানা থাকলে অক্ষর নিয়ে প্রত্যাশা সামান্য ছোট করা যায়; অক্ষর জানা থাকলে এননিয়াগ্রাম ধরন প্রায় ছোট হয় না, কারণ প্রতিটি কোডের নিচে থাকে তিন-চারটে ধরন, আর প্রত্যেকটার ভাগ চোখে পড়ার মতো। শর্তটা: কথা হচ্ছে ভাগ নিয়ে, নিয়ম নিয়ে নয়। ১৯৯৮ সালের জরিপে দুই নম্বর ধরন একসঙ্গে এমবিটিআই-এর ছয়টা কোডে তাৎপর্যপূর্ণভাবে হাজির ছিল। অন্তর্মুখী সাত আর বহির্মুখী পাঁচ বিরল নয়, ধরন চেনার ভুলও নয়, বরং এর স্বাভাবিক ফল যে অক্ষর মাপে আচরণ আর ধরন মাপে কারণ। যে মিলটা দেখা যায়, সেটা উপরিতলে: শক্তির দিকটা দুটো মডেলই সমান করে দেখে, আর ধরনের কেন্দ্রটা কোনো অক্ষরেই লেখা যায় না।
04
দুটো ছক একসঙ্গে কীভাবে রাখবেন
- অক্ষর থেকে ধরন বের হয় না
- ধরনের সঙ্গে মেলাতে অক্ষর বাঁকানো হয় না
দুটোকে দুটো প্রশ্নের দুটো উত্তর হিসেবে রাখুন। অক্ষরগুলো বলে আপনি কাজ করেন কীভাবে: শক্তি নেন কোথা থেকে, তথ্য জোগাড় করেন কীভাবে, ঠিক করেন কীসের ভিত্তিতে। এননিয়াগ্রাম ধরন বলে এর মধ্যে আপনি আগলে রাখছেন কী, আর শক্তি ফুরোলে আপনাকে টেনে নিয়ে যায় কোথায়। প্রথমটা কাজে লাগে কাজের ছাঁদ বাছতে আর দলের সঙ্গে কথা বলতে, দ্বিতীয়টা তখন, যখন একই দৃশ্য তৃতীয়বার ফিরে আসছে আর বুঝতে চান কেন।
ফল দুটো যখন ঝগড়া করছে বলে মনে হয়, ধরুন অক্ষর বলছে বহির্মুখিতা আর এননিয়াগ্রামে আপনি পাঁচ, তখন ঝগড়া নেই: আপনি মিশুকে পাঁচ, আর সেটা গড়ন, বিরোধ নয়। এননিয়াগ্রাম ধরন যাচাই করতে হয় কারণ দিয়ে, আচরণ দিয়ে নয়, আর অক্ষর দিয়ে তো নয়ই। ধরনের বর্ণনায় নিজেকে না চিনলে আগে উপধরন আর ধাপটা দেখুন, বাইরের ছবিটা ওরাই সবচেয়ে বেশি বদলায়, আর ধরন নিয়ে সন্দেহ তার পরে।
দুটো নিয়ম, যা সময় বাঁচাবে। অক্ষর থেকে এননিয়াগ্রাম ধরন বের করবেন না: “INFP সাধারণত চার” কথাটা ফোরামের পরিসংখ্যান, আপনার সম্বন্ধে তথ্য নয়। আর অক্ষরকে ধরনের মাপে বাঁকাবেন না: অন্তর্মুখী আট স্রেফ এমন একজন আট, যে অন্তর্মুখী। দুটো মডেলের কোনোটারই গবেষণার ভিত বিগ ফাইভের কাছাকাছি নয়, দুটোই নিজেকে দেখার ভাষা হিসেবে কাজের, আর কোনোটাই অন্যটার উপর রায় দেয় না।
05
প্রশ্ন
INFP-র এননিয়াগ্রাম ধরন কোনটা?
আলাদা করে কোনো একটা নয়। জরিপের নমুনায় এই কোডের নিচে অন্যদের চেয়ে বেশি থাকে চার আর নয় নম্বর ধরন, কিন্তু বাকিদের ভাগও চোখে পড়ার মতো আর নির্ভর করে নমুনা কোথা থেকে নেওয়া তার উপর। কোড বলে মানুষ তথ্য নেয় আর ঠিক করে কীভাবে, ধরন বলে তাকে চালায় কী, আর প্রথমটা থেকে দ্বিতীয়টা বেরোয় না। ধরন জানা যায় কেবল কারণ নিয়ে প্রশ্ন থেকে, ছকের অক্ষর থেকে নয়।
একই এননিয়াগ্রাম ধরনের এমবিটিআই কি আলাদা হতে পারে?
ঠিক এভাবেই গড়া। ১৯৯৮ সালের জরিপে দুই নম্বর ধরন ষোলোটার মধ্যে ছয়টা কোডে তাৎপর্যপূর্ণভাবে ছিল, সাত চারটায়, আর তাও এমন ধরন-বিশেষজ্ঞদের মধ্যে, যাঁরা নিজের কোড নিশ্চিত জানেন। ধরন ঠিক করে কারণ, অক্ষর ঠিক করে পদ্ধতি, আর একই কারণ চলে নানা পদ্ধতিতে। আলাদা অক্ষরের দুজন সাত একে অন্যের সঙ্গে যতটা মেলে, এক অক্ষরের একজন সাত আর একজন পাঁচ ততটা মেলে না।
কোনটা বেশি নির্ভুল, এমবিটিআই না এননিয়াগ্রাম?
দুটোর প্রশ্ন আলাদা, আর নির্ভুলতা তুলনা করা মানে ফিতের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লার তুলনা। দুটোর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে যা জানা আছে তা সুখকর নয়: প্রায় অর্ধেক মানুষ আবার উত্তর দিলে এমবিটিআই-এর অন্য কোড পান, আর এননিয়াগ্রামের দুটো প্রশ্নমালা একশো জনের মধ্যে ৪২ জনের ধরনে একমত হয়। বিগ ফাইভের সঙ্গে তুলনীয় ভিত কোনোটার নেই, আর রায় হিসেবে কোনোটাই চলে না।
তাহলে ইন্টারনেটে মিলিয়ে দেখার এত ছক এল কোথা থেকে?
দুই শব্দের খোঁজে ভিড় টানার সবচেয়ে সস্তা উপায় একটা ছক। প্রায় সবই বানানো ফোরামের নিজের-কথা থেকে, যেখানে অন্তর্মুখী স্বজ্ঞাবানরা জনসংখ্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি, নয়তো একে অন্যের থেকে টুকে নেওয়া। যাচাইটা সহজ: তিনটে ছক পাশাপাশি রাখুন আর আট, ছয় আর নয় নম্বর ধরনের দিকে তাকান। তারা আলাদা হয়ে যাবে, আর সেটাই উত্তর, সেখানে কিছু মাপা হয়েছিল কি না।
দুটো প্রশ্নমালাই কি পূরণ করতে হবে?
দুটো উত্তরই দরকার হলে হ্যাঁ, যে কোনো ক্রমে। অক্ষরগুলো কাজে লাগে সহকর্মীদের বোঝাতে, আপনার সঙ্গে কাজ করতে হয় কীভাবে। ডানা, উপধরন আর ধাপসহ ধরনটা দরকার বোঝার জন্য, চাপে আপনার কী হয় আর চাপ নামলে আপনি ফেরেন কোথায়। একটা ফল অন্যটার জায়গা নেয় না, তাকে যাচাইও করে না।